রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী ও হল সংসদ নির্বাচন (ব্রাকসু) আয়োজন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিতে কোনো শিক্ষক আগ্রহ প্রকাশ না করায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ আদৌ সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে দৈনিক সবুজ বাংলার সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

উপাচার্য বলেন, “ব্রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব এবং এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি। কিন্তু বাস্তবতা হলো—অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো শিক্ষক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না।”
তিনি জানান, শিক্ষকদের একটি বড় অংশ এই দায়িত্বকে ‘থ্যাংকসলেস জব’ বা ধন্যবাদহীন কাজ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ, চাপ ও পারিবারিক অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছেন।
উপাচার্য আরও বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি নেই। মাত্র এক মাসের মধ্যে তিনটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা রাজি না হলে প্রশাসনের এককভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। এমনকি সিন্ডিকেটের সম্মানিত অধ্যাপক সদস্যরাও এই গুরুদায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি।”
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল বলে স্বীকার করেন উপাচার্য। তিনি জানান, সেসব সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষকদের অনাগ্রহ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১১ নভেম্বর অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভোটার তালিকা বারবার সংশোধন ও তফসিল পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা এবং ‘অশালীন আচরণ’-এর মুখে পড়ে তিনি গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদ শূন্য থাকায় নির্ধারিত ২১ জানুয়ারির ব্রাকসু ভোট গ্রহণ নিয়ে এখন নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে বেরোবির প্রথম কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমআর/সবা

























