নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোককারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী লোকজ মেলার উদ্ধোধন করা হয়েছে।
১৮ শনিবার বিকেলে এ মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এর আগে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্রেষ্ট দিয়ে অতিথিদের সম্মাননা জানানো হয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে লোকজ মেলার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমান ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হেলাল উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মিজ ফারজানা রহমান, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক, ট্যুরিষ্ট পুলিশ, ঢাকা রিজিয়ন, সোনারগাঁ থানার ওসি মো. আব্দুল বারী, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক একেএম আজাদ সরকার, রেজিষ্ট্রেশন অফিসার একেএম মোজাম্মিল হক মাসুদ, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুকুল, সোনারগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আবুল কালাম, সোনারগাঁ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ প্রমূখ।
উল্লেখ্য, আয়োজিত মাসব্যাপী এ লোককারুশিল্প মেলায় কারুশিল্প প্রদর্শনী, লোকজ প্রদর্শনী, পুতুল নাচ, বায়স্কোপ, নাগরদোলা, গ্রামীণ খেলাসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিদিন লোকজ মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলা, কারুশিল্পীর কারু পণ্যের প্রদর্শনী থাকবে মেলায়। রয়েছে মাসব্যাপী প্রতিদিনের সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানমালায় লোকজ মঞ্চে বাউল গান, পালাগান, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি গান, হাছন রাজার গান, শাহ আব্দুল করিমের গান, লালন সঙ্গীত, ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ নৃত্যনাট্য, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, ঘুড়ি ওরানো, চর্যা গান, লোকগল্প বলা ইত্যাদি।
ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, দেশীয় সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে কর্মরত কারুশিল্পী প্রদর্শনী, লোকজীবন প্রদর্শনী, পুতুল নাচ, বায়স্কোপ, নাগরদোলা, গ্রামীন খেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পীদের তৈরি বাহারি পণ্যসামগ্রী এবং উদ্যোক্তাগণের কারুপন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। এবারের মেলায় কারুশিল্প প্রদর্শনীর ৩২টি স্টলসহ ১০০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খ্যাতনামা প্রথিতযশা ৬৪জন কারুশিল্পীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। সোনারগাঁয়ের কারুশিল্পের কারুকাজ, হাতি-ঘোড়া, মমি পুতুল, জামালপুরের তামা-কাঁসা-পিতলের শৌখিন সামগ্রী, সোনারগাঁয়ের বাহারি জামদানি শিল্প,
মৌলভীবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শীতল পাটি, মাগুরা ও ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি ও মৃৎশিল্প, কক্সবাজারের ঝিনুক শিল্প, রংপুরের শতরঞ্জি শিল্প, ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশের কারুশিল্প, কাঠের চিত্রিত হাতি-ঘোড়া-পুতুল, কুমিল্লার খাদিশিল্প, তামা-কাঁসা-পিতলের কারুশিল্প, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারুশিল্প, কিশোরগঞ্জের টেরাকোটা পুতুল, বগুড়ার লোকজ খেলনা ও বাদ্যযন্ত্র, ঢাকার কাগজের শিল্প, রাজশাহীর মৃৎশিল্প, শখের হাঁড়ি, বাটিক শিল্প, খাঁদিশিল্প, মণিপুরী তাঁতশিল্প, টাঙ্গাইলের বাঁশ-বেতের কারুপণ্য, সিলেটের বেতশিল্প, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুজনি কাঁথা, মাগুড়া ও ঝিনাইদহের শোলাশিল্প, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, পাটজাত কারুপণ্য, লোকজ অলংকার শিল্প, নাগর দোলা, বায়স্কোপ ও মিঠাই-মণ্ডার পসরা থাকবে স্টলগুলোতে। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।























