০৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবাকে জবাই করে হত্যার সময় ছেলে ধরেন মাথা

টাকার জন্য বন্ধুদের নিয়ে বাবাকে জবাই করে হত্যা করেন ছেলে। হত্যার সময় ধান ক্ষেতে বাবার মাথা চেপে ধরেন ছেলে সোহেল মিয়া। গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে বাবাকে জবাই করে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আটক সোহেল মিয়া।
নিহত নিবু মিয়া (৬৫) জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার মৃত সুন্দর আলী মুন্সির ছেলে।
এ ঘটনায় আটক আসামিরা হলেন, নিহত নিবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (২৪), তার বন্ধু ইলেকট্রিশিয়ান বাবুল মিয়া (৩২), কসাই নজরুল ইসলাম (৪৫) ও রাজমিস্ত্রী সুমন মিয়া (২৬)।
আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, গত (২০আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ধান ক্ষেত হতে নিহত নিবু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে আব্দুর রহমান হৃদয় (২৮) বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশের একটি দল প্রযুক্তিগত ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাজিতপুর উপজেলার দক্ষিন পিরিজপুর বাজার এলাকার আ. হাই মেম্বারের হোটেল থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত আসামি মো. বাবুল মিয়াকে আটক করে। আটক আসামি নিজেই স্বীকারোক্তি দেয় ভিকটিমের সাথে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা খুনি গণ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। আসামি মো. বাবুল মিয়া নিজেকে জড়িয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে সাথে জড়িত ভিকটিমের ছোট ছেলে সোহেল মিয়াসহ আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ১বছর আগে ভিকটিম নিবু মিয়া জমি বিক্রি করেন ২১ লাখ টাকা। সেই টাকা হতে ৬ লাখ টাকা দিয়ে তার ছোট ছেলে সোহেল মিয়াকে বিদেশে পাঠায়। কিন্তু সোহেল বিদেশে থাকতে পারেনি। দেশে চলে আসলে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন তিনি। সংসার চালাতে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পুরাতন অটোরিকশা কিনেন সোহেল। কিন্তু সোহেল তার বাবার কাছে জমি বিক্রি আরও যে টাকা ছিলো তা তাকে দেয়ার জন্য বলে। এই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তাই ভিকটিম নিবু মিয়া টাকাগুলো তার সাথে সাথে রাখতেন। ঘটনার দিন তার বাবার কাছ থেকে টাকা গুলো নেয়ার জন্যই সে তার বন্ধুদের নিয়ে তার বাবা নিবু মিয়াকে জবাই করে হত্যা করেন।এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আটক বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন এবং টাকার জন্য ভিকটিম নিবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া তাদেরকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও জবানবন্দিতে জানায় বাবুল।
জনপ্রিয় সংবাদ

বাবাকে জবাই করে হত্যার সময় ছেলে ধরেন মাথা

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
টাকার জন্য বন্ধুদের নিয়ে বাবাকে জবাই করে হত্যা করেন ছেলে। হত্যার সময় ধান ক্ষেতে বাবার মাথা চেপে ধরেন ছেলে সোহেল মিয়া। গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে বাবাকে জবাই করে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আটক সোহেল মিয়া।
নিহত নিবু মিয়া (৬৫) জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার মৃত সুন্দর আলী মুন্সির ছেলে।
এ ঘটনায় আটক আসামিরা হলেন, নিহত নিবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (২৪), তার বন্ধু ইলেকট্রিশিয়ান বাবুল মিয়া (৩২), কসাই নজরুল ইসলাম (৪৫) ও রাজমিস্ত্রী সুমন মিয়া (২৬)।
আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, গত (২০আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ধান ক্ষেত হতে নিহত নিবু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নিহতের অপর ছেলে আব্দুর রহমান হৃদয় (২৮) বাদী হয়ে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশের একটি দল প্রযুক্তিগত ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাজিতপুর উপজেলার দক্ষিন পিরিজপুর বাজার এলাকার আ. হাই মেম্বারের হোটেল থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত আসামি মো. বাবুল মিয়াকে আটক করে। আটক আসামি নিজেই স্বীকারোক্তি দেয় ভিকটিমের সাথে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা খুনি গণ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। আসামি মো. বাবুল মিয়া নিজেকে জড়িয়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে সাথে জড়িত ভিকটিমের ছোট ছেলে সোহেল মিয়াসহ আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ১বছর আগে ভিকটিম নিবু মিয়া জমি বিক্রি করেন ২১ লাখ টাকা। সেই টাকা হতে ৬ লাখ টাকা দিয়ে তার ছোট ছেলে সোহেল মিয়াকে বিদেশে পাঠায়। কিন্তু সোহেল বিদেশে থাকতে পারেনি। দেশে চলে আসলে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন তিনি। সংসার চালাতে এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পুরাতন অটোরিকশা কিনেন সোহেল। কিন্তু সোহেল তার বাবার কাছে জমি বিক্রি আরও যে টাকা ছিলো তা তাকে দেয়ার জন্য বলে। এই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। তাই ভিকটিম নিবু মিয়া টাকাগুলো তার সাথে সাথে রাখতেন। ঘটনার দিন তার বাবার কাছ থেকে টাকা গুলো নেয়ার জন্যই সে তার বন্ধুদের নিয়ে তার বাবা নিবু মিয়াকে জবাই করে হত্যা করেন।এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আটক বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন এবং টাকার জন্য ভিকটিম নিবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া তাদেরকে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলেও জবানবন্দিতে জানায় বাবুল।