মূল উপাদান ছাড়াই শুধুমাত্র ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে নামিদামি ব্র্যান্ডের আদলে মোড়কজাত করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে জুস, আচার, সুগন্ধি চাল, চিনি, ডিটারজেন্ট, সেমাইসহ কয়েক ধরনের নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের আনোয়ার হোসেন শামীম নামের এক ব্যক্তি। মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠান ঘরে তুলে পন্যের পরিবেশক পরিচয়ে একাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি খাদ্য পন্য নকল করার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন শামীমের গোডাউনে গেলে এই দৃশ্য দেখা যায়। তবে মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজের মালিক শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আগে এগুলো তৈরি করতাম কিন্তু এখন করি না। আমি ছাড়াও এ এলাকায় আরও প্রায় বিশজন এ কাজ করে।
গোডাউন ঘুরে দেখা যায়, বনফুল লাচ্ছা সেমাই, চাষি চিনিগুড়া চাল, অর্গানিক আখের চিনি, ছালেহা আচার, ডিটারজেন্টের খালি মোড়ক। তাছাড়াও সন্দেশ, বাচ্চাদের খাওয়ার আইচ ললি রোবট ও মেয়াদহীন লিন ম্যাংগু জুস। এগুলো তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও এগুলো তৈরির রাসায়নিক দ্রব্য।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, আমি আগে এগুলো তৈরি করতাম, এখন গাজীপুর থেকে মাল এনে সাপ্লাই দেই। গোডাউনে থাকা পন্য গুলোর মেয়াদ ও অনুমোদন না থাকা বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে সে বলে, এগুলো আমার জানা নাই, যেখান থেকে আনি তারা জানে। তাদের কাছে জিগাইন। বিভিন্ন পণ্যের মোড়ক, যন্ত্রাংশ ও রাসায়নিক দ্রব্য এখনো তাহলে গোডাউনে কেন প্রশ্ন করা হলে সে বলে, এগুলো কি ফেলে দেবো! টাকা দিয়ে কিনেছি। অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেবো।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস,এম জিয়াউল বারী বলেন, প্রতিবছর অনিরাপদ খাদ্য গ্রহনের জন্য চার লাখ বিশ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। এ বিষক্রিয়া দিয়ে তৈরি পন্য গুলো শিশু থেকে বৃদ্ধ যেই খাবে না কেন, সবারই বিভিন্ন জটিল রোগ ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যধী রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করতে পারে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। এখন যখন জেনেছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি শুনেই বিএসটিআইকে অবগত করেছি। তাদেরসহ আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযান পরিচালনা করবো।























