০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরের রৌমারি বিল যেন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ রৌমারি বিল যেন ঋতু ভেদে ভিন্ন রূপে সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠে সারাবছর।

শীতের শুরুতে বিস্তীর্ণ রৌমালি বিল শুকিয়ে গেলে সরিষার আবাদ শুরু করে এলাকাবাসী। তখন সমস্ত বিল সরিষার হলুদ ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ে। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে জেলা এবং জেলার বাহিরের প্রকৃতি প্রেমী, তরুণ-তরুণী, নব দম্পতিদের সমাগম ঘটে।

সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা কলেজ পড়ুয়া তরুণদের সাথে আলাপচারিতায় বলেন, অপরূপ সুন্দর, চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ। ফুলের মৌ মৌ গন্ধে খুব ভাল লাগছে। মধু চাষীদের কাছ থেকে কম দামে মধুও কিনতে পারছি এখানে। সব মিলিয়ে দারুন একটি পরিবেশ।

বিলের আশেপাশে গ্রামের তরুণরা জনান, আমরা প্রতিদিন সরিষা ক্ষেতে সন্ধ্যার পর বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গান-বাজনা করি এবং আনন্দে মেতে উঠি। এই হলুদের সমারোহ দেখার জন্য অনেক তরুণ, নব দম্পতি, প্রকৃতি প্রেমিরা আসে প্রতিদিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে সরিষা ক্ষেতের মাঝখানে মৌচাষীরা মধু সংগ্রহের জন্য তাবু গেড়েছে এবং পাশেই মৌমাছির বাক্স সারিবদ্ধভাবে সাজানো আছে। কথা হয় মৌচাষী মিস্টারের সাথে। তারা সাতক্ষীরা থেকে এখানে এসেছে মধু সংগ্রহের জন্য।

মৌচাষী মিস্টার বলেন, এই রৌমারি বিলে পাঁচ বছর যাবৎ আমরা মধু সংগ্রহের জন্য আসি। এই বিলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সরিষার আবাদ হয়। প্রতিবছর আমরা এখানে তিন মাস মধু সংগ্রহ করি। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এই রৌমারি বিলে এই বছর আাড়াই শত কলোনি (বাক্স) থেকে প্রায় ষাট মণ মধু সংগ্রহ করতে পারবো। কিন্তু সরিষা আবাদিরা বলছেন তারা ক্ষেতে সরিষার ভাল ফলনের জন্য বিষ দিবে। বিষ স্প্রে করলে আমরা এখান থেকে আর মধু সংগ্রহ করতে পারবো না। কারন ক্ষেতে বিষ স্প্রে করলে মৌমাছি মারা যাবে। আমরা সবাইকে বলেছি মধু সংগ্রহ করলে সরিষা ক্ষেতের কোন সমস্যা হয় না। বরং উৎপাদন আরো বেশি হয়। আমরা কয়েকদিনের মধ্যে টাঙ্গাইল মির্জাপুর চলে যাবো মধু সংগ্রহের জন্য।

ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার সবুজ বাংলাকে বলেন, এই রৌমারি বিল বর্ষাকালে চারদিকে পানি থৈ থৈ করে। শীতকালে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহে অসাধারণ এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শরৎ এর শুরুতে আমরা এই বিলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকি। বর্ষা ও শীতকালে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমিরা বেড়াতে আসে। আমরা মেলান্দহবাসী এই রৌমারি বিলকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোঘণা করেছি ইতিমধ্যে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জাহিদ হোসেন রবি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার বাড়ী জামালপুর হওয়ায় আমি প্রতি বছর দুইবার রৌমারি বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আসি। আমি এখানে এলে ছবি আঁকার উপাদান খোঁজে পাই। এই বিলে বর্ষাকালে একরকম দৃশ্য এবং শীতকালে ঠিক বিপরীত দৃশ্য খোঁজে পাই। ছবি আঁকার অসাধারণ উপাদান রয়েছে এখানে।

মেলান্দহ উপজেলায় রৌমারি বিলের পাশে কাপাসহাটিয়া গ্রামে গড়ে উঠা মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘরের ট্রাষ্টি হামিদুর রহমান দোদুল সরকার বলেন, আমাদের উপজেলায় এই রৌমারি বিলটি একটি ঐতিহ্যবাহী বিল। এই বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এখানে বিলের পাশে কাপাসহাটিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে গান্ধী আশ্রাম ও মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘর। আশ্রমে এবং জাদুঘরে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা সফরে আসে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে এসে এই রৌমারি বিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে তারা অভিভূত হয়ে যায়। আমরা এই বিল এবং কাপাশহাটিয়া গ্রামকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

জামালপুরের রৌমারি বিল যেন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ রৌমারি বিল যেন ঋতু ভেদে ভিন্ন রূপে সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠে সারাবছর।

শীতের শুরুতে বিস্তীর্ণ রৌমালি বিল শুকিয়ে গেলে সরিষার আবাদ শুরু করে এলাকাবাসী। তখন সমস্ত বিল সরিষার হলুদ ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ে। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে জেলা এবং জেলার বাহিরের প্রকৃতি প্রেমী, তরুণ-তরুণী, নব দম্পতিদের সমাগম ঘটে।

সরিষা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা কলেজ পড়ুয়া তরুণদের সাথে আলাপচারিতায় বলেন, অপরূপ সুন্দর, চারদিকে শুধু হলুদ আর হলুদ। ফুলের মৌ মৌ গন্ধে খুব ভাল লাগছে। মধু চাষীদের কাছ থেকে কম দামে মধুও কিনতে পারছি এখানে। সব মিলিয়ে দারুন একটি পরিবেশ।

বিলের আশেপাশে গ্রামের তরুণরা জনান, আমরা প্রতিদিন সরিষা ক্ষেতে সন্ধ্যার পর বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গান-বাজনা করি এবং আনন্দে মেতে উঠি। এই হলুদের সমারোহ দেখার জন্য অনেক তরুণ, নব দম্পতি, প্রকৃতি প্রেমিরা আসে প্রতিদিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে সরিষা ক্ষেতের মাঝখানে মৌচাষীরা মধু সংগ্রহের জন্য তাবু গেড়েছে এবং পাশেই মৌমাছির বাক্স সারিবদ্ধভাবে সাজানো আছে। কথা হয় মৌচাষী মিস্টারের সাথে। তারা সাতক্ষীরা থেকে এখানে এসেছে মধু সংগ্রহের জন্য।

মৌচাষী মিস্টার বলেন, এই রৌমারি বিলে পাঁচ বছর যাবৎ আমরা মধু সংগ্রহের জন্য আসি। এই বিলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সরিষার আবাদ হয়। প্রতিবছর আমরা এখানে তিন মাস মধু সংগ্রহ করি। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এই রৌমারি বিলে এই বছর আাড়াই শত কলোনি (বাক্স) থেকে প্রায় ষাট মণ মধু সংগ্রহ করতে পারবো। কিন্তু সরিষা আবাদিরা বলছেন তারা ক্ষেতে সরিষার ভাল ফলনের জন্য বিষ দিবে। বিষ স্প্রে করলে আমরা এখান থেকে আর মধু সংগ্রহ করতে পারবো না। কারন ক্ষেতে বিষ স্প্রে করলে মৌমাছি মারা যাবে। আমরা সবাইকে বলেছি মধু সংগ্রহ করলে সরিষা ক্ষেতের কোন সমস্যা হয় না। বরং উৎপাদন আরো বেশি হয়। আমরা কয়েকদিনের মধ্যে টাঙ্গাইল মির্জাপুর চলে যাবো মধু সংগ্রহের জন্য।

ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার সবুজ বাংলাকে বলেন, এই রৌমারি বিল বর্ষাকালে চারদিকে পানি থৈ থৈ করে। শীতকালে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহে অসাধারণ এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শরৎ এর শুরুতে আমরা এই বিলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকি। বর্ষা ও শীতকালে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমিরা বেড়াতে আসে। আমরা মেলান্দহবাসী এই রৌমারি বিলকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোঘণা করেছি ইতিমধ্যে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জাহিদ হোসেন রবি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার বাড়ী জামালপুর হওয়ায় আমি প্রতি বছর দুইবার রৌমারি বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আসি। আমি এখানে এলে ছবি আঁকার উপাদান খোঁজে পাই। এই বিলে বর্ষাকালে একরকম দৃশ্য এবং শীতকালে ঠিক বিপরীত দৃশ্য খোঁজে পাই। ছবি আঁকার অসাধারণ উপাদান রয়েছে এখানে।

মেলান্দহ উপজেলায় রৌমারি বিলের পাশে কাপাসহাটিয়া গ্রামে গড়ে উঠা মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘরের ট্রাষ্টি হামিদুর রহমান দোদুল সরকার বলেন, আমাদের উপজেলায় এই রৌমারি বিলটি একটি ঐতিহ্যবাহী বিল। এই বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এখানে বিলের পাশে কাপাসহাটিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে গান্ধী আশ্রাম ও মুক্তিসংগ্রাম জাদুঘর। আশ্রমে এবং জাদুঘরে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা সফরে আসে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে এসে এই রৌমারি বিলের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে তারা অভিভূত হয়ে যায়। আমরা এই বিল এবং কাপাশহাটিয়া গ্রামকে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছি।