১০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ম্যাচে হারের যে ব্যাখ্যা দিলেন কোচ মারুফুল

একদিকে ৫৩ বছরের পুরনো-ঐতিহ্যবাহী ও ৪০টির মতো শিরোপাজয়ী বাংলাদেশের আবাহনী লিমিটেড, ঢাকা। অন্যদিকে মাত্র দুই বছর বয়সী, নতুন ও ২টি ট্রফিজয়ী কিরগিজস্তানের এফসি মুরাস ইউনাইটেড। বয়স-অভিজ্ঞতা ও শিরোপার নিরিখে যেহেতু ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ খ্যাত আবাহনীই এগিয়ে, সেহেতু মুরাসকে হেসেখেলে হারের স্বাদ দেবে আবাহনী … এমনটাই ধারণা করেছিলেন এদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তাদের ধারণা সত্য হয়নি। পরিসংখ্যান সবসময়ই মাঠে প্রতিফিলিত হয় না। আর সেজন্যই এই ধারণাকে উল্টে দিয়ে কিরগিজ ক্লাবটি ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ২-০ গোলে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ‘পশ্চিম জোন’-এর প্রথম ম্যাচে আজ (১২ আগস্ট) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী মুখোমুখি হয়েছিল মুরাসের। এই জয়ে মূলপর্বে চলে গেল মুরাস।

ম্যাচ শেষে আবাহনীর কোচ মারুফুল হক বলেন, ‘মুরাস যোগ্যতর টিম হিসেবে আজকের ম্যাচ জিতেছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমভাগ ঠিক ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আল-আমিন একটা ক্রস আটকাতে পারেনি, যেটা তার আটকানোর কথা ছিল। ওদের মেইন শক্তির জায়গা হলো ক্রস। ক্রস থেকেই ওরা গোল করেছে।’ মারুফুল আরও বলেন, ‘আমি বেশি কাজ করেছিলাম মানসিকতা নিয়ে। আগেও বলেছিলাম আমরা খুব তাড়াতাড়ি হতাশ হয়ে যাই। আমার টিমের গভীরতা ওই পর্যায়ের না। আমাদের ব্যাকলাইনে কামরুলের বিকল্প নাই। কিন্তু কামরুলকে আরও আগে পরিবর্তন করা প্রয়োজন ছিল। সবমিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে আমি সন্তষ্ট না। প্রথমার্ধ্বে পুরোটাই আমরা তাদের খেলাটা নষ্ট করতে পেরেছি। একটা জিনিস হলো ওরা আমাদেও স্ট্যান্ডার্ড জানে। তারা তো অলআউট খেলবেই। পজিশনিং করবে। উইন প্লে করতে চাইবে। এগুলো বন্ধ করে আমি যে সুযোগ পাব কাউন্টার অ্যাটাকে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। আমরা কাউন্টার অ্যাটাকে তিন-চারটা সুযোগ পেয়েছিলাম। সাধারণত ওরা লিগে খেলে ৪-৩-৩ বা ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে। খুব কম ম্যাচেই ওরা পাঁচজন ব্যাকে রাখে। আজকে কিন্তু ওরা প্লেয়ার সেভাবে সাজিয়েছিল। ৪-৩-৩ শুরু করেছিল। যখন আমরা দুইটা উইং ওপরে ছিল, তখন কিন্তু ওরা চারজন ব্যাক করেছে। আপনার অলআউট খেলার জন্য রিসোর্স থাকতে হবে। যথেষ্ট রিসোর্স না থাকলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। যদি মিডফিল্ডে একজন ডায়নামিক প্লেয়ার থাকতো, যে বলগুলো যেভাবে সার্কুলেট করতো বা চর্তুদিকে খেলতে পারতো, আমাদের লোকাল মিডফিল্ডাররা সেভাবে পারে না। আর যদি একজন বিদেশি উইঙ্গার থাকতো তাহলে ইব্রাহিম যে ভুলগুলো করেছে সে ভুলগুলো হয়তো করতো না।’

সবশেষে মারুফুল বলেন, ‘অভিজ্ঞতা তো অনেক হয়েছে। কিন্তু একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমি আরেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে কাজে লাগাতে পারবো। স্থানীয় লিগে করতে পারব না। আমরা তাদের থেকে অনেক দূরে আছি।’

আরকে/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাচে হারের যে ব্যাখ্যা দিলেন কোচ মারুফুল

আপডেট সময় : ০৮:০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

একদিকে ৫৩ বছরের পুরনো-ঐতিহ্যবাহী ও ৪০টির মতো শিরোপাজয়ী বাংলাদেশের আবাহনী লিমিটেড, ঢাকা। অন্যদিকে মাত্র দুই বছর বয়সী, নতুন ও ২টি ট্রফিজয়ী কিরগিজস্তানের এফসি মুরাস ইউনাইটেড। বয়স-অভিজ্ঞতা ও শিরোপার নিরিখে যেহেতু ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ খ্যাত আবাহনীই এগিয়ে, সেহেতু মুরাসকে হেসেখেলে হারের স্বাদ দেবে আবাহনী … এমনটাই ধারণা করেছিলেন এদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তাদের ধারণা সত্য হয়নি। পরিসংখ্যান সবসময়ই মাঠে প্রতিফিলিত হয় না। আর সেজন্যই এই ধারণাকে উল্টে দিয়ে কিরগিজ ক্লাবটি ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ২-০ গোলে। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ‘পশ্চিম জোন’-এর প্রথম ম্যাচে আজ (১২ আগস্ট) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনী মুখোমুখি হয়েছিল মুরাসের। এই জয়ে মূলপর্বে চলে গেল মুরাস।

ম্যাচ শেষে আবাহনীর কোচ মারুফুল হক বলেন, ‘মুরাস যোগ্যতর টিম হিসেবে আজকের ম্যাচ জিতেছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমভাগ ঠিক ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আল-আমিন একটা ক্রস আটকাতে পারেনি, যেটা তার আটকানোর কথা ছিল। ওদের মেইন শক্তির জায়গা হলো ক্রস। ক্রস থেকেই ওরা গোল করেছে।’ মারুফুল আরও বলেন, ‘আমি বেশি কাজ করেছিলাম মানসিকতা নিয়ে। আগেও বলেছিলাম আমরা খুব তাড়াতাড়ি হতাশ হয়ে যাই। আমার টিমের গভীরতা ওই পর্যায়ের না। আমাদের ব্যাকলাইনে কামরুলের বিকল্প নাই। কিন্তু কামরুলকে আরও আগে পরিবর্তন করা প্রয়োজন ছিল। সবমিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে আমি সন্তষ্ট না। প্রথমার্ধ্বে পুরোটাই আমরা তাদের খেলাটা নষ্ট করতে পেরেছি। একটা জিনিস হলো ওরা আমাদেও স্ট্যান্ডার্ড জানে। তারা তো অলআউট খেলবেই। পজিশনিং করবে। উইন প্লে করতে চাইবে। এগুলো বন্ধ করে আমি যে সুযোগ পাব কাউন্টার অ্যাটাকে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। আমরা কাউন্টার অ্যাটাকে তিন-চারটা সুযোগ পেয়েছিলাম। সাধারণত ওরা লিগে খেলে ৪-৩-৩ বা ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে। খুব কম ম্যাচেই ওরা পাঁচজন ব্যাকে রাখে। আজকে কিন্তু ওরা প্লেয়ার সেভাবে সাজিয়েছিল। ৪-৩-৩ শুরু করেছিল। যখন আমরা দুইটা উইং ওপরে ছিল, তখন কিন্তু ওরা চারজন ব্যাক করেছে। আপনার অলআউট খেলার জন্য রিসোর্স থাকতে হবে। যথেষ্ট রিসোর্স না থাকলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না। যদি মিডফিল্ডে একজন ডায়নামিক প্লেয়ার থাকতো, যে বলগুলো যেভাবে সার্কুলেট করতো বা চর্তুদিকে খেলতে পারতো, আমাদের লোকাল মিডফিল্ডাররা সেভাবে পারে না। আর যদি একজন বিদেশি উইঙ্গার থাকতো তাহলে ইব্রাহিম যে ভুলগুলো করেছে সে ভুলগুলো হয়তো করতো না।’

সবশেষে মারুফুল বলেন, ‘অভিজ্ঞতা তো অনেক হয়েছে। কিন্তু একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমি আরেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচে কাজে লাগাতে পারবো। স্থানীয় লিগে করতে পারব না। আমরা তাদের থেকে অনেক দূরে আছি।’

আরকে/সবা