০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অভিযোগ চাপা দিতে ওসির প্রেস ব্রিফিং

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগকে চাপা দিতে শনিবার সাংবাদিক ডেকে তিনি প্রেস ব্রিফিং করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য আমি আমার ফোর্স নিয়ে সিন্দুর্ণা এলাকায় যাই। পথিমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তাজুর বাড়ির সামনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হয়। আমি সালাম বিনিময় করি। তিন চার মিনিট কথা বলে থানায় চলে আসি।

কিন্তু তার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার গাড়ি আওয়ামী লীগ নেতার বাসার ভিতরে। তিনি অনেক সময় নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে লোকজনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি উক্ত স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার সিন্দুর্ণা এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক নয়, একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিলো বলে স্বীকার করেছেন আমজাদ হোসেন তাজুর পরিবার ও এক পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন তাজু। তিনি একাধিক মামলার আসামী ও  উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসায় দাওয়াতের নামে এক গোপন বৈঠক বসে আওয়ামীলীগ নেতাদের। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্তত ৬ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে যোগ দেয় হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বৈঠক শেষ আওয়ামীলীগ নেতাদের দাওয়াত অনুষ্ঠানেও ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন জড়ো হতে থাকে ফলে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

অপর একটি সুত্র জানান, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা জেলার বাহিরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তারের দাবী, বৈঠক নয়, বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিলো। সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিলেন।

আর লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমান সেন জানান, ওই বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন পুলিশের একজন উচ্চত কর্মকর্তা। সেই কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে গিয়ে ছিলেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অভিযোগ চাপা দিতে ওসির প্রেস ব্রিফিং

আপডেট সময় : ০৫:০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ’র বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগকে চাপা দিতে শনিবার সাংবাদিক ডেকে তিনি প্রেস ব্রিফিং করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, অভিযান পরিচালনার জন্য আমি আমার ফোর্স নিয়ে সিন্দুর্ণা এলাকায় যাই। পথিমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন তাজুর বাড়ির সামনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হয়। আমি সালাম বিনিময় করি। তিন চার মিনিট কথা বলে থানায় চলে আসি।

কিন্তু তার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার গাড়ি আওয়ামী লীগ নেতার বাসার ভিতরে। তিনি অনেক সময় নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে লোকজনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি উক্ত স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার সিন্দুর্ণা এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক নয়, একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিলো বলে স্বীকার করেছেন আমজাদ হোসেন তাজুর পরিবার ও এক পুলিশ কর্মকর্তা।

জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন তাজু। তিনি একাধিক মামলার আসামী ও  উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসায় দাওয়াতের নামে এক গোপন বৈঠক বসে আওয়ামীলীগ নেতাদের। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্তত ৬ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে যোগ দেয় হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বৈঠক শেষ আওয়ামীলীগ নেতাদের দাওয়াত অনুষ্ঠানেও ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন জড়ো হতে থাকে ফলে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

অপর একটি সুত্র জানান, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা জেলার বাহিরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তারের দাবী, বৈঠক নয়, বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিলো। সেই দাওয়াতে ওসি এসেছিলেন।

আর লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমান সেন জানান, ওই বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন পুলিশের একজন উচ্চত কর্মকর্তা। সেই কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে গিয়ে ছিলেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

শু/সবা