১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে বিয়ে বাড়ীতে খাবার নিয়ে বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে বাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

সোমবার (০৯জুন) বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ্ ইউনিয়নের গুদাশিমুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, আব্দুল মাজেদ সরদার, রিপন সরদার, রুকন সরদার, বাবু, লাভলু, আব্দুল মালেক, কনের নানা শহিদুল্লাহ, বাবুর্চি বুরুজ আহত হয়। এ সময় ৮ থেকে ১০ জন মহিলাসহ দু’পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত  হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস আগে  মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শোভাগাছা এলাকার আমিনুর আকন্দের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক তারেকের (২৪) সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পোশাক শ্রমিক আসাদুল ইসলামের মেয়ে আর্জিনার। বিয়ের সময় মেয়েকে ছেলের বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়নি। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়েকে বরের বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই হিসেবে মেয়ের বাবা আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে বরের বাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য খাবারের আয়োজন করেন। এ অনুষ্ঠানে পাড়ার প্রতিবেশীদেরকেও নিমন্ত্রণ করা হয়। নিমন্ত্রিত অতিথিদের দুপুর থেকে খাওয়ানো শুরু হয়। বর পক্ষের লোকজন বিকাল ৫ টার দিকে আসে। তারা এসে খাওয়া-দাওয়া শুরু করেন। এ সময় বর পক্ষের লোকজন প্রচুর পরিমাণে খাবার নষ্ট করছিলেন। এ সময় কনে পক্ষের লোকজন তাদেরকে খাবার নষ্ট করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা শুরু  হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন।

এ সময় বরের পক্ষের একজন ছেলে ও মেয়েকে আটকে রাখেন মেয়ের পক্ষের লোকজন। পরে তারা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওই ছেলে-মেয়েদের উদ্ধার করেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত কেউ নেই বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো.আলমাস হোসেন বলেন, আমি অন্য একটি দাওয়াতে ছিলাম। ঘটনার সময় ছিলাম না। খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে এসে শুনেছি খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেয়ের পক্ষের ৮-১০ জন আহত হয়েছে। আমি এসে বিয়ে বাড়িতে ছেলের পক্ষের লোকজনদের পায়নি।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলে পক্ষের লোকজনদের উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে বিয়ে বাড়ীতে খাবার নিয়ে বর-কনে পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় : ০১:৫৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে বাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

সোমবার (০৯জুন) বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ্ ইউনিয়নের গুদাশিমুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, আব্দুল মাজেদ সরদার, রিপন সরদার, রুকন সরদার, বাবু, লাভলু, আব্দুল মালেক, কনের নানা শহিদুল্লাহ, বাবুর্চি বুরুজ আহত হয়। এ সময় ৮ থেকে ১০ জন মহিলাসহ দু’পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত  হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকমাস আগে  মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের চর শোভাগাছা এলাকার আমিনুর আকন্দের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক তারেকের (২৪) সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পোশাক শ্রমিক আসাদুল ইসলামের মেয়ে আর্জিনার। বিয়ের সময় মেয়েকে ছেলের বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়নি। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে মেয়েকে বরের বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই হিসেবে মেয়ের বাবা আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়েকে বরের বাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য খাবারের আয়োজন করেন। এ অনুষ্ঠানে পাড়ার প্রতিবেশীদেরকেও নিমন্ত্রণ করা হয়। নিমন্ত্রিত অতিথিদের দুপুর থেকে খাওয়ানো শুরু হয়। বর পক্ষের লোকজন বিকাল ৫ টার দিকে আসে। তারা এসে খাওয়া-দাওয়া শুরু করেন। এ সময় বর পক্ষের লোকজন প্রচুর পরিমাণে খাবার নষ্ট করছিলেন। এ সময় কনে পক্ষের লোকজন তাদেরকে খাবার নষ্ট করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা শুরু  হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন।

এ সময় বরের পক্ষের একজন ছেলে ও মেয়েকে আটকে রাখেন মেয়ের পক্ষের লোকজন। পরে তারা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওই ছেলে-মেয়েদের উদ্ধার করেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত কেউ নেই বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো.আলমাস হোসেন বলেন, আমি অন্য একটি দাওয়াতে ছিলাম। ঘটনার সময় ছিলাম না। খবর পেয়ে বিয়ে বাড়িতে এসে শুনেছি খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেয়ের পক্ষের ৮-১০ জন আহত হয়েছে। আমি এসে বিয়ে বাড়িতে ছেলের পক্ষের লোকজনদের পায়নি।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলে পক্ষের লোকজনদের উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।