০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে কিশোরীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা : আটক ৩

Oplus_131072

কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে উদীচী, ছাত্রইউনিয়ন, যুবইউনিয়ন সহ বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ, আলোক প্রজ্জলন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে এঘটনাটি তাৎক্ষনিক চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে নিন্দার ঝড় উঠে। বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সোমবার দুপুর ১২ টার সময় বদরখালী-মহেশখালী সেতুতে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রীরা।  মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে  জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আশ্বস্ত করলে সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয় ছাত্র-জনতা।
গত ৫ জানুয়ারী রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় বেড়িবাঁধের প্যারাবনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বাঁশখালী থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে গাড়ি নষ্ট হয়েছে বলে বদরখালী সেতুর ওপর অটোরিকশা চালক তাকে নামিয়ে দেন। এরপর কিশোরী পায়ে হেঁটে সেতু পার হচ্ছিল। এ সময় সেতুর পূর্ব অংশে দুজন যুবক তার গতি রোধ কর। পরে আরেকজন যুবক এসে ছুরি ধরে ভয় দেখিয়ে তার মুখ চেপে ধরে বেড়িবাঁধের প্যারাবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে চার থেকে আটজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরলে সে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের সড়কে উঠে চিৎকার দিয়ে লোক জড়ো করে। পরে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওই দিন দিবাগত রাত একটার দিকে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ওই কিশোরী। তার অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়।
ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সাথে তাকে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, সকাল সাড়ে ১০ টায় মহেশখালীর শাপলাপুর এলাকা থেকে ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীমউদ্দিন।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো এজাহার দায়ের করা হয়নি জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটককৃতরা হলেন বদরখালীর মো. আবছার উদ্দিনের ছেলে সজীব, বশির আহমদের ছেলে ছোটন, জিয়াবুলের ছেলে তাজুল। তারা সকলে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানান চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভুইয়া।
অভিযুক্তদের আটকে পুলিশকে সহায়তাকারী স্থানীয় যুবদল নেতা বুলবুল আহমদ জানান, আজ সকালে গোপন সূত্রে তিনি খবর পান ওই তিনজন শাপলাপুরের একটি মৎস্য ঘেরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনার সাথে যারাই জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

কক্সবাজারে কিশোরীকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা : আটক ৩

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে উদীচী, ছাত্রইউনিয়ন, যুবইউনিয়ন সহ বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ, আলোক প্রজ্জলন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে এঘটনাটি তাৎক্ষনিক চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে নিন্দার ঝড় উঠে। বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সোমবার দুপুর ১২ টার সময় বদরখালী-মহেশখালী সেতুতে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে হাজার হাজার যাত্রীরা।  মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে  জড়িতদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আশ্বস্ত করলে সড়ক থেকে ব্যারিকেড তুলে নেয় ছাত্র-জনতা।
গত ৫ জানুয়ারী রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় বেড়িবাঁধের প্যারাবনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বাঁশখালী থেকে বাড়িতে যাওয়ার পথে গাড়ি নষ্ট হয়েছে বলে বদরখালী সেতুর ওপর অটোরিকশা চালক তাকে নামিয়ে দেন। এরপর কিশোরী পায়ে হেঁটে সেতু পার হচ্ছিল। এ সময় সেতুর পূর্ব অংশে দুজন যুবক তার গতি রোধ কর। পরে আরেকজন যুবক এসে ছুরি ধরে ভয় দেখিয়ে তার মুখ চেপে ধরে বেড়িবাঁধের প্যারাবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে চার থেকে আটজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরলে সে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের সড়কে উঠে চিৎকার দিয়ে লোক জড়ো করে। পরে স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান।
ওই দিন দিবাগত রাত একটার দিকে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ওই কিশোরী। তার অবস্থা এখনো স্থিতিশীল নয়।
ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সাথে তাকে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, সকাল সাড়ে ১০ টায় মহেশখালীর শাপলাপুর এলাকা থেকে ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীমউদ্দিন।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো এজাহার দায়ের করা হয়নি জানিয়ে জসীম উদ্দিন বলেন, তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটককৃতরা হলেন বদরখালীর মো. আবছার উদ্দিনের ছেলে সজীব, বশির আহমদের ছেলে ছোটন, জিয়াবুলের ছেলে তাজুল। তারা সকলে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানান চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভুইয়া।
অভিযুক্তদের আটকে পুলিশকে সহায়তাকারী স্থানীয় যুবদল নেতা বুলবুল আহমদ জানান, আজ সকালে গোপন সূত্রে তিনি খবর পান ওই তিনজন শাপলাপুরের একটি মৎস্য ঘেরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনার সাথে যারাই জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হবে।