০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ : নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪০০

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • 122
  • ইসরায়েলের সমর্থনে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন
  • যুক্তরাষ্ট্রকে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হুমকি
  •  স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আলোচনার আহ্বান রাশিয়ার
হামাসের হামলায় ইসরায়েলি নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছুঁয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত ২ হাজার ৫০৬ জন আহতকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ও ৩৫৩ জনের আঘাত বা জখম গুরুতর। খবর : আল জাজিরার।
অন্যদিকে, হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬০-এ দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ইসরায়েলিদের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯০০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
এদিকে, গাজার ওপর ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ আরোপ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ট জানিয়েছেন, গাজার বিদ্যুৎসংযোগ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
২০০৭ সাল থেকেই বায়ু, স্থল ও সমুদ্র তিন দিক থেকেই অবরোধের অধীনে রয়েছে গাজা। হামাসের হামলার পর থেকে গাজার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা পানি, বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি ওষুধের অভাব ও অস্ত্রোপচারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলা মোকাবিলায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা ডেকেছে ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র হাগারি এ ঘোষণা দেন। এর আগে এক লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকার কথা জানা গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় তা ৩ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি সাংবাদিকদের বলেছেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসরায়েলের। তিনি বলেন, গতকাল সকালে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই পর্যায়ে সেখানকার সম্প্রদায়ের মাঝে কোনো ধরনের সংঘাত হচ্ছে না। তবে এখনও ওই অঞ্চলে হামাসের যোদ্ধারা থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স জানায়, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের সমর্থনে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা ইসরায়েল উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। গত রোববার হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে সামরিক সহায়তা দেয়ার কথা নিশ্চিত করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব আরও বলেন, অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ইসরায়েলে মার্কিন যুদ্ধবিমানও পাঠানো হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাইডেন সরকার আগামী দিনে দেশটিতে আরও সামরিক সহায়তা পাঠাবে। তাছাড়া ইসরায়েলের শত্রুরা যাতে এ পরিস্থিতি থেকে সুবিধা নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানিয়েছেন, হামাসের হামলায় নিহত ও বন্দিদের মধ্যে কোনো মার্কিন নাগরিক রয়েছে কি না তা যাচাইয়ের কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রসঙ্গ টেনে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে ইরানের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি, তবে ইরান বছরের পর বছর ধরে গাজাভিত্তিক স্বাধীনতাকামী সংগঠনটিকে সহায়তা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান হামাসকে বহু বছর ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদের সাহায্য ছাড়া ‘হামাস’ এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে না। যদিও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইসরায়েল হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
এদিকে, ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে হস্তক্ষেপ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থানগুলোতে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পরপরই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর মুখপাত্র বলেছেন, ফিলিস্তিন ইউক্রেন নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে) সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে এ অঞ্চলের সব মার্কিন অবস্থান প্রতিরোধ বাহিনীর লক্ষ্যে পরিণত হবে এবং আমাদের আক্রমণের মুখোমুখি হবে এবং সেই দিন কোনো লাল রেখা থাকবে না।
গাজার ক্ষমতাসীন সশস্ত্র শাসকগোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তৃতীয় দিনে গড়িয়ে যাওয়া এই সংঘাতের সমাধানে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আহ্বান জানিয়েছেন।
আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল আহমেদ আবুল ঘেইতের সঙ্গে মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের আলোচনাই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়।
ল্যাভরভের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম তাস বলছে, যে কারণে কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, সেদিকেই বিশেষ মনোযোগ দেয়া দরকার।
এর আগে, একই দিনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিস্তৃত সংঘাতে পরিণত হতে পারে। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের চারপাশে যা ঘটছে তা আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করছি। এই পরিস্থিতি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পরিপূর্ণ। যে কারণে এটি আজ আমাদের বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ : নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪০০

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • ইসরায়েলের সমর্থনে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন
  • যুক্তরাষ্ট্রকে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হুমকি
  •  স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আলোচনার আহ্বান রাশিয়ার
হামাসের হামলায় ইসরায়েলি নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছুঁয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত ২ হাজার ৫০৬ জন আহতকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ও ৩৫৩ জনের আঘাত বা জখম গুরুতর। খবর : আল জাজিরার।
অন্যদিকে, হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬০-এ দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া ইসরায়েলিদের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯০০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
এদিকে, গাজার ওপর ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ আরোপ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্ট জানিয়েছেন, গাজার বিদ্যুৎসংযোগ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।
২০০৭ সাল থেকেই বায়ু, স্থল ও সমুদ্র তিন দিক থেকেই অবরোধের অধীনে রয়েছে গাজা। হামাসের হামলার পর থেকে গাজার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা পানি, বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি ওষুধের অভাব ও অস্ত্রোপচারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলা মোকাবিলায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা ডেকেছে ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র হাগারি এ ঘোষণা দেন। এর আগে এক লাখ রিজার্ভ সেনা ডাকার কথা জানা গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় তা ৩ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি সাংবাদিকদের বলেছেন, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইসরায়েলের। তিনি বলেন, গতকাল সকালে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই পর্যায়ে সেখানকার সম্প্রদায়ের মাঝে কোনো ধরনের সংঘাত হচ্ছে না। তবে এখনও ওই অঞ্চলে হামাসের যোদ্ধারা থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স জানায়, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের সমর্থনে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা ইসরায়েল উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। গত রোববার হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে সামরিক সহায়তা দেয়ার কথা নিশ্চিত করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব আরও বলেন, অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের পাশাপাশি ইসরায়েলে মার্কিন যুদ্ধবিমানও পাঠানো হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাইডেন সরকার আগামী দিনে দেশটিতে আরও সামরিক সহায়তা পাঠাবে। তাছাড়া ইসরায়েলের শত্রুরা যাতে এ পরিস্থিতি থেকে সুবিধা নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতেও কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানিয়েছেন, হামাসের হামলায় নিহত ও বন্দিদের মধ্যে কোনো মার্কিন নাগরিক রয়েছে কি না তা যাচাইয়ের কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রসঙ্গ টেনে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে ইরানের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি, তবে ইরান বছরের পর বছর ধরে গাজাভিত্তিক স্বাধীনতাকামী সংগঠনটিকে সহায়তা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান হামাসকে বহু বছর ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদের সাহায্য ছাড়া ‘হামাস’ এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে না। যদিও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইসরায়েল হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান।
এদিকে, ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে হস্তক্ষেপ করলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থানগুলোতে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পরপরই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সংগঠনটি।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর মুখপাত্র বলেছেন, ফিলিস্তিন ইউক্রেন নয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে) সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে এ অঞ্চলের সব মার্কিন অবস্থান প্রতিরোধ বাহিনীর লক্ষ্যে পরিণত হবে এবং আমাদের আক্রমণের মুখোমুখি হবে এবং সেই দিন কোনো লাল রেখা থাকবে না।
গাজার ক্ষমতাসীন সশস্ত্র শাসকগোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তৃতীয় দিনে গড়িয়ে যাওয়া এই সংঘাতের সমাধানে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ হামাস-ইসরায়েল সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আহ্বান জানিয়েছেন।
আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল আহমেদ আবুল ঘেইতের সঙ্গে মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের আলোচনাই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়।
ল্যাভরভের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম তাস বলছে, যে কারণে কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, সেদিকেই বিশেষ মনোযোগ দেয়া দরকার।
এর আগে, একই দিনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিস্তৃত সংঘাতে পরিণত হতে পারে। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের চারপাশে যা ঘটছে তা আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করছি। এই পরিস্থিতি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পরিপূর্ণ। যে কারণে এটি আজ আমাদের বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।