০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে ময়লার পাহাড়

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার পাহাড়। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ছড়িয়ে পড়ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার কার্যালয় থেকে মাত্র সাড়ে তিনশ ফুট দূরে কস্তুরাঘাট সংলগ্ন নদীর তীরে পৌরসভা নিজেই এই বর্জ্যের স্তূপ গড়ে তুলেছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের মাঝখানেই দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, যা বাঁকখালী  নদীর পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গন্ধে ঘরের জানালা খোলা যায় না, রাতে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পৌরসভার স্ক্যাভেটর দিয়ে ময়লা নাড়াচাড়া করার ফলে উত্তরের বাতাসে দুর্গন্ধ দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বদরমোকাম, বড় বাজার এলাকা ও এন্ডারসন রোডের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

শহরের উত্তর পাশে ভরা বাঁকখালী নদীর তীরে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। শীত মৌসুমে উত্তরের বাতাসে দুর্গন্ধ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় বসবাসকারী ও পর্যটকদের জন্য পরিবেশ হয়ে উঠছে অস্বাস্থ্যকর ও অসহনীয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, “অরক্ষিতভাবে বর্জ্য ফেলা কক্সবাজারের পরিবেশ ও পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি। দ্রুত আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার পৌরসভার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্বীকার করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, শহরের বাইরে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তবে তা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। শিগগিরই ময়লার ডিপো সরানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের নেতা ও পরিবেশবিদ এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে শহরের মাঝখানে এমন বর্জ্যের স্তূপ নগরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ ডিপো সরাতে গড়িমসি করছে।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল, মঞ্জুরুল মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে ময়লার পাহাড়

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার পাহাড়। এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ছড়িয়ে পড়ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধে শিশু ও বৃদ্ধসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার কার্যালয় থেকে মাত্র সাড়ে তিনশ ফুট দূরে কস্তুরাঘাট সংলগ্ন নদীর তীরে পৌরসভা নিজেই এই বর্জ্যের স্তূপ গড়ে তুলেছে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের মাঝখানেই দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, যা বাঁকখালী  নদীর পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গন্ধে ঘরের জানালা খোলা যায় না, রাতে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পৌরসভার স্ক্যাভেটর দিয়ে ময়লা নাড়াচাড়া করার ফলে উত্তরের বাতাসে দুর্গন্ধ দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বদরমোকাম, বড় বাজার এলাকা ও এন্ডারসন রোডের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

শহরের উত্তর পাশে ভরা বাঁকখালী নদীর তীরে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। শীত মৌসুমে উত্তরের বাতাসে দুর্গন্ধ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় বসবাসকারী ও পর্যটকদের জন্য পরিবেশ হয়ে উঠছে অস্বাস্থ্যকর ও অসহনীয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, “অরক্ষিতভাবে বর্জ্য ফেলা কক্সবাজারের পরিবেশ ও পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি। দ্রুত আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার পৌরসভার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্বীকার করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, শহরের বাইরে নতুন স্যানিটারি ল্যান্ডফিল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তবে তা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। শিগগিরই ময়লার ডিপো সরানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের নেতা ও পরিবেশবিদ এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের শহর কক্সবাজারে শহরের মাঝখানে এমন বর্জ্যের স্তূপ নগরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ ডিপো সরাতে গড়িমসি করছে।”

শু/সবা