“জিনিয়াস আবু সাঈদ রংপুর” অঞ্চলের ২০৮ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে প্রায় তিন কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের সময় সিজেডএম-এর চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম বলেন,যাকাত প্রদান করা কোনো প্রাইভেট কোম্পানির কাজ না এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যেদিন এই দায়িত্ব রাষ্ট্র নিবে সেদিন থেকে আমরা এই দায়িত্ব ছেড়ে দিবো।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর ২০২৪) রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর মিলনায়তনে এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
বৃত্তি প্রদানের সময় সিজেডএম-এর চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম বলেন,আমরা শুরুতে ষাট হাজার টাকা দিয়ে বৃত্তি দেয়া শুরু করেছি যা বর্তমানে আশি কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন এই আশি কোটি টাকা কি বেশি? তখন তিনিই বলেন,আমরা প্রতি বছর ছাব্বিশ হাজার কোটি টাকা অপচয় করি। সেই টাকার তুলনায় এই টাকা কিছুই নয়।
তিনি আরো বলেন,শাড়ী, লুঙ্গি এলোমেলো বন্টনের মাধ্যমে এসব টাকা অপচয় হয়।দুইবছর আগে যে একটা জরিপ ছিলো সেখানে যাকাতের সম্ভাবনা ছিল এক লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকা দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো কয়েকটা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেত।
জানা যায়,শহীদ আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন জুলাই ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত প্রতিমাসে ৪০০০ টাকা করে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট থেকে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ জিনিয়াস বৃত্তি রংপুর অঞ্চলের নাম পরিবর্তন করে “জিনিয়াস আবু সাঈদ রংপুর”করে হয়েছে।
জানা যায়,বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদেরকে ২.৫ বছরব্যাপী মাসিক ৪০০০ টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করবে সিজেডএম। “জিনিয়াস আবু সাঈদ রংপুর” অঞ্চল থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর, রংপুর মেডিকেল কলেজ ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ এস বি এফ নার্সিং ইনস্টিটিউট সহ মোট ৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির আওতাভুক্ত।জিনিয়াস বৃত্তি কর্মসূচির আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রণোদনা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
জানা যায়,রংপুর অঞ্চল থেকে জিনিয়াস বৃত্তি পেয়ে ১৪৩১জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করেছে এবং ৮২২ জন বর্তমানে বৃত্তি পাচ্ছে। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।আজকের অনুষ্ঠানে জিনিয়াস বৃত্তির জন্য মনোনীত মোট ২০৮ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
সিজেডএম-এর চেয়ারম্যান জনাব নিয়াজ রহিমের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকত আলী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মানিত ডীন প্রফেসর মো. মামুনুর রশিদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর
প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, কারমাইকেল কলেজের প্রফেসর মো. তোফায়েল হোসেন, সিজেডএম-এর নিরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দা ফারজানা রহিম, ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ডিরেক্টর ডাঃ লে কর্নেল (অব.) মো. মোজাহিদুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর হিসাববিজ্ঞান এবং তথ্যব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মোঃ ওমর ফারুক, সিজেডএম-এর রংপুর বিভাগীয় অ্যাম্বাসেডর ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহিনুর রহমান। সিজেডএম-এর শিক্ষা বিভাগের প্রধান লে, কর্নেল (অব.) সৈয়দ নাজমুর রহমান।
সিজেডএম এর নিরীক্ষা কমিটির আহবায়ক এডভোকেট সৈয়দা ফারজানা রহিম বলেন,মানুষের যত্ন নাও, আল্লাহ তোমার যত্ন নিবে।
বেরোবি প্রক্টর ড. মো ফেরদৌস রহমান বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে তারা যাকাত কোথায় দিবে সেটা জানে না কিন্তু সিজেডএম যাকাতের সুষ্ঠু বন্টন করে থাকেন।যাকাত দিলে সম্পদ পবিত্র হয়। সম্পদ কমে না বরং আরো বাড়ে।
সিজেডএম-এর রংপুর বিভাগীয় অ্যাম্বাসেডর ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর এর সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বছরই ক্যারিয়ার জীবনের ৫০ বছর নির্ধারণ করবে । এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা আপনাদের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, সিজেডএম সম্পর্কে আগে আমার কোন ধারণা ছিল না। আজকে সম্পর্কে ধারণা পেয়ে আমি মুগ্ধ হলাম। আগামীতে সব প্রোগ্রামে সিজেডএম এর সাথে থাকবো।
উল্লেখ্য যে, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রদত্ত যাকাতের অর্থের মাধ্যমে গঠিত যাকাত তহবিল থেকে এই বৃত্তি ২০১০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে প্রদান করা হচ্ছে। সিজেডএম এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭,৫০০ ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি প্রদান করেছে এবং বর্তমানে ৭৮০০ এর অধিক অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীর মাসিক ৪০০০ টাকা হারে ২.৫ বছরের জন্য বৃত্তি চলমান রয়েছে। এ বছর সারাদেশে আরও প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থীর বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।






















