১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে শীতের পিঠার দোকানে ভিড়

শীতের আমেজ মানে পিঠা পুলির উৎসব। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বিভিন্ন রকমের পিঠা
তৈরী করে মেয়ে জামাতাকে দাওয়াত করে পরিবারের সদস্য নিয়ে পিঠা খাওযার ধুম। শীতের পিঠা
খাবার উৎসব থেকে বাদ পড়ে না পাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবও। গ্রাম-গঞ্জ বা শহরের পরিবারের মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকে না পিঠা তৈরীর উৎসব। গ্রাম-গঞ্জের রাস্তার মোড় কিংবা হাট-বাজারে দোকান
বসিয়ে পিঠা-পুলি তৈরী করতে ব্যস্ত থাকে মৌসুম ব্যবসায়ীরা। পিঠার স্বাদ নিতে লাইনে
দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মানুষ। পিঠার সাথে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, ধনিয়াপাতা
ভর্তা,মরিচ ভর্তাসহ নানা রকমের ভর্তার স্বাদ নেওয়ার মজাই আলাদা। যে পিঠার দোকানে ভর্তার
সংখ্যা বেশি সেই দোকানে পিঠা প্রেমিকের সংখ্যা তত বেশি। অনেকে প্রিয়জন বা মনে মানুষ
নিয়ে নানা রকম ভর্তা ও পিঠা স্বাদ হাজির হন এই পিঠার দোকানে। দুষ্টু মিষ্টি কথায় মনের ভাব
প্রকাশ আর ভর্তা দিয়ে পিঠা খাওয়ার স্বাদে যেন একাকার হয়ে যায়। আবার অনেকে পরিবার পরিজন
নিয়ে পিঠার স্বাদ নিতে ছুটি আসে ফুটপাতের পিঠার দোকানে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
বাড়ছে চিতাই ও ভাপা পিঠার কদর। শীত যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নানা রকম পিঠার চাহিদা
বাড়ছে। হিম হাওয়া আসতে না আসতেই পিঠার দোকানগুলো জমে উঠছে পিঠাপ্রেমীদের ভিড়ে।
নারী-পুরুষের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরাও ছুটে আসছে পিঠার দোকানে। আগের দিনে গ্রামে এই
দৃশ্য বেশি দেখা গেলেও, এখন শহরেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামে যেখানে অলিগলি ও ঝুপড়িঘরে
পিঠার দোকান বসত, নারীদের হাতে তৈরি পিঠা খেতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হতো। এখন ওই দৃশ্য
শহরের নানা জনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে। পীরজাবাদ, সুলতান নগর মোড়, বাস
টার্মিনাল, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, কামাল কাছনা, সিও বাজার, লালবাগ, খামার মোড়, শাপলা চত্ত্বর,
প্রেস ক্লাব মোড়, জিলা স্কুল মোড়, মডার্ণ মোড়, সিগারেট কোম্পনি মোড়সহ রংপুর নগরীর
বিভিন্ন এলাকায় পিঠার দোকান বসে। রংপুর কারমাইকেল কলেজের সমানে রাস্তার পাশে ভাপা পিঠা,
ডিম চিতাইসহ নানা রকম পিঠা নিয়ে বসেছে। পিঠার সঙ্গে বাড়তি স্বাদ নিতে নানা রকম
ভর্তা যেমন বাদাম ভর্তা, ধনিয়াপাতা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, আলু ভর্তা, গুড় ও কাঁচামরিচের
চাটনি রাখেন দোকানিরা। এসব ভর্তার স্বাদ নিতে আসেন অনেক ক্রেতা। সিগারেট কোম্পানি
মোড়ের পিঠা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন ১৮ কেজি আটা লাগে। আড়াই হাজার
থেকে তিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। ৬ বছর ধওে পিঠার ব্যবসা করছি। বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার বলেন, বিভিন্ন রকম ভর্তা দিয়ে চিতাই পিঠা খাবার
জন্য আসি। আমার সঙ্গে আমার অনেক বান্ধবীও আসে। রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী নজরুল
ইসলাম বলেন,বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্ত্বরে পিঠা খাবার জন্য আসি। এখানে
শিক্ষার্থীদের ভিড় বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

রংপুরে শীতের পিঠার দোকানে ভিড়

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

শীতের আমেজ মানে পিঠা পুলির উৎসব। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বিভিন্ন রকমের পিঠা
তৈরী করে মেয়ে জামাতাকে দাওয়াত করে পরিবারের সদস্য নিয়ে পিঠা খাওযার ধুম। শীতের পিঠা
খাবার উৎসব থেকে বাদ পড়ে না পাড়া প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবও। গ্রাম-গঞ্জ বা শহরের পরিবারের মধ্যে
সীমাবদ্ধ থাকে না পিঠা তৈরীর উৎসব। গ্রাম-গঞ্জের রাস্তার মোড় কিংবা হাট-বাজারে দোকান
বসিয়ে পিঠা-পুলি তৈরী করতে ব্যস্ত থাকে মৌসুম ব্যবসায়ীরা। পিঠার স্বাদ নিতে লাইনে
দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মানুষ। পিঠার সাথে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, ধনিয়াপাতা
ভর্তা,মরিচ ভর্তাসহ নানা রকমের ভর্তার স্বাদ নেওয়ার মজাই আলাদা। যে পিঠার দোকানে ভর্তার
সংখ্যা বেশি সেই দোকানে পিঠা প্রেমিকের সংখ্যা তত বেশি। অনেকে প্রিয়জন বা মনে মানুষ
নিয়ে নানা রকম ভর্তা ও পিঠা স্বাদ হাজির হন এই পিঠার দোকানে। দুষ্টু মিষ্টি কথায় মনের ভাব
প্রকাশ আর ভর্তা দিয়ে পিঠা খাওয়ার স্বাদে যেন একাকার হয়ে যায়। আবার অনেকে পরিবার পরিজন
নিয়ে পিঠার স্বাদ নিতে ছুটি আসে ফুটপাতের পিঠার দোকানে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
বাড়ছে চিতাই ও ভাপা পিঠার কদর। শীত যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নানা রকম পিঠার চাহিদা
বাড়ছে। হিম হাওয়া আসতে না আসতেই পিঠার দোকানগুলো জমে উঠছে পিঠাপ্রেমীদের ভিড়ে।
নারী-পুরুষের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীরাও ছুটে আসছে পিঠার দোকানে। আগের দিনে গ্রামে এই
দৃশ্য বেশি দেখা গেলেও, এখন শহরেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামে যেখানে অলিগলি ও ঝুপড়িঘরে
পিঠার দোকান বসত, নারীদের হাতে তৈরি পিঠা খেতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হতো। এখন ওই দৃশ্য
শহরের নানা জনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে। পীরজাবাদ, সুলতান নগর মোড়, বাস
টার্মিনাল, মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, কামাল কাছনা, সিও বাজার, লালবাগ, খামার মোড়, শাপলা চত্ত্বর,
প্রেস ক্লাব মোড়, জিলা স্কুল মোড়, মডার্ণ মোড়, সিগারেট কোম্পনি মোড়সহ রংপুর নগরীর
বিভিন্ন এলাকায় পিঠার দোকান বসে। রংপুর কারমাইকেল কলেজের সমানে রাস্তার পাশে ভাপা পিঠা,
ডিম চিতাইসহ নানা রকম পিঠা নিয়ে বসেছে। পিঠার সঙ্গে বাড়তি স্বাদ নিতে নানা রকম
ভর্তা যেমন বাদাম ভর্তা, ধনিয়াপাতা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, আলু ভর্তা, গুড় ও কাঁচামরিচের
চাটনি রাখেন দোকানিরা। এসব ভর্তার স্বাদ নিতে আসেন অনেক ক্রেতা। সিগারেট কোম্পানি
মোড়ের পিঠা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন ১৮ কেজি আটা লাগে। আড়াই হাজার
থেকে তিন হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। ৬ বছর ধওে পিঠার ব্যবসা করছি। বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার বলেন, বিভিন্ন রকম ভর্তা দিয়ে চিতাই পিঠা খাবার
জন্য আসি। আমার সঙ্গে আমার অনেক বান্ধবীও আসে। রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী নজরুল
ইসলাম বলেন,বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্ত্বরে পিঠা খাবার জন্য আসি। এখানে
শিক্ষার্থীদের ভিড় বেশি।