০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত চবি শিক্ষক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহ আলম। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য সকল শর্ত পূরণ করে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত হওয়ায় ৪ বছর পর্যন্ত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রেখেছিল চবির তৎকালীন প্রশাসন। শাহ আলম অভিযোগ করেন, প্রমোশন দিলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিষ্টার নওফেল ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ রাগ করবেন বলে মন্তব্য করতেন আমার-ই কলিগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী। তিনি দাবি করেন সকল শর্ত পূরণের পরেও এমন মন্তব্যেই আটকে ছিলো তার প্রমোশন। সর্বশেষ নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিলে চলতি বছরের নভেম্বরে পদন্নোতি পান তিনি।
শাহ আলমের পদন্নোতির যথাযথ যোগ্যতা থাকার পরও পদন্নোতি না দিয়ে তার সহকর্মী যারা যোগ্যতা হিসেবে  তার পরে পদন্নোতি পাওয়ার কথা তারাও পদন্নোতি পেয়েছেন। এমনকি তার ৭জন শিক্ষার্থী যারা পরবর্তীতে শিক্ষক হয়েছেন তাদেরকে পদন্নোতি দিলেও আটকে ছিলো সহযোগী অধ্যাপক শাহ আলমের পদন্নোতি।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রশাসন আসায় এ বছরের নভেম্বরে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক শাহ আলম। তবে বিগত চার বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন শাহ আলম। রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরনের দাবিতে একটি আবেদনপত্র জমা দেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক।
আবেদনপত্রে বলা হয়, শাহ আলম বিগত আওয়ামীলীগ শাসনামলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতারের প্রশাসনের সময় পদন্নোতির সকল শর্ত পূরণ করে ১৮ অক্টোবর ২০২০ এ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সভায় তাঁর আবেদনপত্র উপস্থাপনা না করে তাঁর জুনিয়র সহকর্মীদের আবেদনপত্র উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দ্বারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বেতন বন্ধ করাসহ প্ল্যাগারিজমের নামে হয়রানি এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য জার্মান যেতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনপত্রে তিনি আরও বলেন , তিনি বিএনপির রাজনীতি সমর্থন করার কারণে সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী বলতেন তাকে প্রমোশন দিলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিষ্টার নওফেল ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ  রাগ করবেন এই কথা বলে তার সহকর্মী এবং জুনিয়র সহকর্মী  সবাইকে প্রমোশন দিলেও তাঁর প্রমোশন নিয়ে টালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করেন বলে জানান তিনি।
এর আগে সহকারী অধ্যাপক পদে পদন্নোতি পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও বিএনপির রাজনীতি সমর্থন করার কারনে পদন্নোতি দিতে কয়েক বছর সময় ক্ষেপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে তিনি বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে পদন্নতি পান এবং তার নষ্ট হয়ে যাওয়া সময় গুলো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো.সেকান্দর চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার নামে যা কিছু বলেছে সব মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি পদোন্নতি দেওয়ার কিংবা  আটকে রাখার কেউ না।  প্ল্যানিং কমিটির প্রধান ভিসি, উনি যা সিদ্ধান্ত দেন তাই হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে তার পদন্নোতির যোগ্যতা থাকার পরও তাকে পদন্নোতি দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সবকিছু যাচাই-বাছাই করার পর তাকে পদন্নোতি দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত চবি শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহ আলম। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য সকল শর্ত পূরণ করে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত হওয়ায় ৪ বছর পর্যন্ত পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রেখেছিল চবির তৎকালীন প্রশাসন। শাহ আলম অভিযোগ করেন, প্রমোশন দিলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিষ্টার নওফেল ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ রাগ করবেন বলে মন্তব্য করতেন আমার-ই কলিগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী। তিনি দাবি করেন সকল শর্ত পূরণের পরেও এমন মন্তব্যেই আটকে ছিলো তার প্রমোশন। সর্বশেষ নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিলে চলতি বছরের নভেম্বরে পদন্নোতি পান তিনি।
শাহ আলমের পদন্নোতির যথাযথ যোগ্যতা থাকার পরও পদন্নোতি না দিয়ে তার সহকর্মী যারা যোগ্যতা হিসেবে  তার পরে পদন্নোতি পাওয়ার কথা তারাও পদন্নোতি পেয়েছেন। এমনকি তার ৭জন শিক্ষার্থী যারা পরবর্তীতে শিক্ষক হয়েছেন তাদেরকে পদন্নোতি দিলেও আটকে ছিলো সহযোগী অধ্যাপক শাহ আলমের পদন্নোতি।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রশাসন আসায় এ বছরের নভেম্বরে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক শাহ আলম। তবে বিগত চার বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছেন শাহ আলম। রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরনের দাবিতে একটি আবেদনপত্র জমা দেন ভুক্তভোগী এই শিক্ষক।
আবেদনপত্রে বলা হয়, শাহ আলম বিগত আওয়ামীলীগ শাসনামলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতারের প্রশাসনের সময় পদন্নোতির সকল শর্ত পূরণ করে ১৮ অক্টোবর ২০২০ এ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সভায় তাঁর আবেদনপত্র উপস্থাপনা না করে তাঁর জুনিয়র সহকর্মীদের আবেদনপত্র উপস্থাপন করা হয় এবং তাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া ছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দ্বারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বেতন বন্ধ করাসহ প্ল্যাগারিজমের নামে হয়রানি এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য জার্মান যেতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনপত্রে তিনি আরও বলেন , তিনি বিএনপির রাজনীতি সমর্থন করার কারণে সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী বলতেন তাকে প্রমোশন দিলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিষ্টার নওফেল ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ  রাগ করবেন এই কথা বলে তার সহকর্মী এবং জুনিয়র সহকর্মী  সবাইকে প্রমোশন দিলেও তাঁর প্রমোশন নিয়ে টালবাহানা করে সময় ক্ষেপন করেন বলে জানান তিনি।
এর আগে সহকারী অধ্যাপক পদে পদন্নোতি পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেও বিএনপির রাজনীতি সমর্থন করার কারনে পদন্নোতি দিতে কয়েক বছর সময় ক্ষেপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে তিনি বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে পদন্নতি পান এবং তার নষ্ট হয়ে যাওয়া সময় গুলো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো.সেকান্দর চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার নামে যা কিছু বলেছে সব মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি পদোন্নতি দেওয়ার কিংবা  আটকে রাখার কেউ না।  প্ল্যানিং কমিটির প্রধান ভিসি, উনি যা সিদ্ধান্ত দেন তাই হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে তার পদন্নোতির যোগ্যতা থাকার পরও তাকে পদন্নোতি দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সবকিছু যাচাই-বাছাই করার পর তাকে পদন্নোতি দেওয়া হয়েছে।