সরকার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানিকগঞ্জের বৈধ-অবৈধ ইটভাটাগুলোতে নিয়মিত কাঠ, গাড়ির টায়ার পোড়ানো হচ্ছে। এ থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের অধিকাংশ ইটভাটায় আগুন দেওয়ায় নামে ভাটার মালিকরা শত শত মণ কাঠ, গাড়ীর টাওয়ায় ও ক্ষতিকর প্লাস্টিক স্তুপ করে রেখেছে। এছাড়া, কয়লার সাথে কাঠের গুড়িও মেশানো হচ্ছে। পরে সেগুলো ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে।
ডায়না ব্রিকসের ম্যানেজার সরুজ আহমেদ বলেন, শুধু আমাদের ভাটায় না, প্রত্যেক ভাটায় আগুন দেওয়ার সময় কাঠ ও গাড়ীর টায়ার লাগে। আমাদের ভাটায় আগুন দেওয়ার জন্য ২০ মণ কাঠ লাগে। তবে, ভাটার পাশে স্তূপ করে শত শত মণ কাঠ কেন?- এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি।
অপরদিকে, একই চিত্র দেখা গেছে সততা ব্রিকসে। সেখানে কর্মরত ম্যানেজার স্বপন কুমার বণিক জানান, বৃষ্টি বা আবহাওয়া খারাপ থাকলে কাঠ ও টায়ার ব্যবহার করতে হয়। তাই আমরা প্রস্তুতি হিসেবে এগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছি।
হরিরামপুর উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের কৃষক সোহরাবের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে আমার জমিতে আগের মতো ফসল হয় না। এমনকি ভাটার তাপ ফসল নষ্ট করে দেয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্যই আমাদের এই অবস্থা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলার মিতরা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, প্রতিবছরই আমাদের এই এলাকায় অবৈধ ভাটাগুলো প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইট পোড়ায়। সেগুলোতে আবার লোক দেখানো জরিমানাও করে প্রশাসন। পরিবেশের স্বার্থে অবৈধ ভাটাগুলোকে ইট পোড়ানোর আগেই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মানবেন্দ্র সরকার বলেন, ভাটার কালো ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলী জানান, জেলায় ১১৫টি ভাটার মধ্যে ১৫টি অবৈধ। তিনি বলেন, অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ড. মো. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাঠ বা টায়ার পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।






















