কুমিল্লার হোমনায় শিক্ষকের নামে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক হত্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাধারণ জনগন।
রোববার(২০ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে হোমনা – মুরাদনগর সড়কের কাশিপুর বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা
ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষকের মুক্তির দাবীতে বিভিন্ন স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবী তাদের স্যারকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এ সময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা, এ সময় বক্তারা বলেন, মো. আকবর হোসেন অত্যন্ত জনপ্রিয় শিক্ষক। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন।
গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার সফল আন্দোলনে স্বৈরাচারি সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের দোসর ও তাদের অনুসারী সন্ত্রাসী, মাদকসেবী, মাস্তান, চাঁদাবাজ, ছাত্র জনতার বিপ্লবকে কালিমা লেপন করতে নানাভাবে হয়রানি শুরু করেছে। এতে ছাত্র জনতার বিশাল অর্জন ও প্রত্যাশা ম্লান হচ্ছে।
জানাগেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনে নিহত সাগর হত্যার ঘটনায় বাছিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানী সুত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়েদুল কাদেরসহ হোমনা উপজেলার কাশিপুর হাসেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আকবর হোসেন ও তার চাচাতো ভাই,জিয়া, বাবুল ও স্বপনকে ও আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হোমনা উপজেলার কালিপুর নিজ গ্রাম থেকে আকবর হোসেন সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে হোমনা সেনা ক্যাম্পের সেনাবাহিনী। পরে তাকে সূত্রাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরে বলেন, সহকারি শিক্ষক আকবর হোসেন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মামলার উল্লেখিত ঘটনার সময় সে এলাকাতেই ছিলেন। কিন্তু মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তাদের পরিবারের চারজনের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে আকবর হোসেনের পরিবারের দাবি স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার ব্যক্তিগত আক্রেশ মেটাতে তার যোগসাজসে তাদেরকে এই মামলায় আসামী করা হয়েছে। তারা কোন ভাবে এ ঘটনার সাথে জড়িত না। আমরা এই হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবী করছি এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিরাপরাধ ব্যক্তিদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো ছালামত উল্লাহ,সহকারি প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল,সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার সরকার, সহকারি শিক্ষক মো.শাহজালাল,মো. জহিরুল ইসলাম,ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পল্লিচিকিৎসক মোখলেছুর রহমান, শিক্ষার্থী, আল মামুন ও আনিমা আক্তার প্রমুখ।




















