ফেনীর সদর উপজেলার লক্ষীয়ারা ইউনিয়নের বগইড গ্রামে নিঃসন্তান সত্তরোর্ধ এক অসহায় বৃদ্ধাকে জোরপূর্বক বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার নাম আনোয়ারা বেগম। তিনি ওই গ্রামের মনীর উদ্দিন হাজী বাড়ির মৃত আবদুর রবের স্ত্রী।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃদ্ধার দেবর আবু তাহেরের ছেলে সাইদুর রহমান শাহীন কৌশলে ও জোরপূর্বক স্বামীর রেখে যাওয়া সাড়ে চার শতক বসতভিটার জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়ে তাকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ফেলে দেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগমের কোনো সন্তান নেই। বয়সজনিত কারণে তিনি অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। একপর্যায়ে অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সাইদুর রহমান শাহীন তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে ফেনী সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে বৃদ্ধা কী হচ্ছে তা পুরোপুরি না বুঝতেই তার কাছ থেকে জোরপূর্বক টিপসই নিয়ে বসতভিটার জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন শাহীন। এ সময় ভরণপোষণের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো খোঁজখবর নেননি তিনি।
বৃদ্ধা বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দিলেও কোনোভাবে প্রতিরোধ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন। এ অবৈধ দলিল সম্পাদনে স্থানীয় এক দলিল লেখকের সহযোগিতাও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর থেকে আনোয়ারা বেগম স্বামীর ভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়ে গত প্রায় ১২ বছর ধরে দাগনভূঞা পৌরসভার আলাইয়াপুর গ্রামে তার ছোট বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে তিনি তার ছোট বোনের ছেলে প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলম জানান, দীর্ঘ এক যুগ ধরে তিনি তার খালার চিকিৎসা ও যাবতীয় খরচ বহন করে আসছেন।
সরেজমিনে গিয়ে কথা বললে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি কিছুটা কম শুনতে পান, তবুও বুঝতে পেরেছিলেন তার সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রথম দিকে দেবর আবু তাহের কিছুটা সহযোগিতা করলেও পরে আর কেউ পাশে দাঁড়ায়নি।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার খালার স্বামীর রেখে যাওয়া প্রাপ্য সাড়ে চার শতক বসতভিটা পুনরুদ্ধারে তিনি সামাজিকভাবে সব ধরনের উদ্যোগ নেবেন। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইদুর রহমান শাহীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বৃদ্ধার অসুস্থতার কথা জানানো হয়। এ সময় তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
শু/সবা

























