কিউবাতে ১৯৬২ সাল থেকে চালু হয়েছে কাপাবলাঙ্কা মেমোরিয়াল চেস টুর্নামেন্ট। কিউবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দাবাড়ু হোসে রাউল কাপাবলাঙ্কার স্মরণে প্রতি বছর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
তেমনি রাশিয়ার মস্কোতে ২০০৬ সাল থেকে আয়োজন করা হয় তাল মেমোরিয়াল চেস টুর্নামেন্ট। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মিখাইল তালের স্মৃতিতে এমন দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে রাশিয়ান দাবা ফেডারেশন।
বিখ্যাত এসব দাবাড়ুদের মতো এবার বাংলাদেশে প্রতি বছর আয়োজন করা হবে জিয়া মেমোরিয়াল গ্র্যান্ডমাস্টার দাবা টুর্নামেন্ট।
দেশের অন্যতম কিংবদন্তি প্রয়াত গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবেন তার স্ত্রী তাসনিম সুলতানা লাবণ্য। সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন।
গত বছর ৫ জুলাই দাবা খেলতে খেলতে হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল জিয়ার। দাবার বোর্ডের ওপরই পড়ে যান তিনি। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান জিয়া।
জিয়ার মৃত্যু দিন স্মরণে ৪ জুলাই শুরু হবে এই গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট। ভেন্যু বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন। চলবে ১২ জুলাই পর্যন্ত।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের দাবাড়ু। যারা এক সময় জিয়ার ছাত্র ছিলেন। রয়েছেন জিয়ার অনেক বন্ধু।
জিয়ার স্ত্রী লাবণ্য বলেন, “দেশের বাইরে জিয়ার অনেক ছাত্র। ওদের বেশিরভাগের এই সময়ে ফ্রান্সে একটা প্রতিযোগিতা রয়েছে। এখানে ভারতের জিএম নীলোৎপল দাস, সূর্যশেখর গাঙ্গুলীর খেলার কথা ছিল। কিন্তু ওরা ফোনে আমাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন। আসতে পারবেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে সব খোজখবর রাখছেন তারা।”
দেশের কোনও প্রতিযোগিতায় এবারই প্রথম বড় অঙ্কের প্রাইজমানি থাকছে। এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রাইজমানি ৫ লাখ টাকা।
লাবণ্য জানান, “আমি দীর্ঘদিন দেশে ছিলাম না। এরপর হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেডারেশন থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। এরপর স্পনসর পেয়েছি, সেখান থেকে ৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি দিচ্ছি।”
খেলা হবে ৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে। দেশের চার গ্র্যান্ডমাস্টারদের মধ্যে নিয়াজ মোরশেদ ও রিফাত বিন সাত্তার এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছেন অংশগ্রহণ। আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান, জিয়ার ছেলে তাহসিন তাজওয়ারসহ দেশের সেরা দাবাড়ুরা অংশ নেবেন।
গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব বর্তমানে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী সেখানে এমফিল করছেন এবং সেই কারণে তারা সেখানে থাকছেন। যে কারণে চাইলেও রাজীবের অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এই টুর্নামেন্টে। অথচ রাজীবের সঙ্গে খেলতে খেলতেই মারা যান জিয়া!
আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার আবদুল্লাহ আল রাকিব দীর্ঘদিন দাবা থেকে দূরে। তাকেও খেলানোর চেষ্টা চলছে।
ভবিষ্যতে এই টুর্নামেন্ট সারা দেশের স্কুল ও কলেজে ছড়িয়ে দেওয়া পরিকল্পনা লাবণ্যর, “এবার ফেডারেশনে টুর্নামেন্ট করছি। ভবিষ্যতে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমার ছেলের তেমনই ইচ্ছা।”
এক বছর হয়ে গেলেও জিয়াকে নিয়ে ফেডারেশন বা সরকারের তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে আক্ষেপ ঝরল লাবণ্যর কন্ঠে, “আমার কষ্টের জায়গা হলো, এই দাবা ফেডারেশনে খেলতে খেলতে মারা গেল জিয়া। এক বছর হয়ে গেল ওর ব্যাপারে সরকার থেকে কোনও স্বীকৃতি পেলাম না। এই জন্য চাইছিলাম ওকে যেন মানুষ মনে রাখে। তাল, কাপাবলঙ্কা মেমোরিয়াল যেমন যুগ যুগ ধরে চলছে, তেমন জিয়া মেমোরিয়োলও যেন চলে। শুরুতে হয়তো ছোট আকারে হবে। তবে প্রতি বছর বড় আকারে করতে চাই।”























