শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ মহা অষ্টমী। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুমারী পূজা, যা অষ্টমী পূজার মূল আকর্ষণ হিসেবেই বিবেচিত। ষোড়শ উপচারে—ফুল, বেলপাতা, ধূপ-দীপ, গঙ্গাজলসহ—আজ দেবীর কুমারীরূপে পূজা করা হচ্ছে।
গতকাল মহাসপ্তমীতে দেশের সর্বত্র, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুল উৎসাহ ও ধর্মীয় নিষ্ঠায় অনুষ্ঠিত হয় পূজা-অর্চনা। ভোর থেকে ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করেন দেবীর চরণে অঞ্জলি দিতে। ঢাক, কাঁসর, শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত মণ্ডপগুলোতে ছিল একাত্ম প্রার্থনা—জীবন থেকে অশুভের বিনাশ ও শান্তির প্রত্যাশা।
সপ্তমীর দিনে দেবীর মূর্তিকে আয়নায় প্রতিবিম্ব ফেলে ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়, এর পর অনুষ্ঠিত হয় নবপত্রিকা স্থাপন, যা কলাবৌ স্নান নামেও পরিচিত। এই দিনেই দেবীর চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে পূজার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়।
আজ অষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। এই পূজায় অবিবাহিত এক কিশোরীকে দেবীর জীবন্ত প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। কুমারীরূপে দুর্গার আরাধনায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ভিড় করেন হাজারো ভক্ত।
এদিকে, গত রবিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই সার্বজনীন উৎসব আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে রয়েছে ২৫৮টি মণ্ডপ। প্রতিটি পূজামণ্ডপেই চলছে উৎসবের আমেজ, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে বিস্তৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র্যাব ও আনসার বাহিনী। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপেই দায়িত্ব পালন করছে স্বেচ্ছাসেবক দল। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
রাজধানীর প্রধান কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এবারও আয়োজন করা হয়েছে ভক্তিমূলক সংগীত, আরতি প্রতিযোগিতা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।
এ বছর দেবী দুর্গা গজে (হাতিতে) আগমন করেছেন, যা শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়—শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্যপূর্ণতার প্রতীক। তবে দোলায় (পালকিতে) গমনকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়, যা মড়ক বা মহামারির আশঙ্কা বহন করে বলে হিন্দু শাস্ত্রে বর্ণিত।
উৎসবের আমেজে এখন মুখর সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো। অষ্টমী পূজার পর আগামীকাল মহা নবমী ও পরদিন বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এই শারদীয় দুর্গোৎসব।
এমআর/সবা

























