বান্দরবানের লামা উপজেলার মেরাখোলা গ্রাম মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। নদীর তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় মেরাখোলা গ্রামটি নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বছরের বর্ষা মৌসুমে চেনা নদী বাড়ির দুয়ারে এসে হানা দেয় অচেনা ভয়ংকররূপে। ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজারো পরিবারের বসবাস ঠিকানা মেরাখোলা গ্রাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮০-৯০ দশকের সময় মেরাখোলায় নামার পাড়া নামক প্রায় ৫-শ পরিবারের একটি গ্রাম ছিলো। যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে শুধুমাত্র একটি গল্প। মাতামুহুরি নদীর তীব্র স্রোতে মারাত্মক ভাঙনের শিকার হয়ে বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পারের মানুষ বারবার স্থান পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা পায়নি। বর্তমান ৪/৫ টি পরিবারের বসবাস থাকলেও বাকীরা আশ্রয় নিয়েছেন উপরের পাড়ায়, যেটা বর্তমান মেরাখোলা। অনেকই ভূমিহীন হয়ে নির্বাসন হয়েছেন আশ্রয়ন প্রকল্পে। পরিশেষে নিরুপায় হয়ে ইউএনও বরাবর গণস্বাক্ষর করে আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হোসাইন বলেন, আমাদের বসত স্থান ৭/৮ বার পরিবর্তন করেছি। এরপরও ভাঙ্গনের আতঙ্কে আছি আমার বাব দাদারা অন্য জায়গায় চলে গেছে। মো. আবু মুসা ও মোজাম্মেল বলেন, ২ হাজার সালেও ভাঙ্গন এরিয়া থেকে ৫ শত ফুট দূরত্বে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ছিলো। প্রতিবছরে মিনিমাম ১শত ফুট মত ভাঙে। ইতিমধ্যে আমাদের সামাজিক কবরস্থানের একতৃতীয়াংশ জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের গ্রাম রক্ষার উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে অস্তিত্ব হারাতে পারে ভাঙনের শিকার এই গ্রাম। তাই অবিলম্বে বাঁধ নির্মাণ ও ডাম্পিং ফেলে এই গ্রামকে ভাঙন থেকে রক্ষার দাবি জানান পুরো এলাকাবাসী।
সমাজের সর্দার ছব্বির আহমদ বলেন, আমাদের নদী ভাঙ্গন নিয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলি মিয়া ও তৎকালীন ইউএনও থেকে এই পর্যন্ত সবাই আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কেউ কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এভাবে নদী ভাঙ্গনে একটি গ্রাম বিলীন হতে থাকলে আমরা যাবো কোথায়।
এবিষয়ে লামা সদর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সবুজ বাংলা কে বলেন আমাদের মেরাখোলা গ্রামটি ইউ আকারের। উভয় পাশে নদী। এই গ্রামে ২,৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের বসবাস। এখানকার বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষরা ছিলো নদীর বিলিন হয়ে যাওয়া নামার পাড়ায়। কিন্তু মাতামুহুরি নদীর ভাঙ্গন কবলে পড়ে ইতিমধ্যে পশ্চিম পাশে ৫০০ ফিট জমি বিলীন হয়ে গেছে। চতুরপাশ মিলিয়ে প্রায় ২শ একর জমি অস্তিত্বহীন এখন। অতি শীঘ্রই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে পুরো গ্রামের মানুষ ভূমিহীন হয়ে যাবে।
বান্দরবান জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভিজ্ঞান চাকমা বলেন, মেরাখোলা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের খবর পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে নদীর তীর সংরক্ষণ শীর্ষক প্রকল্পের পাঁচশো মিটার পর্যন্ত প্রতিরক্ষা কাজের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীটা সরজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মইন উদ্দীন বলেন, মেরাখোলায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি সহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

























