০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িঘর তল্লাশি-ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতারের হুমকি

বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের পেং হাজারকি নগরপাড়া গ্রামের মৃত কামাল শেখ এর ছেলে হাবিবুর রহমান শেখ (৬৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের খন্দকার পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রহমতুল্লাহ ওরফে রফিকুল মাষ্টার (৫০), রফিকুল ইসলামের ছেলে সাদিক হাসান (২৬), মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মঞ্জু মিয়া (৫০) সহ ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর ছেলে রাসেল শেখ (২০) গত ১ লা ডিসেম্বর সকাল ১১টার সময় বড় ভাই রুবেল শেখ এর বিবাহের মার্কেট করার জন্য শেরপুর মার্কেটের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ঐদিন হতে অদ্যবধি পর্যন্ত সে আর বাড়ীতে ফিরে নাই। সে ফেরৎ না আসায় নিখোঁজ হওয়ার কারণে বাদী আশে-পাশের প্রতিবেশীদের ন্যায় বিবাদীগনের বাড়িতেও খোঁজখবর নিতে গেলে বিবাদীদের সহিত সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ১০ই ডিসেম্বর রাত্রি ৮টার সময় বিবাদীগনসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ সশস্ত্র সন্ত্রাসী টাইপের ব্যক্তি হাতে লাঠি সোঠা ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতবাড়ীতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

এসময় বাদীর বসতবাড়ীর যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ঘরের আলমারী ভেঙ্গে নগদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩ ভরি ওজনের স্বণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে বাদী ও তার ছেলে/ছেলের স্ত্রীরা বাঁধা দিলে বিবাদীদের হাতে থাকা লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথারী ভাবে বেধড়ক মারপিট করে ছিলা ফুলা জখম করে। এছাড়াও বিবাদীরা বাদীর বাড়ির মহিলাদেরকে শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সাথে তার ছেলের স্ত্রী জিম বেগমের কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু বাচ্চাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। পরবর্তীতে এলাকার স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীগন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান করে চলে যায়।

 

এতে ভুক্তভোগী বাদী জানায়, গত ১লা ডিসেম্বর আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর বিবাদীগনকে জিজ্ঞাসাবাদ করাকে কেন্দ্র করে এই অতর্কিত হামলা চালিয়ে লুটপাট-ভাংচুর করে।  ৪ঠা ডিসেম্বর বিবাদী রহমতুল্লাহ ওরফে রফিকুল মাষ্টারের জৈনক মেয়ে বগুড়া সদর থানার ৯নং ওয়ার্ডের সূত্রাপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এবিষয়ে তিনি গত ৪ঠা ডিসেম্বরে বগুড়া সদর থানায় কাউকে কোন প্রকার আসামি বা বিবাদী না করে ৩৭১নং একটি হারানো সাধারন ডাইরি (জিডি) দায়ের করে। সেটাকে কেন্দ্র করে বগুড়া সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহাগ বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন কোন প্রকার বিবাদী বা আসামি না হওয়া সত্ত্বেও সার্চ ওয়ারেন্ট এবং কোন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই অবৈধ ভাবে নিজ ক্ষমতার বলে নানা রকম ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় বাদী ও তার পরিবারের লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছে বলে জানান তিনি।

 

অন্যদিকে অত্র এলাকার স্থানীয় ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি মেম্বার ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান জানায়,উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়া সদর থানার স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহাগ বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন কোন প্রকার বিবাদী বা আসামি না হওয়া সত্ত্বেও সার্চ ওয়ারেন্ট এবং কোন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই অবৈধ ভাবে নিজ ক্ষমতার বলে নানা রকম ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যায়। সেই সাথে অত্র ওয়ার্ডের জন প্রতিনিধি হিসাবে তাদেরকেও ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যায় বলে জানান তারা।

 

এবিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানায় যে,সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া কোন বাড়িঘর তল্লাশি এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা হয়রানি করার সুযোগ নেই। তবে এধরনের কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে থাকলে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত বিধি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িঘর তল্লাশি-ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতারের হুমকি

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের পেং হাজারকি নগরপাড়া গ্রামের মৃত কামাল শেখ এর ছেলে হাবিবুর রহমান শেখ (৬৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের খন্দকার পাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রহমতুল্লাহ ওরফে রফিকুল মাষ্টার (৫০), রফিকুল ইসলামের ছেলে সাদিক হাসান (২৬), মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মঞ্জু মিয়া (৫০) সহ ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা বিবাদী করে নন্দীগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর ছেলে রাসেল শেখ (২০) গত ১ লা ডিসেম্বর সকাল ১১টার সময় বড় ভাই রুবেল শেখ এর বিবাহের মার্কেট করার জন্য শেরপুর মার্কেটের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ঐদিন হতে অদ্যবধি পর্যন্ত সে আর বাড়ীতে ফিরে নাই। সে ফেরৎ না আসায় নিখোঁজ হওয়ার কারণে বাদী আশে-পাশের প্রতিবেশীদের ন্যায় বিবাদীগনের বাড়িতেও খোঁজখবর নিতে গেলে বিবাদীদের সহিত সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ১০ই ডিসেম্বর রাত্রি ৮টার সময় বিবাদীগনসহ অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ সশস্ত্র সন্ত্রাসী টাইপের ব্যক্তি হাতে লাঠি সোঠা ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতবাড়ীতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

এসময় বাদীর বসতবাড়ীর যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ঘরের আলমারী ভেঙ্গে নগদ ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩ ভরি ওজনের স্বণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে বাদী ও তার ছেলে/ছেলের স্ত্রীরা বাঁধা দিলে বিবাদীদের হাতে থাকা লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথারী ভাবে বেধড়ক মারপিট করে ছিলা ফুলা জখম করে। এছাড়াও বিবাদীরা বাদীর বাড়ির মহিলাদেরকে শ্লীলতাহানী ঘটিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেই সাথে তার ছেলের স্ত্রী জিম বেগমের কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু বাচ্চাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। পরবর্তীতে এলাকার স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীগন তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান করে চলে যায়।

 

এতে ভুক্তভোগী বাদী জানায়, গত ১লা ডিসেম্বর আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর বিবাদীগনকে জিজ্ঞাসাবাদ করাকে কেন্দ্র করে এই অতর্কিত হামলা চালিয়ে লুটপাট-ভাংচুর করে।  ৪ঠা ডিসেম্বর বিবাদী রহমতুল্লাহ ওরফে রফিকুল মাষ্টারের জৈনক মেয়ে বগুড়া সদর থানার ৯নং ওয়ার্ডের সূত্রাপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এবিষয়ে তিনি গত ৪ঠা ডিসেম্বরে বগুড়া সদর থানায় কাউকে কোন প্রকার আসামি বা বিবাদী না করে ৩৭১নং একটি হারানো সাধারন ডাইরি (জিডি) দায়ের করে। সেটাকে কেন্দ্র করে বগুড়া সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহাগ বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন কোন প্রকার বিবাদী বা আসামি না হওয়া সত্ত্বেও সার্চ ওয়ারেন্ট এবং কোন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই অবৈধ ভাবে নিজ ক্ষমতার বলে নানা রকম ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যায়। এমতাবস্থায় বাদী ও তার পরিবারের লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছে বলে জানান তিনি।

 

অন্যদিকে অত্র এলাকার স্থানীয় ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি মেম্বার ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান জানায়,উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়া সদর থানার স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সোহাগ বাদীর বসতবাড়িতে গিয়ে বাদী ও তার পরিবারের লোকজন কোন প্রকার বিবাদী বা আসামি না হওয়া সত্ত্বেও সার্চ ওয়ারেন্ট এবং কোন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই অবৈধ ভাবে নিজ ক্ষমতার বলে নানা রকম ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যায়। সেই সাথে অত্র ওয়ার্ডের জন প্রতিনিধি হিসাবে তাদেরকেও ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে যায় বলে জানান তারা।

 

এবিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানায় যে,সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া কোন বাড়িঘর তল্লাশি এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা হয়রানি করার সুযোগ নেই। তবে এধরনের কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে থাকলে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত বিধি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।