০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির এবিসি স্কুলের পুনর্মিলনী “ত্রিশ বছর পর সহপাঠীদের মিলনক্ষণ”

 উত্তর চটগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দৌলতপুর আব্দুল বারী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৪ ব্যাচের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার দিনব্যাপী একগুচ্ছ কর্মসূচীতে অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলোওয়াত, গীতাপাঠের মধ্যদিয়ে। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কেটে উদযাপন করা হয় পুনর্মিলনীর দিনটি৷ পরে একে একে মঞ্চে উঠেন ৩০ বছর আগের শিক্ষকেরা। পরে তাঁরাও কেক কাটেন। এ সময় গর্বিত শিক্ষক মন্ডলীদের উত্তরনী পরিয়ে বরণ করা হয়। সাথে সাথে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
৩০ বছর পর একে অপরকে কাছে পেয়ে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। স্কুল জীবনের সহপাঠীদের তিন দশক পর একসাথে কাছে পেয়ে সবাই হারিয়ে যান শৈশবে। অচেনা-অপরিচিত মানুষগুলোকে ৫ বছরের স্কুল জীবন আবদ্ধ করে দিয়েছে আত্মার বন্ধনে৷ এসএসসি পরীক্ষার পর কেউ গিয়েছেন কর্মজীবনে, কারো হয়েছে বিয়ে, আবার অনেকেই অব্যাহত রেখেছিলেন অধ্যায়ন। এভাবেই জীবনের মোড় পাল্টে যায় সকলের। এতটা বছর পর সব বন্ধুদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি অনেককে আবেঘে আপ্লূত হতে দেখা যায়। বন্ধুদের জড়িয়ে কেউ কেউ মনে করছেন অতীতকে। ত্রিশ বছরের জমে থাকা কতশত কথা, সব আজ মন খুলে বলছেন বন্ধুবীদের সাথে। কেউ মঞ্চে দাড়িঁয়ে এসএসসির বিদায়ী অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করছেন। কেউবা আবার মজে আছেন সেল্পী আর ছবি তোলার মাঝে। প্রাক্তনদের বেসুরা কন্ঠে গান আর কবিতায়ও করতালি দিয়ে যেন বিশ্বখ্যাতি খুঁজে নেন সহপাঠিরা। এর ফাঁকে প্রিয় শিক্ষকদের কদমবুসি করে জীবনের বাকীটা পথ যেন মসৃণ হয় সেই দোয়াই নিচ্ছেন ৩০ বছর আগে শিক্ষা জীবন পেছনে পেলে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা। কেউ কেউ আবার সুজিত স্যারের সুদর্শন আর ব্যক্তিত্ববানের কথা যেমন বলছেন, ঠিক তেমনি ফিরোজ স্যারকে ভয় পাওয়ার স্মৃতিচারণ করেন কেউ কেউ। জুমার নামাজের পর দুপুরের মধ্যাহ্নোভোজ শেষে চলে মিউজিক্যাল পিলো গেইম এবং মিউজিক্যাল চেয়ার গেইম। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে লাকি কূপন লটারির ড্র এবং পুরষ্কার বিতরণের মধ্যদিয়ে শেষ হয় ৬ ঘন্টা দৈঘের্যর জমকালো অনুষ্ঠানটি৷ অনুষ্ঠান শেষে যে যার মত ফিরে যাওয়ার সময় বার বার পিছে ফিরে দেখেন স্কুল জীবনের জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবনটি। ভবনটিজুড়ে কত শত স্মৃতি। মনের মনিকোঠায় এখনো নাড়া দেয় নব্বই দশকের দিনগুলি৷ এইতো সেদিন এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসা, বিনাকারণে একে অপরের সাথে রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, আবার মুহুর্তে সব ভুলে একজনের কাধেঁ আরেকজনের হাত দিয়ে বাড়ী ফেরা। একটি আইসক্রিম কয়েক বন্ধু মিলে চুষে খাওয়া। বৈরী আবহাওয়ায় আগে ভাগে স্কুল ছুটির আনন্দ। ছুটির নোটিশ খাতা নিয়ে দপ্তরী চাচা আসলে আকাশচুম্বী খুশিতে আত্মহারা হওয়ায়, দিনশেষে বিকাল ৪টায় ঢং ঢং শব্দে ছুটির ঘন্টা। আহারে, কতই না মধুর স্মৃতি দৌলতপুর আব্দুল বারী চৌধুরী (এবিসি) উচ্চ বিদ্যালয় ঘিরে। আজ সবি স্মৃতি। যান্ত্রিকতা ভুলে একটা দিন সব সহপাঠী একসাথে হওয়ার আনন্দ যেন কত দ্রুত শেষ হয়ে গেল। আবার হবে তো দেখা, এ দেখা শেষ দেখা নয়তো।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

ফটিকছড়ির এবিসি স্কুলের পুনর্মিলনী “ত্রিশ বছর পর সহপাঠীদের মিলনক্ষণ”

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪
 উত্তর চটগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দৌলতপুর আব্দুল বারী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৪ ব্যাচের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার দিনব্যাপী একগুচ্ছ কর্মসূচীতে অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলোওয়াত, গীতাপাঠের মধ্যদিয়ে। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কেটে উদযাপন করা হয় পুনর্মিলনীর দিনটি৷ পরে একে একে মঞ্চে উঠেন ৩০ বছর আগের শিক্ষকেরা। পরে তাঁরাও কেক কাটেন। এ সময় গর্বিত শিক্ষক মন্ডলীদের উত্তরনী পরিয়ে বরণ করা হয়। সাথে সাথে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
৩০ বছর পর একে অপরকে কাছে পেয়ে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন। স্কুল জীবনের সহপাঠীদের তিন দশক পর একসাথে কাছে পেয়ে সবাই হারিয়ে যান শৈশবে। অচেনা-অপরিচিত মানুষগুলোকে ৫ বছরের স্কুল জীবন আবদ্ধ করে দিয়েছে আত্মার বন্ধনে৷ এসএসসি পরীক্ষার পর কেউ গিয়েছেন কর্মজীবনে, কারো হয়েছে বিয়ে, আবার অনেকেই অব্যাহত রেখেছিলেন অধ্যায়ন। এভাবেই জীবনের মোড় পাল্টে যায় সকলের। এতটা বছর পর সব বন্ধুদের কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি অনেককে আবেঘে আপ্লূত হতে দেখা যায়। বন্ধুদের জড়িয়ে কেউ কেউ মনে করছেন অতীতকে। ত্রিশ বছরের জমে থাকা কতশত কথা, সব আজ মন খুলে বলছেন বন্ধুবীদের সাথে। কেউ মঞ্চে দাড়িঁয়ে এসএসসির বিদায়ী অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করছেন। কেউবা আবার মজে আছেন সেল্পী আর ছবি তোলার মাঝে। প্রাক্তনদের বেসুরা কন্ঠে গান আর কবিতায়ও করতালি দিয়ে যেন বিশ্বখ্যাতি খুঁজে নেন সহপাঠিরা। এর ফাঁকে প্রিয় শিক্ষকদের কদমবুসি করে জীবনের বাকীটা পথ যেন মসৃণ হয় সেই দোয়াই নিচ্ছেন ৩০ বছর আগে শিক্ষা জীবন পেছনে পেলে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা। কেউ কেউ আবার সুজিত স্যারের সুদর্শন আর ব্যক্তিত্ববানের কথা যেমন বলছেন, ঠিক তেমনি ফিরোজ স্যারকে ভয় পাওয়ার স্মৃতিচারণ করেন কেউ কেউ। জুমার নামাজের পর দুপুরের মধ্যাহ্নোভোজ শেষে চলে মিউজিক্যাল পিলো গেইম এবং মিউজিক্যাল চেয়ার গেইম। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে লাকি কূপন লটারির ড্র এবং পুরষ্কার বিতরণের মধ্যদিয়ে শেষ হয় ৬ ঘন্টা দৈঘের্যর জমকালো অনুষ্ঠানটি৷ অনুষ্ঠান শেষে যে যার মত ফিরে যাওয়ার সময় বার বার পিছে ফিরে দেখেন স্কুল জীবনের জরাজীর্ণ একাডেমিক ভবনটি। ভবনটিজুড়ে কত শত স্মৃতি। মনের মনিকোঠায় এখনো নাড়া দেয় নব্বই দশকের দিনগুলি৷ এইতো সেদিন এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসা, বিনাকারণে একে অপরের সাথে রাগ, ক্ষোভ, অভিমান, আবার মুহুর্তে সব ভুলে একজনের কাধেঁ আরেকজনের হাত দিয়ে বাড়ী ফেরা। একটি আইসক্রিম কয়েক বন্ধু মিলে চুষে খাওয়া। বৈরী আবহাওয়ায় আগে ভাগে স্কুল ছুটির আনন্দ। ছুটির নোটিশ খাতা নিয়ে দপ্তরী চাচা আসলে আকাশচুম্বী খুশিতে আত্মহারা হওয়ায়, দিনশেষে বিকাল ৪টায় ঢং ঢং শব্দে ছুটির ঘন্টা। আহারে, কতই না মধুর স্মৃতি দৌলতপুর আব্দুল বারী চৌধুরী (এবিসি) উচ্চ বিদ্যালয় ঘিরে। আজ সবি স্মৃতি। যান্ত্রিকতা ভুলে একটা দিন সব সহপাঠী একসাথে হওয়ার আনন্দ যেন কত দ্রুত শেষ হয়ে গেল। আবার হবে তো দেখা, এ দেখা শেষ দেখা নয়তো।