কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১ লাখেরও বেশি শিশু টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত। জম্মের পর শিশুদের যক্ষা,ডিপথেরিয়া,হুপিং কাশি,টিটেনাস,হেপাটাইটিস বি, হেমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা,নিউমোনিয়া,পোলিও মায়োলাইটিস, রুবেলা ও হাম এর টিকা দেওয়ার নিয়ম নীতি থাকলেও কুমিল্লা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের চৌদ্দগ্রাম,নাঙ্গলকোট,লাকসাম,মনোহরগন্জ,সদর দক্ষিণ,লালমাই,বরুড়া ও বুড়িচং উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণের টিকা না থাকায় সঠিক সময়ে সেবা গ্রহন করতে পারছেন না শিশুরা। এদিকে জম্মের পর শিশুরা টিকা গ্রহন না করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান গোমতী হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.মুজিবুর রহমান। তিনি আমার দেশ প্রতিবেদককে আরো বলেন- সঠিক সময়ে শিশুর টিকাদান না হলে, ওদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং নতুন করে রোগের প্রাদুর্ভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কুমিল্লা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের মনোহরগন্জ,লাকসাম ও লালমাই উপজেলা সমূহে দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কমও নয়। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় বঞ্চিত দরিদ্র শিশু পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগত ভাবে টিকা ক্রয় করে শিশুদের টিকা প্রয়োগ করার ক্ষমতা অধিকাংশ পরিবারের নেই। শিশুদের টিকার বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা(সিভিল সার্জন) ডা. রেজা মো. সারওয়ার বলেন- শুধু কুমিল্লাতে নয়,দেশের অধিকাংশ উপজেলায় পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে,সংখ্যা দিক থেকে টিকার চেয়ে শিশু বেশি হওয়া’য় আমরা অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। তিনি আরো বলেন-কুমিল্লা জেলার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৭ জন কিশোরীকে কয়েকমাস পূর্বে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪০ জন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১০ হাজার ৩২৭ কিশোরীকে বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোক্তভোগী ফাতেমা আক্তার লিনা জানান- আমার ৩ বছরের শিশু বাচ্চাকে কয়েকবার কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দিতে নিয়ে গেলে সেখানে পর্যাপ্ত টিকা নেই বলে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর জানান। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন- সময়মতো টিকাদান বলতে নির্দিষ্ট বয়সে যেসব টিকা দেয়া প্রয়োজন, তা দেয়া বোঝায়। যেমন সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই বিসিজি (যক্ষ্মা) ও পোলিওর টিকা দেওয়া সবচেয়ে ভালো। এসব টিকা সময়ের পর শিশুকে প্রয়োগ করিলে টিকার কার্যকারিতা হারায়। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। যদি সঠিক সময়ে সরকার সর্বত্র হাসপাতালে পর্যাপ্ত টিকা পৌছানোর ব্যবস্থা করে তাহলে শিশুরা রোগমুক্ত জীবন গড়বে।
শিরোনাম
কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষাধিক শিশু টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত
-
কুমিল্লা প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৫
- ।
- 158
জনপ্রিয় সংবাদ




















