০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে ভাঙচুর আসবাবপত্র ফেললো পুকুরে, বাড়ি ছাড়া পরিবার

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় গভীর রাতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আসবাবপত্র পুকুরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এরপরে থেকে ঘর ছাড়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এঘটনায় একজন আহত হয়েছে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২ টা দিকে উপজেলার মুন্সী নাংলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মেলান্দহ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গতকাল রাত ১২ টায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রশিদ ও রসুল মিয়ার বাড়িতে হামলা করে জাকির হোসেনের লোকজন। এসময় আতংক সৃষ্টি করতে ককটেল বিস্ফোরণ করে তাঁরা। পরে রশিদকে বাড়ি থেকে বের করে হত্যার উদ্দ্যেশে গুরুতর আহত করে। এসময় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে অপরদিকে আব্দুর রশিদ ও রসুল মিয়ার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও আসবাবপত্র তছনছ করে পুকুরে ভাসিয়ে দেয়। থানার অভিযোগপত্রে ১০ জনের না উল্লেখ করেও ১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে।

এঘটনায় স্থানীয়রা বলছেন, ‘রাত ১২ টা হঠাৎ ডাক চিৎকার শোনা যায়। এসময় ভাঙচুরের শব্দ শোনা যায়। তবে ঘরবাড়ি কে বা কারা ভাঙচুর করছে তা দেখিনি। সকালে দেখি ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। সকাল বেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসেছিল।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন,’দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল প্রতিপক্ষ জাকির হোসেনের লোকজনের সঙ্গে। সেই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এসময় রশিদকে হত্যা করার জন্য তাঁরা হামলা করে। ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। ভেঙে জিনিসপত্র সবকিছুই পুকুরে ফেলে দেন। তাঁর পর থেকে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে পড়ছে।

ভুক্তভোগী রশিদের মা রওশনারা বেগম বলেন,’আমার ছেলেকে মারার জন্য বাড়িতে হামলা করে। আমার ছেলেকে প্রায় মেরে ফেলেছিল। ঘরবাড়ি ঘরবাড়ি জিনিসপত্র সবকিছুই পুকুর ফেলে দিয়েছে। রাত থেকে আমারা আর বাড়িতে যাতে পারিনি। রাস্তার পাশে বসে আছি। আমাদের কোন খাওয়া-দাওয়া নেই। ছেলের হাত কেটে দিয়েছে ছেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এ বিষয়ে আহত আব্দুর রশিদের বোন পারভীন আক্তার বলেন, আমাদের কেনা জায়গায় তারা দখলে যেতে দেয়না। এর আগেও একবার গিয়েছিলাম তখনও ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। গতরাতে নতুন করে ৭-৮জন মিলে আবারও সব ভেঙে ফেলে। এসময় আমার ভাই বাঁধা দিতে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। আমরা এখন বাড়ি ছাড়া। তারা হুমকি দিচ্ছে বাড়িতে যে যাবে তাকেই মেরে ফেলবে।

অভিযুক্তরা বলেন,’কবরস্থানের জায়গা দখল করার জন্য তারা নিজেরাই রাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ভাঙচুর করে সমাজের লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। নিজেরা নিজেরাই ঘর বাড়ি ভাঙচুর করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এবিষয়ে মেলান্দহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল হাসান হিমন বলেন,’রাতে একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় থানায় আসে। এরপর আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখনো অভিযোগ হয়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর রাতে ভাঙচুর আসবাবপত্র ফেললো পুকুরে, বাড়ি ছাড়া পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় গভীর রাতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে আসবাবপত্র পুকুরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এরপরে থেকে ঘর ছাড়া হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। এঘটনায় একজন আহত হয়েছে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২ টা দিকে উপজেলার মুন্সী নাংলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মেলান্দহ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গতকাল রাত ১২ টায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রশিদ ও রসুল মিয়ার বাড়িতে হামলা করে জাকির হোসেনের লোকজন। এসময় আতংক সৃষ্টি করতে ককটেল বিস্ফোরণ করে তাঁরা। পরে রশিদকে বাড়ি থেকে বের করে হত্যার উদ্দ্যেশে গুরুতর আহত করে। এসময় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে অপরদিকে আব্দুর রশিদ ও রসুল মিয়ার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও আসবাবপত্র তছনছ করে পুকুরে ভাসিয়ে দেয়। থানার অভিযোগপত্রে ১০ জনের না উল্লেখ করেও ১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে।

এঘটনায় স্থানীয়রা বলছেন, ‘রাত ১২ টা হঠাৎ ডাক চিৎকার শোনা যায়। এসময় ভাঙচুরের শব্দ শোনা যায়। তবে ঘরবাড়ি কে বা কারা ভাঙচুর করছে তা দেখিনি। সকালে দেখি ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। সকাল বেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসেছিল।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন,’দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল প্রতিপক্ষ জাকির হোসেনের লোকজনের সঙ্গে। সেই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। এসময় রশিদকে হত্যা করার জন্য তাঁরা হামলা করে। ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে। ভেঙে জিনিসপত্র সবকিছুই পুকুরে ফেলে দেন। তাঁর পর থেকে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে পড়ছে।

ভুক্তভোগী রশিদের মা রওশনারা বেগম বলেন,’আমার ছেলেকে মারার জন্য বাড়িতে হামলা করে। আমার ছেলেকে প্রায় মেরে ফেলেছিল। ঘরবাড়ি ঘরবাড়ি জিনিসপত্র সবকিছুই পুকুর ফেলে দিয়েছে। রাত থেকে আমারা আর বাড়িতে যাতে পারিনি। রাস্তার পাশে বসে আছি। আমাদের কোন খাওয়া-দাওয়া নেই। ছেলের হাত কেটে দিয়েছে ছেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এ বিষয়ে আহত আব্দুর রশিদের বোন পারভীন আক্তার বলেন, আমাদের কেনা জায়গায় তারা দখলে যেতে দেয়না। এর আগেও একবার গিয়েছিলাম তখনও ঘরবাড়ি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। গতরাতে নতুন করে ৭-৮জন মিলে আবারও সব ভেঙে ফেলে। এসময় আমার ভাই বাঁধা দিতে গেলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। আমরা এখন বাড়ি ছাড়া। তারা হুমকি দিচ্ছে বাড়িতে যে যাবে তাকেই মেরে ফেলবে।

অভিযুক্তরা বলেন,’কবরস্থানের জায়গা দখল করার জন্য তারা নিজেরাই রাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ভাঙচুর করে সমাজের লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। নিজেরা নিজেরাই ঘর বাড়ি ভাঙচুর করে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এবিষয়ে মেলান্দহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল হাসান হিমন বলেন,’রাতে একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় থানায় আসে। এরপর আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখনো অভিযোগ হয়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।