০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

শাহবাগে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও এহেন ন্যাক্কারজনক হামলার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৭ জানুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ারর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে যেয়ে সংক্ষিপ্ত ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে একদেশে দুইনীতি, মানিনা মানবো না; আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই; এটা আমাদের চাওয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার; ইবতেদায়ী জাতীয়করণ করতে হবে করতে হবে ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি কাইয়ুম হোসেন, ইবি সেক্রেটারি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রাহাত, শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা জাকারিয়া, তালাবার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন, সহ অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

বক্তারা বলেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে শাহবাগে যে আন্দোলন হয়েছে  সরকারের উচিত ছিল তা মেনে নেওয়া। কিন্তু পেটুয়া বাহিনী লাঠিচার্জ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলো, অসংখ্য মানুষকে আহত করল। এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতি করা এই বৈষম্য আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।

তালাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি একটি ন্যায্য দাবি। যুগ যুগ ধরে ইবতেদায়ীর শিক্ষকদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় যদি সরকারি হতে পারে তাহলে ইবতেদায়ী মাদরাসা কী দোষ করলো। শিক্ষকরা তো কোনও অযৌক্তিক দাবি নিয়ে দাড়ায়নি। তাহলে কীভাবে পুলিশের সাহস হলো, নিরস্ত্র শিক্ষকদের লাঠি চার্জ করার। এই দাবি না মানা মূলত দেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তালাবায়ে আরাবিয়া দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই দাবি  নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু তাদের দাবিকে গ্রহণ করা তো দূরের কথা ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে আন্দোলনকে থামানোর চেষ্টা করেছে।

তালাবার কেন্দ্রীয় সভাপতি কাইয়ুম হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট কায়দায় জাতির বিবেকের উপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ৪০ বছর যাবত যে শিক্ষকেরা বেতন পাননি আমরা তাদের পক্ষ হয়ে এখানে কথা বলতে এসেছি। এই দাবিটি কারো একার দাবি নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকের দাবি। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তালাবায়ে আরাবিয়া নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। এটি কোন রাজনৈতিক দলের দাবি নয় এটি বাংলাদেশের তৌহিদি জনতার দাবি। যতদিন পর্যন্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ না হবে ততদিন আমরা ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজদের হাত থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে চাই -ডা. শফিকুর রহমান

মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০১:১০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

শাহবাগে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের উপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ ও এহেন ন্যাক্কারজনক হামলার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৭ জানুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ারর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে যেয়ে সংক্ষিপ্ত ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে একদেশে দুইনীতি, মানিনা মানবো না; আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাই নাই; এটা আমাদের চাওয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার; ইবতেদায়ী জাতীয়করণ করতে হবে করতে হবে ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি কাইয়ুম হোসেন, ইবি সেক্রেটারি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রাহাত, শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা জাকারিয়া, তালাবার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন, সহ অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

বক্তারা বলেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে শাহবাগে যে আন্দোলন হয়েছে  সরকারের উচিত ছিল তা মেনে নেওয়া। কিন্তু পেটুয়া বাহিনী লাঠিচার্জ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলো, অসংখ্য মানুষকে আহত করল। এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রতি করা এই বৈষম্য আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।

তালাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের দাবি একটি ন্যায্য দাবি। যুগ যুগ ধরে ইবতেদায়ীর শিক্ষকদের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় যদি সরকারি হতে পারে তাহলে ইবতেদায়ী মাদরাসা কী দোষ করলো। শিক্ষকরা তো কোনও অযৌক্তিক দাবি নিয়ে দাড়ায়নি। তাহলে কীভাবে পুলিশের সাহস হলো, নিরস্ত্র শিক্ষকদের লাঠি চার্জ করার। এই দাবি না মানা মূলত দেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষাকে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তালাবায়ে আরাবিয়া দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই দাবি  নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু তাদের দাবিকে গ্রহণ করা তো দূরের কথা ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে আন্দোলনকে থামানোর চেষ্টা করেছে।

তালাবার কেন্দ্রীয় সভাপতি কাইয়ুম হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট কায়দায় জাতির বিবেকের উপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ৪০ বছর যাবত যে শিক্ষকেরা বেতন পাননি আমরা তাদের পক্ষ হয়ে এখানে কথা বলতে এসেছি। এই দাবিটি কারো একার দাবি নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকের দাবি। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তালাবায়ে আরাবিয়া নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। এটি কোন রাজনৈতিক দলের দাবি নয় এটি বাংলাদেশের তৌহিদি জনতার দাবি। যতদিন পর্যন্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ না হবে ততদিন আমরা ঘরে ফিরব না ইনশাআল্লাহ।