সাজগোজ চাকচিক্যময় বিলাসিতা জীবনযাপন। নিজের গ্রাম সাতকানিয়া ও শহরে রয়েছে একাধিক বাড়ী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ যেনো তার জীবন চাকার আলাদীন প্রদীপ। আবাসিক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন বরাদ্দ ও বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ লোপাট সহ ২০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে বহাল থেকে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সাম্রাজ্য। বান্দরবানের লামা আজীজনগর চাম্বি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনের বেপরোয়া দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৬-শত জন হলেও সরকারী বিভিন্ন ভাতা-বরাদ্দের আসায় কাগজেকলমে উল্লেখ করেন ৮-শ জন মত। কিন্তু এখানে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্র-ছাত্রী বেশি। তাদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে রশিদ বিহীন বিধি বহির্ভূত সেশন ফি ও ভর্তিসহ বিভিন্ন খাতের নামে আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। বিদ্যালয়ের দোকানঘর ভাড়ায় নয়ছয় সহ রাতের অন্ধকারে ট্রাক ভর্তি পুরাতন বই বিক্রয়ের নির্দিষ্ট টাকা সরকারের কোষাগারে জমা না দিয়ে বরং টাকার বড় অংশ একাই হাতিয়ে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন।
জানা যায়, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে তার কেন্দ্রে দিনের ভোট রাতে চিনিয়ে নেওয়ার অন্যতম মাস্টারমাইন্ডের ভুমিকায় ছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। ফলে আওয়ামী ক্ষমতাধর জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম দুর্নীতি শুরু করেন সে। তার বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় শাহজাহান, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ও জেসমিন আক্তার সহ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক রাজনৈতিক পক্রিয়ায় বদলীর শিকার হন বলে জানা গেছে। বিগত সময়ে অসংখ্য অভিযোগের তদন্ত কমিটি তার অথিতীয়তার একরাশ পরশে ভুলকে ফুল হিসেবে দেখানো হতো বলে জানিয়েছেন আক্রোশের শিকার সহকারীরা।
এছাড়া তার অধীনস্থ একাধিক সহকারী শিক্ষক নিরব টর্চারের শিকার বলেও জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুএকজন শিক্ষক। তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই বার্ষিক শিক্ষক প্রতিবেদনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঘায়েল করা হয়। কথার প্রসঙ্গে এক সহশিক্ষক বলেন, সবচেয়ে লজিকতার বিষয় হচ্ছে ঈদে-কোরবানে সহকারী শিক্ষকদের গিফটটের প্রতি চরম ইন্টারেস্ট ছিলো তার! এছাড়া সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দীন এবং নাজমুল আলমকে দিয়ে কোচিং নামে রমরমা বাণিজ্যকুঠি তৈরি করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে কোচিং এর গুরুত্ব বেশী দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
অভিযোগ রয়েছে, দূরবর্তী বাসস্থান হওয়ায় সহশিক্ষিকা জুবাইরা বেগম ও সানজিদা পারভিনকে আবাসিকে থাকতে গুনতে হয় মাসিক ভাড়া। যদিও তারা ভাড়ার বিষয়ে অস্বীকার করেছেন, কিন্তু বিনিময় হিসেবে আবাসিক শিক্ষার্থীর দেখাশোনা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ২’শ টাকার জন্য আয়েশা ছিদ্দীকা নামে এক শিক্ষার্থীকে ৫ম শ্রেণীর প্রশংসাপত্র না দেওয়ায় ইউএনও ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি বাবা দেলাওয়ার হোসেন। একই অভিযোগ করে ইশরাত জাহানের বাবা বলেন, প্রশংসা পত্রের নামে আমার থেকে ৫ শত টাকা দাবী করেন। ভর্তি বাবদ শিশু সালাউদ্দীন সহ প্রতি শিক্ষার্থী থেকে নেওয়া হয় ২/৩শ করে, যা নিয়মবহির্ভূত। অভিভাবকরা জানান, সাবিনা ইয়াসমিন ২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করার সুবাদে নানা অনিয়ম দুর্নীতি জড়িয়ে পড়েন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে চাম্বি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের দোকান যারা দখল করে রেখেছে তারাই আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলা ভিত্তিহীন।
এবিষয়ে লামা উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, সাবিনা ইয়াসমিনের অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। এসব অভিযোগ গুলা ইউএনও এবং ডিসি অফিস বরাবর পৌঁছানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

























