০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাগনভূঞার জগতপুর গ্রামে ৩০ পরিবার আর নাই

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জগত পুর গ্রামে ৩০ টি পরিবার আর নেই। ছোট ফেনী নদীর অভ্যাহত ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বিলীন হয়ে যায় এই ৩০টি পরিবার। বাপ দাদার ভিটি বাড়ী হারিয়ে উক্ত পরিবার গুলো বর্তমানে অন্যত্র মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাগনভূঞার পূর্ব জগতপুর গ্রামে ফাজিলের ঘাট থেকে তালতলী সড়কের নদীর পাশে বাড়ী গুলো নদীতে জুলছে। কিছু বালুভর্তি বস্তারও দেখা মিলে। বিশাল ভাঙ্গনের এই স্থানে ছিল ৩০ পরিবারের বসত বাড়ী।গোয়ালঘর,সবজি চাষের মাঠ,গাছরপালা, খেলার মাঠ। অথচ বর্তমানে কোন স্মৃতি চিহৃ নেই। কয়েকটি ঘরও জোয়ারে ভেসে গেছে। বলে এলাকাবাসী জানান। এমতবস্থায় নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত ভয় আর আতংকে রাত কাটে । নদী পাড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক ও জেবল হক জানান,গত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে চলেছে এ ভাঙ্গন। চলতি বছরে প্রবল জোয়ার ভাটার তোড়ে তাদের পুরো বসত বাড়ীই ভেসে গেছে। গাছপালা সমারেহের স্মৃতিময় বসত বাড়ী হারিয়ে তারা এখন দিশে হারা। এলাকাবাসী উক্ত ভাঙ্গন প্রতিরোধে বহুবার ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। অবশেষে গত বছর ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ভাঙ্গনের মুখে ৪শ ১ মিটার বালুভর্তি বস্তার মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এতেও কোন কাজ হয়নি। গত বছর যাহা অবশিষ্ট ছিল এ বছর পুরোটাই ভেঙ্গে গেছে। এ দিকে বালু ভর্তি বস্তা পালানোর টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী নানা রকম অভিযোগ করেছেন। এলাকাবাসী বলছেন, ঠিকাদারের কাজ ধীরগতি করার কারনে তাদের বাড়ী গুলো আর রক্ষা করতে পারেনি। কারন ঠিকাদারের কাজের সময়কাল ছিল ৩ মাস। অথচ ঠিকাদার গত দেড় বছরেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। ঠিকাদার যদি সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করতেন, তাহলে পরিবার গুলোর বাড়ী ঘরের কিছু অংশ হলেও রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু এখন তারা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় মানবেতর জীবনে রয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি জেলা বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের অবহেলার কারনেই বাড়ী গুলোর শেষ রক্ষা হলো না। তিনি ভাঙ্গন কবলিত অসহায়দের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। কাজের দায়ীত্ব প্রাপ্ত ঠিকারদার বিনয় কুমার সাথে কাজের ধীরগতি বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান,শ্রমিক সংকটের কারনে তারা যথাসময়ে কাজ করতে পারেনি বলে স্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদুল ইসলাম জানান,ঠিকাদারের অবহেলার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান।

এসএস/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বীরগঞ্জে পিকআপ ভ্যান-ইজিবাইক মুখোমুখি

দাগনভূঞার জগতপুর গ্রামে ৩০ পরিবার আর নাই

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জগত পুর গ্রামে ৩০ টি পরিবার আর নেই। ছোট ফেনী নদীর অভ্যাহত ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বিলীন হয়ে যায় এই ৩০টি পরিবার। বাপ দাদার ভিটি বাড়ী হারিয়ে উক্ত পরিবার গুলো বর্তমানে অন্যত্র মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাগনভূঞার পূর্ব জগতপুর গ্রামে ফাজিলের ঘাট থেকে তালতলী সড়কের নদীর পাশে বাড়ী গুলো নদীতে জুলছে। কিছু বালুভর্তি বস্তারও দেখা মিলে। বিশাল ভাঙ্গনের এই স্থানে ছিল ৩০ পরিবারের বসত বাড়ী।গোয়ালঘর,সবজি চাষের মাঠ,গাছরপালা, খেলার মাঠ। অথচ বর্তমানে কোন স্মৃতি চিহৃ নেই। কয়েকটি ঘরও জোয়ারে ভেসে গেছে। বলে এলাকাবাসী জানান। এমতবস্থায় নারী ও শিশুরা প্রতিনিয়ত ভয় আর আতংকে রাত কাটে । নদী পাড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারুক ও জেবল হক জানান,গত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে চলেছে এ ভাঙ্গন। চলতি বছরে প্রবল জোয়ার ভাটার তোড়ে তাদের পুরো বসত বাড়ীই ভেসে গেছে। গাছপালা সমারেহের স্মৃতিময় বসত বাড়ী হারিয়ে তারা এখন দিশে হারা। এলাকাবাসী উক্ত ভাঙ্গন প্রতিরোধে বহুবার ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। অবশেষে গত বছর ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে ভাঙ্গনের মুখে ৪শ ১ মিটার বালুভর্তি বস্তার মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এতেও কোন কাজ হয়নি। গত বছর যাহা অবশিষ্ট ছিল এ বছর পুরোটাই ভেঙ্গে গেছে। এ দিকে বালু ভর্তি বস্তা পালানোর টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী নানা রকম অভিযোগ করেছেন। এলাকাবাসী বলছেন, ঠিকাদারের কাজ ধীরগতি করার কারনে তাদের বাড়ী গুলো আর রক্ষা করতে পারেনি। কারন ঠিকাদারের কাজের সময়কাল ছিল ৩ মাস। অথচ ঠিকাদার গত দেড় বছরেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। ঠিকাদার যদি সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করতেন, তাহলে পরিবার গুলোর বাড়ী ঘরের কিছু অংশ হলেও রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু এখন তারা সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় মানবেতর জীবনে রয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি জেলা বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের অবহেলার কারনেই বাড়ী গুলোর শেষ রক্ষা হলো না। তিনি ভাঙ্গন কবলিত অসহায়দের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। কাজের দায়ীত্ব প্রাপ্ত ঠিকারদার বিনয় কুমার সাথে কাজের ধীরগতি বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান,শ্রমিক সংকটের কারনে তারা যথাসময়ে কাজ করতে পারেনি বলে স্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীদুল ইসলাম জানান,ঠিকাদারের অবহেলার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান।

এসএস/সবা