ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেন-নসিমন সংঘর্ষে এক নসিমন চালক নিহত হয়েছে।
নিহতের নসিমন চালকের নাম সুজন মিয়া (২৪)। সে বোয়ালমারী পৌরসভার গুনবহা গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চতুল চিতাঘাটা মুন্সিবাড়ি রেলগেট (অরক্ষিত রেলক্রসিং) এলাকায় রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের সঙ্গে নসিমনের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রিফাত (২০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত নসিমন চালক সুজন মিয়াসহ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক দুর্ঘটনা কবলিত সিমেন্ট বোঝাই নসিমনে যাত্রী হয়ে পার্শ্ববর্তী তেলজুড়ি গ্রামে কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। এ সময় টুঙ্গিপাড়া থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের সাথে চতুল মুন্সীবাড়ি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় নসিমনের সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষে নিহত সুজন মিয়ার দেহ থেকে দুই পা বিছিন্ন হয়ে যায়। মারাত্মক আহত সুজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায় চিকিৎসকরা। ঢাকায় নেওয়ার পথে সহস্রাইল বাজার এলাকায় মারা যায় সুজন।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ট্রেন দূর্ঘটনার সুজন নামে একজন আহত রোগি এসেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শুনেছি তিনি পথেই মারা গেছেন।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজবাড়ি রেলওয়ে থানা পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক আব্দুল করিম জানান, বোয়ালমারীতে দূর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের একটি টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তাদের সরেজমিন প্রতিবেদনের উপর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে অহরহ দূর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ আগে ফরিদপুর জেলা সদরের মুন্সীবাজার এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিং-এ দূর্ঘটনায় ৬জন মারা যায়। এ ঘটনায় তদন্ত টিম কাজ করছে। অরক্ষিত রেলক্রসিং এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করাসহ কিভাবে দূর্ঘটনা এড়ানো যায় সে বিষয়ে রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছেন।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশ উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ বলেন – দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মৃতদেহ দাফন-কাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




















