০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের নেতৃত্বে আসছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 

মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী শুক্রবার ঢাকায় নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ ও ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর ব্যক্তিরা যুক্ত হচ্ছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা কয়েকজন নেতাও থাকছেন।

আগামী শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হবে। এর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় একে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী ভাবাদর্শের অনেকে নতুন এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করা অনিক রায়, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও অলিক মৃ থাকছেন এই প্ল্যাটফর্মে। তাঁদের মধ্যে অনিক রায় বামধারার ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পরে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি। লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট তুহিন খান ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। আর আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সাবেক নেতা অলিক মৃ ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক।

নতুন প্ল্যাটফর্মে আরও থাকছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদসহ অনেকে। বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ অ্যাকটিভিস্ট, ছাত্রনেতা, বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর অনুসারীরা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

এই উদ্যোগে যুক্ত নেতৃস্থানীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষ বিশেষ মতাদর্শের নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন ও অনৈক্য তৈরি হয়। তাই ধর্মবর্ণ–নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে যেন রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়, সেটা চান তাঁরা। এর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য। তা ছাড়া মতাদর্শিক কারণে সমাজের নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের ওপর যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে, সেটা বন্ধ হওয়া দরকার। সেখানে সবাইকে দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক মর্যাদা, মৌলিক অধিকার ও তার সুরক্ষা নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চান তাঁরা।

 

প্রায় এক বছর আগে থেকে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে এর প্রস্তাবিত নাম ছিল ‘নিউ পলিটিক্যাল অ্যাকশন’ (নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস)। তবে প্ল্যাটফর্মের জন্য তিন-চারটি নাম বিবেচনায় থাকলেও এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেকেই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন। অনেকের সঙ্গেই আলোচনা চলছে।

জানতে চাইলে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত এনসিপির সাবেক নেতা অনিক রায় বলেন, ‘মোটাদাগে বলতে গেলে, বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে আপনি যদি স্পষ্টভাবে জানতে চান যে আমাদের মতাদর্শ কী, তাহলে বলব, অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা গণতান্ত্রিক অর্থনীতির পক্ষে এবং সামগ্রিকভাবে আমরা সামাজিক গণতন্ত্রের রাজনীতি করতে চাই।’

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

জুলাই অভ্যুত্থানের বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের নেতৃত্বে আসছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম 

আপডেট সময় : ০৮:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী শুক্রবার ঢাকায় নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ ও ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর ব্যক্তিরা যুক্ত হচ্ছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা কয়েকজন নেতাও থাকছেন।

আগামী শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হবে। এর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় একে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী ভাবাদর্শের অনেকে নতুন এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করা অনিক রায়, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও অলিক মৃ থাকছেন এই প্ল্যাটফর্মে। তাঁদের মধ্যে অনিক রায় বামধারার ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পরে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি। লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট তুহিন খান ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। আর আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সাবেক নেতা অলিক মৃ ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক।

নতুন প্ল্যাটফর্মে আরও থাকছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদসহ অনেকে। বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ অ্যাকটিভিস্ট, ছাত্রনেতা, বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর অনুসারীরা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

এই উদ্যোগে যুক্ত নেতৃস্থানীয় একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষ বিশেষ মতাদর্শের নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন ও অনৈক্য তৈরি হয়। তাই ধর্মবর্ণ–নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে যেন রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়, সেটা চান তাঁরা। এর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য। তা ছাড়া মতাদর্শিক কারণে সমাজের নানা শ্রেণি–পেশার মানুষের ওপর যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে, সেটা বন্ধ হওয়া দরকার। সেখানে সবাইকে দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক মর্যাদা, মৌলিক অধিকার ও তার সুরক্ষা নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চান তাঁরা।

 

প্রায় এক বছর আগে থেকে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে এর প্রস্তাবিত নাম ছিল ‘নিউ পলিটিক্যাল অ্যাকশন’ (নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস)। তবে প্ল্যাটফর্মের জন্য তিন-চারটি নাম বিবেচনায় থাকলেও এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেকেই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন। অনেকের সঙ্গেই আলোচনা চলছে।

জানতে চাইলে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত এনসিপির সাবেক নেতা অনিক রায় বলেন, ‘মোটাদাগে বলতে গেলে, বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে আপনি যদি স্পষ্টভাবে জানতে চান যে আমাদের মতাদর্শ কী, তাহলে বলব, অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা গণতান্ত্রিক অর্থনীতির পক্ষে এবং সামগ্রিকভাবে আমরা সামাজিক গণতন্ত্রের রাজনীতি করতে চাই।’

এমআর/সবা