১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পুলিশ খুঁজছে ‘যুবদল নেতা’ সোহেলকে চট্টগ্রামে চাঁদার জন্য গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণ

 

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় চাঁদার টাকা না পাওয়ার জের ধরে এক গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পর ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছে। অন্যদিকে, ‘জেনেও চুপ থাকার’ অপরাধে নগর ছাত্রদলের শীর্ষ এক নেতাকে শোকজ করেছে কেন্দ্র।শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার বিসিক শিল্প এলাকার আজিম গ্রুপের কারখানার সামনে অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। অপহরণের শিকার ভুক্তভোগীর নাম শফিউল আলম। তিনি আজিম গ্রুপের গার্মেন্টেসে সিনিয়র সুপার ভাইজার পদে কর্মরত আছেন।  অভিযুক্তরা হলেনচান্দগাঁও থানা যুবদল নেতা মো. সোহেল ও থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলফাজ। জানা গেছে, তাদের দুজনের নেতৃত্বে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত শফিউলকে তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এদিকে, চাঁদা দাবির বিষয়টি কেন্দ্র থেকে অবহিত করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। তবে সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে ছাত্রদল নেতা আলফাজের কোনো সম্পৃক্ততা পাইনি। এরপরও এটি অধিকতর তদন্ত করছি। আলফাজের সাথে কথা হলে আলফাজ জানিয়েছেনতার সংশ্লিষ্টতা নাই। তার বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ পুলিশের অভিযানে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পরপরই একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ছুটি শেষে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তার উপর থেকে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন তাকে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে। সেখান থেকে চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি টেকবাজার রেললাইনের সামনে নামিয়ে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে মারধর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানালে পরিবার চান্দগাঁও থানায় অবহিত করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে অপহরণকারীরা পুলিশের অবস্থান টের পেরে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় আসামিদের একজনের নাম সোহেল বলে ভুক্তভোগী জানতে পেরেছেন। সোহেল যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে ভুক্তভোগীর ছেলে  আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাঁদার জন্য গতকাল রাতে তাকে তুলে নিয়ে যায়। একটি ভুয়া অভিযোগে কয়েকদিন ধরে তাকে বিরক্ত করছিলেন যুবদল নেতা সোহেল ও ছাত্রদল নেতা আলফাজ। এ বিষয়ে দুদিন আগে কেন্দ্রীয় ও মহানগর ছাত্রদল নেতাদের জানালেও কোনো কাজ হয়নি। শনিবার রাতে তারা তুলে নিয়ে চাঁদা দাবি করে।’এর আগেও একবার তুলে নিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল জনিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তত  ৮০ হাজার টাকা হলেও তাদের দিতে বলেছিল। তারও আগে বাবার কাছ থেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির আমাকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনেকে অপকর্ম করছে। আমি এবং আমার দলের স্পষ্ট অবস্থান- অপরাধীদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না।’ চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) রাতে অভিযান চালিয়ে আধঘণ্টার মধ্যে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোহেল নামে একজনের নামে মামলা হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ খুঁজছে ‘যুবদল নেতা’ সোহেলকে চট্টগ্রামে চাঁদার জন্য গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণ

আপডেট সময় : ০৭:০২:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

 

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকায় চাঁদার টাকা না পাওয়ার জের ধরে এক গার্মেন্টস কর্মকর্তাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পর ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছে। অন্যদিকে, ‘জেনেও চুপ থাকার’ অপরাধে নগর ছাত্রদলের শীর্ষ এক নেতাকে শোকজ করেছে কেন্দ্র।শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার বিসিক শিল্প এলাকার আজিম গ্রুপের কারখানার সামনে অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। অপহরণের শিকার ভুক্তভোগীর নাম শফিউল আলম। তিনি আজিম গ্রুপের গার্মেন্টেসে সিনিয়র সুপার ভাইজার পদে কর্মরত আছেন।  অভিযুক্তরা হলেনচান্দগাঁও থানা যুবদল নেতা মো. সোহেল ও থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলফাজ। জানা গেছে, তাদের দুজনের নেতৃত্বে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত শফিউলকে তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এদিকে, চাঁদা দাবির বিষয়টি কেন্দ্র থেকে অবহিত করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে। তবে সাইফুল আলম বলেন, ‘আমি প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে ছাত্রদল নেতা আলফাজের কোনো সম্পৃক্ততা পাইনি। এরপরও এটি অধিকতর তদন্ত করছি। আলফাজের সাথে কথা হলে আলফাজ জানিয়েছেনতার সংশ্লিষ্টতা নাই। তার বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ পুলিশের অভিযানে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের পরপরই একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে ছুটি শেষে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তার উপর থেকে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন তাকে টেনে হিঁচড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে। সেখান থেকে চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি টেকবাজার রেললাইনের সামনে নামিয়ে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে মারধর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানালে পরিবার চান্দগাঁও থানায় অবহিত করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর আগে অপহরণকারীরা পুলিশের অবস্থান টের পেরে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় আসামিদের একজনের নাম সোহেল বলে ভুক্তভোগী জানতে পেরেছেন। সোহেল যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে ভুক্তভোগীর ছেলে  আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাঁদার জন্য গতকাল রাতে তাকে তুলে নিয়ে যায়। একটি ভুয়া অভিযোগে কয়েকদিন ধরে তাকে বিরক্ত করছিলেন যুবদল নেতা সোহেল ও ছাত্রদল নেতা আলফাজ। এ বিষয়ে দুদিন আগে কেন্দ্রীয় ও মহানগর ছাত্রদল নেতাদের জানালেও কোনো কাজ হয়নি। শনিবার রাতে তারা তুলে নিয়ে চাঁদা দাবি করে।’এর আগেও একবার তুলে নিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল জনিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তত  ৮০ হাজার টাকা হলেও তাদের দিতে বলেছিল। তারও আগে বাবার কাছ থেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির আমাকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনেকে অপকর্ম করছে। আমি এবং আমার দলের স্পষ্ট অবস্থান- অপরাধীদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না।’ চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) রাতে অভিযান চালিয়ে আধঘণ্টার মধ্যে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের মধ্যে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোহেল নামে একজনের নামে মামলা হয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’