১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ছুটির পর প্রাণে ফিরেছে নোবিপ্রবিতে, আড্ডায় মেতেছে শিক্ষার্থীরা

শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কোলাহল ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস যেন ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ, যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে নতুন করে। ফাঁকা ক্লাসরুমে ফিরেছে পাঠদানের গুঞ্জন, আর শান্তিনিকেতন, নীলদীঘি, প্রশান্তি পার্ক, গোলচত্বর— সব জায়গায়ই দেখা যাচ্ছে প্রাণের ছোঁয়া।

বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়ামের আশপাশে শিক্ষার্থীদের পদচারণা, ক্লাসরুমে তাদের উপস্থিতি যেন বলে দিচ্ছে— শিক্ষাজীবনের সেই চিরচেনা ছন্দে ফেরার গল্প। অনেকে ক্লাস শেষে ভিড় করছেন শান্তিনিকেতনের দোকানগুলোতে, হাতে এক কাপ চা, মুখে বন্ধুত্বের হাসি। আবার কেউ কেউ গ্যারেজের আড্ডায় মেতে উঠেছেন বহুদিন পর দেখা পাওয়া প্রিয় মুখগুলোর সঙ্গে।

 

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ইউসুফ বলেন, “দীর্ঘ ছুটির পর ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে মনে হচ্ছে আবার নিজের জীবনে ফিরলাম। এতদিন শুধু মেসেঞ্জারে কথা হতো, এখন কাছ থেকে দেখা হচ্ছে, গল্প হচ্ছে, হাসি হচ্ছে— খুব ভালো লাগছে।” অন্যদিকে অনেকেই ক্লাসের ফাঁকে ক্যাম্পাসের প্রিয় স্পটগুলো ঘুরে দেখছেন, যেন নতুন করে চেনা হচ্ছে জায়গাগুলোকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থাও আবার সচল হয়েছে। প্রতিদিনের মতো গ্যারেজ থেকে শহরের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যাচ্ছে। বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে শত শত শিক্ষার্থীকে। এই চিত্রটিও যেন শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

ক্যাম্পাসে ফিরলেও কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হল ক্যান্টিন এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য বাইরে নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে সময়ও নষ্ট হচ্ছে। অনেককে অভিযোগ করতে দেখা গেছে যে, বাইরে থেকে বেশি দামে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী উম্মে সায়মা বলেন, “আজ দুইটা ক্লাস হয়েছে। এতদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে মনে হলো যেন নিজের ঘরে ফিরেছি। চেনা মুখগুলো, পুরনো ক্লাসরুম, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা— এসবের কোনো তুলনা হয় না। তবে ক্যান্টিনগুলো এখনো বন্ধ থাকায় একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”

 

সব মিলিয়ে বলা যায়, ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের আগমনে নোবিপ্রবি যেন ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ। আবারও শুরু হয়েছে ক্লাস, জমেছে আড্ডা, ফিরেছে চেনা কোলাহল। পুরনো ছন্দে ফিরছে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।

সম্পাদনা: এমআর/সবা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

দীর্ঘ ছুটির পর প্রাণে ফিরেছে নোবিপ্রবিতে, আড্ডায় মেতেছে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০১:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কোলাহল ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস যেন ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ, যেন নিঃশ্বাস নিচ্ছে নতুন করে। ফাঁকা ক্লাসরুমে ফিরেছে পাঠদানের গুঞ্জন, আর শান্তিনিকেতন, নীলদীঘি, প্রশান্তি পার্ক, গোলচত্বর— সব জায়গায়ই দেখা যাচ্ছে প্রাণের ছোঁয়া।

বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়ামের আশপাশে শিক্ষার্থীদের পদচারণা, ক্লাসরুমে তাদের উপস্থিতি যেন বলে দিচ্ছে— শিক্ষাজীবনের সেই চিরচেনা ছন্দে ফেরার গল্প। অনেকে ক্লাস শেষে ভিড় করছেন শান্তিনিকেতনের দোকানগুলোতে, হাতে এক কাপ চা, মুখে বন্ধুত্বের হাসি। আবার কেউ কেউ গ্যারেজের আড্ডায় মেতে উঠেছেন বহুদিন পর দেখা পাওয়া প্রিয় মুখগুলোর সঙ্গে।

 

শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ইউসুফ বলেন, “দীর্ঘ ছুটির পর ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে মনে হচ্ছে আবার নিজের জীবনে ফিরলাম। এতদিন শুধু মেসেঞ্জারে কথা হতো, এখন কাছ থেকে দেখা হচ্ছে, গল্প হচ্ছে, হাসি হচ্ছে— খুব ভালো লাগছে।” অন্যদিকে অনেকেই ক্লাসের ফাঁকে ক্যাম্পাসের প্রিয় স্পটগুলো ঘুরে দেখছেন, যেন নতুন করে চেনা হচ্ছে জায়গাগুলোকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পরিবহন ব্যবস্থাও আবার সচল হয়েছে। প্রতিদিনের মতো গ্যারেজ থেকে শহরের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যাচ্ছে। বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে শত শত শিক্ষার্থীকে। এই চিত্রটিও যেন শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

ক্যাম্পাসে ফিরলেও কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হল ক্যান্টিন এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য বাইরে নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে সময়ও নষ্ট হচ্ছে। অনেককে অভিযোগ করতে দেখা গেছে যে, বাইরে থেকে বেশি দামে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী উম্মে সায়মা বলেন, “আজ দুইটা ক্লাস হয়েছে। এতদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে মনে হলো যেন নিজের ঘরে ফিরেছি। চেনা মুখগুলো, পুরনো ক্লাসরুম, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা— এসবের কোনো তুলনা হয় না। তবে ক্যান্টিনগুলো এখনো বন্ধ থাকায় একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”

 

সব মিলিয়ে বলা যায়, ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের আগমনে নোবিপ্রবি যেন ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ। আবারও শুরু হয়েছে ক্লাস, জমেছে আড্ডা, ফিরেছে চেনা কোলাহল। পুরনো ছন্দে ফিরছে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন।

সম্পাদনা: এমআর/সবা