সঠিক পরিকল্পনা ও ইচ্ছা শক্তি থাকলেই জীবনে সফলতা সম্ভব। যার বাস্তব উদহারণ বিপুল হোসেন। ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করেন। আর্থিক অনটনের কারণে আর লেখা-পড়া করা হয়নি। সংসারের হাল ধরতে তিনি
কাঠের ব্যবসায় নেমে পড়েন। পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে কাঠ থেকে আইসক্রিমের কাঠি তৈরিতে আগ্রহ তৈরি হয়।
গত ২০১১ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলার তারানিবাস গ্রামর গড়ে তোলেন বিপুল ট্রেডিং নামে একটি কাঠি তৈরি কারখানা। ১টি কাটিং ও ১ টি ফিলিং মেশিন নিয়ে কাজ শুরুর পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। এখন তার কারখানায় একাধিক কাটিং ফিলিং মেশিন যুক্ত হয়েছে। সেখানে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। সফল উদ্যোক্তা বিপুল হোসেন চৌগাছা পৌরসভার মৃধাপাড়ার মৃত শমসের বিশ্বাসের ছেলে। আইসক্রিমের কাঠি তৈরি করে বিপুল হোসেন স্বাবলম্বী ।
উদ্যোক্তা বিপুল জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষায় পাসের পর ১০ ভাইবোনের সংসারে তার আর লেখাপড়া করা হয়নি। ফলে শুরু করেন কাঠের ব্যবসা। কাঠ ব্যবসার সুযোগে পরিচিত হয় এক আইসক্রিমের কাঠি তৈরি কারখানা মালিকের সাথে। কাঠ থেকে কাঠি তৈরির কাজটি বেশ ভালো লাগে তার। ঐ কারখানার মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পারেন ব্যবসাটি যথেষ্ট লাভজনক। পরে তিনি কাঠ থেকে আইসক্রিমের কাঠি তৈরি কারখানা তৈরি করেন।
বিপুল আরও জানান, তার্নিবাস গ্রামে ১৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেন আইসক্রিমের কাঠি তৈরির কারখানা। বর্তমানে তার কারখানাটি স্থানান্তর করেছেন মাসিলা গ্রামে। কারখানাকে কেন্দ্র করে কাঠ ব্যবসায়ী, ‘স’ মিল শ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক ও কারখানা শ্রমিক সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৬০ বেকারের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ২ শাতাধিক নারী পুরুষের।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্দিষ্ট মাপের কাঠের খন্ড প্রথমে ফিলিং মেশিনে দিয়ে পাতলা কাঠের পাতে পরিণত করা হয়। পরে এই পাত, কাটিং মেশিনে দিয়ে ছোট ছোট কাঠিতে পরিণত করা হয়। এরপর একটি ড্রামে ঢুকিয়ে কাঠিগুলোকে পালিশ করে রোদে শুকানো হয়। কারখানাতে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ কাঠি তৈরি করা হয়। বিপুল বলেন, আইসক্রিমের কাঠি তৈরি করতে কাঁচামাল হিসেবে কদম, আমড়া, ছাতিম, ভাটাম জাতীয় নরম কাঠ ব্যবহার করা হয়। তিনি কাঠি তৈরিতে ভাটাম (স্থানীয় নাম পেট্রল) গাছের কাঠ ব্যবহার করেন। কাঠি তৈরির কারখানাটি মেশিন নির্ভর হলেও কাটিং, গ্রেডিং, বান্ডিল ও প্যাকেটজাত করতে বেশ লোকের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় ৩ শতাধিক বেকার পুরুষ ও নারীরা তার কারখানায় সানন্দে কাজ করেন। শ্রমিকদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেয়া হয়।
প্যাকেটজাতকরণ কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিক মমতাজ বেগম, মনোয়ারা বেগম, শ্যমালী খাতুন বলেন, তাদের বাড়িতে সংসারের কাজের ফাঁকে বাড়িতে বসেই বাড়তি আই করতে পেরে তারা খুশি। তারা জানায় কারখানার মালিক কাঠিগুলো তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। গ্রেডিং এবং বান্ডিলের কাজ শেষ হলে কারখানার নির্ধারিত গাড়িতে সেগুলো পাঠিয়ে দেন।
কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই কারখানায় তারা সাচ্ছন্দে কাজ করেন। মালিক তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেন।
সফল উদ্যোক্তা বিপুল হোসেন জানিয়েছেন,
নারীরা ঘরে বসে কাঠি গ্রেডিং, বান্ডিল বাঁধা ও পাকেটজাতকরণের কাজ করেন। প্রতি বান্ডিলে ১ হাজার কাঠি থাকে। এক বান্ডিল কাঠি তৈরিতে ৩২/৩৩ টাকা খরচ হয় এবং [email protected] তা বিক্রি করা হয় ৩৪/৩৫ টাকায়। কারখানায় উৎপাদিত কাঠি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। কারখানার মেশিন ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য খুব বেশি নয়। তাই মেধা ও শ্রম দিতে পারলে অল্প পুঁজিতে এ শিল্পে যথেষ্ট লাভ করা সম্ভব।
























