০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জমকালো আয়োজনে ইবির আইসিটি বিভাগের রজতজয়ন্তী উদযাপন

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রজতজয়ন্তী উৎসব ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মুস্তাকিম পিয়াস ও মারুফা ইয়াসমিন মিশুর যৌথ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডঃ মোঃ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের আহবায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী ২০২৫ এর আহবায়ক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন।

বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, রজতজয়ন্তী শুধু একটি সময়কাল পূর্তির স্মারক নয়, এটি একটি বিভাগের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতিফলন। বিশ্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলেও এদেশের মানুষ এখনো দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সুযোগ সুবিধা এখনো পরিপূর্ণভাবে পাচ্ছে না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আইসিটি শিক্ষার্থীরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তিতে শিক্ষিত হয়ে সবাইকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রবাহ বা সুযোগ সুবিধা নেই, আপনারা এখানে অবদান রাখলে আমাদের শ্রম স্বার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এলামনাইরা নিজেদের কাজের পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা ব্যবহার করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে যা আপনাদের দ্বারাও সম্ভব। আপনাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় একটি সম্পর্ক হতে হবে।  আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্রে অবস্থান করে ইতোমধ্যেই সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২৫ বছরের ইতিহাসে আপনারা অনেকেই ভালো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আছেন। আইসিটি এখন ডিজিটালাইজেশনের সাথে সংমিশ্রিত হচ্ছে, ডিজিটাল কোডিং হচ্ছে। আইসিটি এখন পলিসি মেকিং সহ প্রতিটি সেক্টরে অবদান রাখছে।

তিনি আরো বলেন, আইসিটি বিভাগ শুরুতে রুগ্ন হলেও এখন অনেক সমৃদ্ধ একটি বিভাগে পরিণত হয়েছে। সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আইসিটি একটি প্ল্যাটফর্ম যা পৃথিবীর রুপ বদলে দিয়েছে আর আপনারা এর কারিগর। বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইদের নিয়ে গর্ব করে, বাবা মা যেমন সন্তানকে নিয়ে গর্ব করে। আপনারা যখন পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন তখন আপনারা ভাব্বেন যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য আপনারা কীভাবে করতে পারেন। আপনাদের অবদানেই এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভাগের এলামনাইবৃন্দ বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও, অডিটোরিয়ামে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এক জমকালো কনসার্টের আয়োজন করা হয় যেখানে গান পরিবেশনা করে জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড ওয়ারফেজের সাবেক ভোকালিস্ট মিজান এবং তার দল।

এর আগে, গতকাল বিকেলে বিভাগের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে চা চক্র, পিঠা উৎসব, স্মৃতিচারণ পর্ব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ১৯৯৮-১৯৯৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৭০০ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জমকালো আয়োজনে ইবির আইসিটি বিভাগের রজতজয়ন্তী উদযাপন

আপডেট সময় : ০৫:১২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রজতজয়ন্তী উৎসব ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মুস্তাকিম পিয়াস ও মারুফা ইয়াসমিন মিশুর যৌথ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডঃ মোঃ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের আহবায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী ২০২৫ এর আহবায়ক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন।

বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, রজতজয়ন্তী শুধু একটি সময়কাল পূর্তির স্মারক নয়, এটি একটি বিভাগের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতিফলন। বিশ্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলেও এদেশের মানুষ এখনো দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সুযোগ সুবিধা এখনো পরিপূর্ণভাবে পাচ্ছে না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আইসিটি শিক্ষার্থীরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তিতে শিক্ষিত হয়ে সবাইকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রবাহ বা সুযোগ সুবিধা নেই, আপনারা এখানে অবদান রাখলে আমাদের শ্রম স্বার্থক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এলামনাইরা নিজেদের কাজের পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা ব্যবহার করে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবর্তন করে যা আপনাদের দ্বারাও সম্ভব। আপনাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় একটি সম্পর্ক হতে হবে।  আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কেন্দ্রে অবস্থান করে ইতোমধ্যেই সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২৫ বছরের ইতিহাসে আপনারা অনেকেই ভালো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত আছেন। আইসিটি এখন ডিজিটালাইজেশনের সাথে সংমিশ্রিত হচ্ছে, ডিজিটাল কোডিং হচ্ছে। আইসিটি এখন পলিসি মেকিং সহ প্রতিটি সেক্টরে অবদান রাখছে।

তিনি আরো বলেন, আইসিটি বিভাগ শুরুতে রুগ্ন হলেও এখন অনেক সমৃদ্ধ একটি বিভাগে পরিণত হয়েছে। সামাজিক পরিবর্তনের জন্য আইসিটি একটি প্ল্যাটফর্ম যা পৃথিবীর রুপ বদলে দিয়েছে আর আপনারা এর কারিগর। বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইদের নিয়ে গর্ব করে, বাবা মা যেমন সন্তানকে নিয়ে গর্ব করে। আপনারা যখন পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন তখন আপনারা ভাব্বেন যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য আপনারা কীভাবে করতে পারেন। আপনাদের অবদানেই এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভাগের এলামনাইবৃন্দ বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও, অডিটোরিয়ামে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এক জমকালো কনসার্টের আয়োজন করা হয় যেখানে গান পরিবেশনা করে জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড ওয়ারফেজের সাবেক ভোকালিস্ট মিজান এবং তার দল।

এর আগে, গতকাল বিকেলে বিভাগের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে চা চক্র, পিঠা উৎসব, স্মৃতিচারণ পর্ব ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ১৯৯৮-১৯৯৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৭০০ সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

শু/সবা