১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরী জুলির ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত প্রবাসী

সুন্দরী জুলির ফাঁদে পড়ে শাহিনুর নামের এক প্রবাসী সর্বশান্ত হয়েছেন। তার সাথে প্রেম-বিয়ে ও ইতালি পাঠানোর নামে জালে ফাঁসিয়ে জুলি নগদ ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দিশেহারা হয়ে শাহিনুর সুন্দরী জুলি বেগমের নামে যশোরের আদালতে মামলা করেও এখনো কোন সুফল পাননি। জুলি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলীর মেয়ে।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের কলিম আলীর ছেলে শাহিনুর মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে এসে বিদেশগামী কর্মী প্রেরণের কাজ করতেন। এক সময় ঢাকায় একটি মেডিকেল সেন্টারে পরিচয় হয় জুলি বেগমের সঙ্গে। ওই মেডিকেল সেন্টারে চাকরি করতেন জুলি। পরিচয়ের সূত্র ধরে সুন্দরী জুলির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালে বিয়ে করেন তারা। প্রেম-বিয়ের নাটকের পর শুরু হয় তার প্রতারণা। বিয়ের কয়েক মাস পর জুলি বেগম তাকে  শাহিনুর) ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে একাধিক কিস্তিতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নেন জুলি। শুরুতে কিছু ডকুমেন্ট দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও দীর্ঘ সময়েও ভিসা বা ফ্লাইটের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এরপর হঠাৎ করে একদিন জুলি জানান, তাকে (শাহিনুর) মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এই সময়েই শাহিনুরের কাছে আসতে শুরু করে একের পর এক প্রতারণার তথ্য।
শাহিনুর আলী আরও জানান, জুলি বেগম অতীতেও একাধিক ব্যক্তিকে প্রেম বা বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নিয়েছেন। এসব ঘটনায় অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ থানায় অভিযোগও করেছেন। বিভিন্নজনকে ফাঁদে ফেলে জুলি হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধ কোটি টাকারও বেশি। প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে শাহিনুর টাকা ফেরত চাইলে জুলি তালবাহানা শুরু করেন। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অস্বীকার করেন।
বিগত দিনে বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব ও থানায় কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি (শাহিনুর) গত ২ মে জুলি বেগমের নামে যশোর আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।  বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন ঝিকরগাছা থানার এএসআই জাকির হোসেন।
ভুক্তভোগী শাহিনুর জানান, জুলির ফাঁদে পড়ে তিনি সব হারিয়েছেন। নিঃস্ব হয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি প্রতারণার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জুলি বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার নিজ এলাকায় খোঁজ করা হলেও সাক্ষাত মেলেনি। ফলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার এএসআই জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জুলিকে একাধিকবার থানায় তলব করা হলেও তিনি আসেননি। তদন্ত কাজ এখনো চলমান। অল্প সময়ের মধ্যে  আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরী জুলির ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত প্রবাসী

আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
সুন্দরী জুলির ফাঁদে পড়ে শাহিনুর নামের এক প্রবাসী সর্বশান্ত হয়েছেন। তার সাথে প্রেম-বিয়ে ও ইতালি পাঠানোর নামে জালে ফাঁসিয়ে জুলি নগদ ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দিশেহারা হয়ে শাহিনুর সুন্দরী জুলি বেগমের নামে যশোরের আদালতে মামলা করেও এখনো কোন সুফল পাননি। জুলি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলীর মেয়ে।
যশোরের চৌগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের কলিম আলীর ছেলে শাহিনুর মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে এসে বিদেশগামী কর্মী প্রেরণের কাজ করতেন। এক সময় ঢাকায় একটি মেডিকেল সেন্টারে পরিচয় হয় জুলি বেগমের সঙ্গে। ওই মেডিকেল সেন্টারে চাকরি করতেন জুলি। পরিচয়ের সূত্র ধরে সুন্দরী জুলির সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালে বিয়ে করেন তারা। প্রেম-বিয়ের নাটকের পর শুরু হয় তার প্রতারণা। বিয়ের কয়েক মাস পর জুলি বেগম তাকে  শাহিনুর) ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেন। বিভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে একাধিক কিস্তিতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা নেন জুলি। শুরুতে কিছু ডকুমেন্ট দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও দীর্ঘ সময়েও ভিসা বা ফ্লাইটের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এরপর হঠাৎ করে একদিন জুলি জানান, তাকে (শাহিনুর) মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। এই সময়েই শাহিনুরের কাছে আসতে শুরু করে একের পর এক প্রতারণার তথ্য।
শাহিনুর আলী আরও জানান, জুলি বেগম অতীতেও একাধিক ব্যক্তিকে প্রেম বা বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নিয়েছেন। এসব ঘটনায় অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ থানায় অভিযোগও করেছেন। বিভিন্নজনকে ফাঁদে ফেলে জুলি হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধ কোটি টাকারও বেশি। প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে শাহিনুর টাকা ফেরত চাইলে জুলি তালবাহানা শুরু করেন। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অস্বীকার করেন।
বিগত দিনে বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব ও থানায় কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি (শাহিনুর) গত ২ মে জুলি বেগমের নামে যশোর আদালতে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।  বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন ঝিকরগাছা থানার এএসআই জাকির হোসেন।
ভুক্তভোগী শাহিনুর জানান, জুলির ফাঁদে পড়ে তিনি সব হারিয়েছেন। নিঃস্ব হয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি প্রতারণার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জুলি বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার নিজ এলাকায় খোঁজ করা হলেও সাক্ষাত মেলেনি। ফলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা থানার এএসআই জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জুলিকে একাধিকবার থানায় তলব করা হলেও তিনি আসেননি। তদন্ত কাজ এখনো চলমান। অল্প সময়ের মধ্যে  আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।