০৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নানাকৌশলে সংগঠিত হতে চাই আওয়ামিলীগ : প্রতিরোধে প্রস্তুত বিএনপি-জামায়াত ও ছাত্র-জনতা

Oplus_131072

সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারের ও সংগঠিত হতে চাই আওয়ামীলীগ। ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ, গোপন মিটিং এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগ তাদের অবস্থান জানান দিতে চাই।
গত ৫ আগস্ট, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যায়। সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারে আওয়ামিলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মিরা ও পালিয়ে যায়। গুটিকয়েক নেতা আটক হলেও বেশির ভাগ নেতা মামলা হামলার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি রাতে দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে হঠাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতালের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই ফেসবুক কর্মসূচিতে মোট ১০টি দাবিতে ১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরতাল অবরোধসহ মোট ৫ ধরনের কর্মসূচির ঘোষণাদেয় আওয়ামী লীগ।
তারই প্রেক্ষিতে গত ৩০ জানুয়ারি, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ হঠাৎ কক্সবাজার শহরে ঝটিকা মিছিল করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন ওয়ার্ডে গোপন মিটিং ও লিফলেট বিতরণ করেছে আওয়ামীলীগ এমন খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
আওয়ামী লীগের ফেসবুক কর্মসূচী নিয়ে কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বাপ্না বলেন, আওয়ামীলীগের ভুয়া কর্মসুচী সম্পর্কে আমরা নজর রাখছি। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আওয়ামিলীগ আর সংঘটিত হতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচীর প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও সকল সহযোগী সংগঠন আজ ঐক্যবদ্ধ।
ছাত্র শিবির কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি আবদু রহিম বলেন, আমরাও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর শুনতে পাচ্ছি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মাঠে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাই। আমরা কক্সবাজারের আপামর জনতা জুলাই আগস্টের মতো শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবো। আওয়ামী দুঃশাসনের কথা এদেশের মানুষ সহজে ভুলবে না। তারা পুনরায় সংঘটিত হতে চাইলে আমরা তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবো।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজার জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুুর রহমান বলেন, আমরা প্রস্তুত, আমরা দেখতে চাই আওয়ামিলীগ কি করে রাজপথে নামে, কি করে তারা তাদের কর্মসূচী পালন করে দেখতে চাই। ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীরা তাদের সকল শক্তি দিয়ে আওয়ামী ফ্যসিস্টদের রুখে দাঁড়াবে। গত ৩০ তারিখ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল করার খবর পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজারের সকল নেতাকর্মীরা হুশিয়ার করে দিয়েছে এরকম যদি আবার কিছু করতে চাই পালিয়েও বাঁচতে পারবে না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কক্সবাজারের সমন্বয়ক সাহেদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, পাঁচ সেকেন্ডের সময় নিয়ে ঝটিকা মিছিল করে তারা কি প্রমান করতে চাই? রাজপথ দখল নেবে? তারা এখনো বোকার স্বর্গে বাস করছে। আমি ছাত্রলীগের উদ্দেশ্য বলতে চাই, শান্ত শহর কক্সবাজারকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে এর ফল ভালো হবে না। জুলাই আন্দোলনের কথা স্বরণ করিয়ে দিতে চায়।
কক্সবাজার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামীলীগের স্থান এই দেশে আর হবে না। আমরা অন্তবর্তী সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি ছাত্রলীগের মতো আওয়ামীলীগ ও তাদের সকল অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হোক।
কক্সবাজার শহরে ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান, জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহাদুর, ঝিলংজা চেয়ারম্যান টিপু সোলতান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক, বর্তমান সভাপতি সাদ্দাম, সাধারণ সম্পাদক মারুফ, সহসভাপতি মইন, তানিম, আবদুল খালেক, মোনাফ, রাজিব, মুন্না চৌধুরী, সাজ্জাদ শুভ, জাকের, হাসান তারেক, হিমন, রুবাইছুর রহমান, সাবেক কাউন্সিল নোবেল, মাশেকুর রহমান বাবু সহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে উপদেষ্টাদের অসন্তোষ

নানাকৌশলে সংগঠিত হতে চাই আওয়ামিলীগ : প্রতিরোধে প্রস্তুত বিএনপি-জামায়াত ও ছাত্র-জনতা

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারের ও সংগঠিত হতে চাই আওয়ামীলীগ। ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ, গোপন মিটিং এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগ তাদের অবস্থান জানান দিতে চাই।
গত ৫ আগস্ট, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যায়। সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারে আওয়ামিলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মিরা ও পালিয়ে যায়। গুটিকয়েক নেতা আটক হলেও বেশির ভাগ নেতা মামলা হামলার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
গত ২৮ জানুয়ারি রাতে দলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে হঠাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতালের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই ফেসবুক কর্মসূচিতে মোট ১০টি দাবিতে ১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরতাল অবরোধসহ মোট ৫ ধরনের কর্মসূচির ঘোষণাদেয় আওয়ামী লীগ।
তারই প্রেক্ষিতে গত ৩০ জানুয়ারি, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ হঠাৎ কক্সবাজার শহরে ঝটিকা মিছিল করতে দেখা যায়।
বিভিন্ন ওয়ার্ডে গোপন মিটিং ও লিফলেট বিতরণ করেছে আওয়ামীলীগ এমন খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
আওয়ামী লীগের ফেসবুক কর্মসূচী নিয়ে কথা বলছিলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বাপ্না বলেন, আওয়ামীলীগের ভুয়া কর্মসুচী সম্পর্কে আমরা নজর রাখছি। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আওয়ামিলীগ আর সংঘটিত হতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচীর প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও সকল সহযোগী সংগঠন আজ ঐক্যবদ্ধ।
ছাত্র শিবির কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি আবদু রহিম বলেন, আমরাও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর শুনতে পাচ্ছি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মাঠে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাই। আমরা কক্সবাজারের আপামর জনতা জুলাই আগস্টের মতো শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবো। আওয়ামী দুঃশাসনের কথা এদেশের মানুষ সহজে ভুলবে না। তারা পুনরায় সংঘটিত হতে চাইলে আমরা তাদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবো।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজার জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুুর রহমান বলেন, আমরা প্রস্তুত, আমরা দেখতে চাই আওয়ামিলীগ কি করে রাজপথে নামে, কি করে তারা তাদের কর্মসূচী পালন করে দেখতে চাই। ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীরা তাদের সকল শক্তি দিয়ে আওয়ামী ফ্যসিস্টদের রুখে দাঁড়াবে। গত ৩০ তারিখ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল করার খবর পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজারের সকল নেতাকর্মীরা হুশিয়ার করে দিয়েছে এরকম যদি আবার কিছু করতে চাই পালিয়েও বাঁচতে পারবে না।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কক্সবাজারের সমন্বয়ক সাহেদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, পাঁচ সেকেন্ডের সময় নিয়ে ঝটিকা মিছিল করে তারা কি প্রমান করতে চাই? রাজপথ দখল নেবে? তারা এখনো বোকার স্বর্গে বাস করছে। আমি ছাত্রলীগের উদ্দেশ্য বলতে চাই, শান্ত শহর কক্সবাজারকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে এর ফল ভালো হবে না। জুলাই আন্দোলনের কথা স্বরণ করিয়ে দিতে চায়।
কক্সবাজার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আলমগীর চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামীলীগের স্থান এই দেশে আর হবে না। আমরা অন্তবর্তী সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি ছাত্রলীগের মতো আওয়ামীলীগ ও তাদের সকল অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হোক।
কক্সবাজার শহরে ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার ঘটনায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান, জেলা যুবলীগ সভাপতি সোহেল আহমেদ বাহাদুর, ঝিলংজা চেয়ারম্যান টিপু সোলতান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক, বর্তমান সভাপতি সাদ্দাম, সাধারণ সম্পাদক মারুফ, সহসভাপতি মইন, তানিম, আবদুল খালেক, মোনাফ, রাজিব, মুন্না চৌধুরী, সাজ্জাদ শুভ, জাকের, হাসান তারেক, হিমন, রুবাইছুর রহমান, সাবেক কাউন্সিল নোবেল, মাশেকুর রহমান বাবু সহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।