০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুর-শাশুড়ি আটক

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় উশনিতা (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ, তবে ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যের চর এলাকার স্বামী রবিন মিয়ার বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মেলান্দহ থানা পুলিশ।

নিহত উশনিতা মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩নং গুনারীতলা ইউনিয়নের কানিপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ মন্ডলের মেয়ে। ছোটবেলায় মাকে হারানো উশনিতাকে সৎ মা শিল্পী বেগম (৩৪) লালন-পালন করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে স্বামী রবিন মিয়া জামালপুর শহরে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দেন। এসময় তিনি দেখেন উশনিতা ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। পরে জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মরদেহ নামিয়ে আনেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর রইচ উদ্দিন (৪৫) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। তবে স্বামী রবিন মিয়া এখনও পলাতক রয়েছেন।

গৃহবধূর মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে উশনিতার বিয়ে হয় রবিন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা হতো। রাত তিনটার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয় আমার মেয়ে ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আমার মেয়ে ফাঁস দিতে পারে না। ওকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহে কাপড়-চোপড় ছেঁড়া ছিল। এটা হত্যা, আমরা এর বিচার চাই।

মেলান্দহ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমআর/সবা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

জামালপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুর-শাশুড়ি আটক

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় উশনিতা (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ, তবে ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরবানীপাকুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যের চর এলাকার স্বামী রবিন মিয়ার বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মেলান্দহ থানা পুলিশ।

নিহত উশনিতা মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩নং গুনারীতলা ইউনিয়নের কানিপাড়া গ্রামের ওয়াজেদ মন্ডলের মেয়ে। ছোটবেলায় মাকে হারানো উশনিতাকে সৎ মা শিল্পী বেগম (৩৪) লালন-পালন করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে স্বামী রবিন মিয়া জামালপুর শহরে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দেন। এসময় তিনি দেখেন উশনিতা ঝুলন্ত অবস্থায় আছেন। পরে জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মরদেহ নামিয়ে আনেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর রইচ উদ্দিন (৪৫) ও শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। তবে স্বামী রবিন মিয়া এখনও পলাতক রয়েছেন।

গৃহবধূর মা শিল্পী বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসে উশনিতার বিয়ে হয় রবিন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই তাকে নির্যাতন করা হতো। রাত তিনটার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে বলা হয় আমার মেয়ে ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আমার মেয়ে ফাঁস দিতে পারে না। ওকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহে কাপড়-চোপড় ছেঁড়া ছিল। এটা হত্যা, আমরা এর বিচার চাই।

মেলান্দহ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এমআর/সবা