০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে শিক্ষকের শরীর ম্যাসেজ না করায় মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন

শরীর ম্যাসেজ করে না দেয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক পাষন্ড শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

আহত ছাত্রের নাম মো. ইমরান হোসেন। বেত্রাঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে যায়। সোমবার দুপুরে ওই ছাত্রের মা মোসলিমা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ওই মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন করা হয়। তাকে তিনদিন একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেন পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌরসভার ভট্টপুর এলাকায় অবস্থিত দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ষোলপাড়া গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. ইমরান হোসেন নাজেরা শাখায় আবাসিক হলে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মনির হোসেন তার শরীর ম্যাসেজ করার জন্য ইমরানকে ডেকে আনেন। এসময় ইমরান তার শরীর অসুস্থ থাকায় ম্যাসেজ করতে পারবে না বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষক বেত ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে তাকে বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতে ওই ছাত্রের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এসময় ওই ছাত্রটি ব্যথায় চিৎকার করে কান্না করলে পাষন্ড শিক্ষক মনির হোসেন ওই ছাত্রকে একটি কক্ষে নিয়ে আটক করে রাখেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রের মা মোসলিমা বেগম মাদ্রাসায় ছেলের খোঁজ নিতে গেলে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এঘটনায় সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোসলিমা বেগম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মোসলিমা বেগম জানান, মাদ্রাসায় শিক্ষকের শরীর ম্যাসেজ করে না দেয়ায় ঘুম থেকে আমার ছেলেকে ডেকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করেছে। ছেলেকে তিনদিন আটকে রাখায় কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। সোমবার মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তিনি নির্যাতনকারী ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে এলাকায় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খান বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে শিক্ষকের শরীর ম্যাসেজ না করায় মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন

আপডেট সময় : ০৬:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শরীর ম্যাসেজ করে না দেয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক পাষন্ড শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

আহত ছাত্রের নাম মো. ইমরান হোসেন। বেত্রাঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে যায়। সোমবার দুপুরে ওই ছাত্রের মা মোসলিমা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ওই মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতন করা হয়। তাকে তিনদিন একটি কক্ষে আটকে রেখে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মনির হোসেন পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌরসভার ভট্টপুর এলাকায় অবস্থিত দাওয়াতুল কোরআন হাজী গিয়াসউদ্দিন প্রধান মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ষোলপাড়া গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. ইমরান হোসেন নাজেরা শাখায় আবাসিক হলে পড়াশোনা করে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মনির হোসেন তার শরীর ম্যাসেজ করার জন্য ইমরানকে ডেকে আনেন। এসময় ইমরান তার শরীর অসুস্থ থাকায় ম্যাসেজ করতে পারবে না বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষক বেত ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে তাকে বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতে ওই ছাত্রের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এসময় ওই ছাত্রটি ব্যথায় চিৎকার করে কান্না করলে পাষন্ড শিক্ষক মনির হোসেন ওই ছাত্রকে একটি কক্ষে নিয়ে আটক করে রাখেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রের মা মোসলিমা বেগম মাদ্রাসায় ছেলের খোঁজ নিতে গেলে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এঘটনায় সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোসলিমা বেগম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

মোসলিমা বেগম জানান, মাদ্রাসায় শিক্ষকের শরীর ম্যাসেজ করে না দেয়ায় ঘুম থেকে আমার ছেলেকে ডেকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করেছে। ছেলেকে তিনদিন আটকে রাখায় কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। সোমবার মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তিনি নির্যাতনকারী ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে এলাকায় মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খান বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমআর/সবা