নগরের মোহরা এলাকার বাসিন্দা আহমদ উল্লাহ তার ৬ সপ্তাহ বয়সী শিশুকে টিকা
দিতে নিয়ে যান মোহরা অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে। তবে পোলিও টিকা দিলেও
পিসিভি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা দিতে পারেননি তিনি। টিকাদান কেন্দ্রে
দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান- সরবরাহ কম থাকায় মিলছে না এই দুই টিকা।
শুধু মোহরা এলাকা নয়, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে-নগর ও জেলার প্রায় সব
টিকাদান কেন্দ্রেই এখন পিসিভি ও পেন্টাভ্যালেন্ট টিকার সরবরাহ কম। এ কারণে
সন্তানকে টিকা দিতে গিয়ে ফেরত আসতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এ নিয়ে
দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পিসিভি (নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন) ব্যবহার হয়ে
থাকে শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধের জন্য। আর পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন
ব্যবহার হয়-ডিপথেরিয়া বা হুপিংকাশ (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস),
হিমোফিলিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি ও হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণ থেকে
শিশুদের রক্ষার জন্য। এ দুই ধরনের ভ্যাকসিন চট্টগ্রামের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত
সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দেয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির
(ইপিআই) আওতায় জন্মের পর থেকে ২৩ মাস বয়সের মধ্যে ১০টি বিভিন্ন রোগের
প্রতিষেধক হিসেবে শিশুদের ৭ ধরনের টিকা দেওয়া হয়। টিকাগুলো হলো বিসিজি,
ওপিডি বা পোলিও, আইপিভি, পিসিভি, পেন্টা ভ্যালেন্ট, এমআর-১ ও এমআর-২।
কিন্তু পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি টিকার সরবরাহ কম থাকলেও বাকি সবগুলো
ভ্যাকসিনই মজুদ রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ গত ১৫ জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম জেলার জন্য ৪০
হাজার পেন্টাভ্যালেন্ট ও ১০ হাজার পিসিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। যা জেলা
ইপিআই কেন্দ্রে সংগ্রহ করে তা নগরসহ সব উপজেলায় সরবরাহ করা হয়েছে।
বর্তমানে বেশিরভাগ টিকাদান কেন্দ্রেই সব ধরনের ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। তবে
কিছু কিছু কেন্দ্রে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি রয়েছে। যদিও তা অন্য কেন্দ্র
থেকে নিয়ে পূরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী মাস
থেকে এ সংকটের সমাধান হবে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন
রানা বলেন, পেন্টাভ্যালেন্ট ও পিসিভি- এ দুই ধরনের ভ্যাকসিনের সরবরাহ কম।
কিছুটা সংকট আছে। সরবরাহ ঠিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে
যোগাযোগ করছি। এ সপ্তাহে আরও কিছু ভ্যাকসিন আসবে বলে জানানো
হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগে
কিছু সংকট ছিল। তবে এখন আর নেই। সব উপজেলায় সরবরাহ আছে। যদিও
চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিন আসছে কম। আগামী মাস থেকে সব ভ্যাকসিন পাওয়া
যাবে।





















