১০:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কচ্ছপের গতিতে চলছে পাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু হলের ইন্টারনেট

প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে যেখানে ইন্টারনেট শিক্ষা ও গবেষণার প্রধান অনুষঙ্গ, সেখানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ধীরগতির ইন্টারনেটের জালে বন্দি। প্রয়োজনীয় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া, গবেষণার তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ক্লাস কিংবা স্বাভাবিক বিনোদন সবকিছুতেই তাদের গতি থমকে গেছে এই ধীরগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থার কারণে। সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেদের এই সমস্যাকে ‘চলমান দৈনন্দিন ভোগান্তি’ হিসেবেই দেখছেন ।

হল ঘুরে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে রাউটারের সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও তার কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়। রাউটারের সিগন্যাল এতটাই দুর্বল যে পাশের রুমেও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। বিশেষত সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি আরও কমে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একসাথে অনেক ব্যবহারকারী সংযোগে থাকায় সার্ভার লোড নিতে পারে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া কিংবা গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা ডাউনলোড করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ফয়সাল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ইন্টারনেটের গতি এতই কম যে একটি সাধারণ ফাইল ডাউনলোড করতে দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া অনলাইনে ক্লাসের সময় খুব অসুবিধায় পড়তে হয় ।

আরেক শিক্ষার্থী রতন আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রতিদিনের কাজের বেশিরভাগই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে আমাদের পড়াশোনা ও গবেষণায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। রাতের বেলায় যখন ইন্টারনেটের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তখনই গতি কমে যায়। এমনকি ভিডিও কলও ঠিকমতো করা যায় না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম মিরু বলেন,”আমাদের হলে ইন্টারনেটের সমস্যা একটা সার্বজনীন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য বড় একটা বাজেট তৈরি করে তার কাগজ পত্র আমরা ভিসি স্যারের কাছে পাঠিয়েছি অনুমোদনের জন্য । হল প্রশাসন হলের প্রতিটি রুমে রুমে আলাদা করে রাউটার দেয়ার চেস্টা করছে, হয়তো জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে এ কাজ শুরু করতে পারবো।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

কচ্ছপের গতিতে চলছে পাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু হলের ইন্টারনেট

আপডেট সময় : ০৩:৫১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৫

প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে যেখানে ইন্টারনেট শিক্ষা ও গবেষণার প্রধান অনুষঙ্গ, সেখানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ধীরগতির ইন্টারনেটের জালে বন্দি। প্রয়োজনীয় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া, গবেষণার তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ক্লাস কিংবা স্বাভাবিক বিনোদন সবকিছুতেই তাদের গতি থমকে গেছে এই ধীরগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থার কারণে। সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেদের এই সমস্যাকে ‘চলমান দৈনন্দিন ভোগান্তি’ হিসেবেই দেখছেন ।

হল ঘুরে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে রাউটারের সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও তার কার্যকারিতা আশানুরূপ নয়। রাউটারের সিগন্যাল এতটাই দুর্বল যে পাশের রুমেও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায় না। বিশেষত সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি আরও কমে যায়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একসাথে অনেক ব্যবহারকারী সংযোগে থাকায় সার্ভার লোড নিতে পারে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া কিংবা গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা ডাউনলোড করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ফয়সাল আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “ইন্টারনেটের গতি এতই কম যে একটি সাধারণ ফাইল ডাউনলোড করতে দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া অনলাইনে ক্লাসের সময় খুব অসুবিধায় পড়তে হয় ।

আরেক শিক্ষার্থী রতন আহমেদ বলেন, “আমাদের প্রতিদিনের কাজের বেশিরভাগই ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। অথচ এই ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে আমাদের পড়াশোনা ও গবেষণায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। রাতের বেলায় যখন ইন্টারনেটের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তখনই গতি কমে যায়। এমনকি ভিডিও কলও ঠিকমতো করা যায় না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম মিরু বলেন,”আমাদের হলে ইন্টারনেটের সমস্যা একটা সার্বজনীন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে । আর এ সমস্যা সমাধানের জন্য বড় একটা বাজেট তৈরি করে তার কাগজ পত্র আমরা ভিসি স্যারের কাছে পাঠিয়েছি অনুমোদনের জন্য । হল প্রশাসন হলের প্রতিটি রুমে রুমে আলাদা করে রাউটার দেয়ার চেস্টা করছে, হয়তো জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে এ কাজ শুরু করতে পারবো।”