“হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না” শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে এমন স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চবি শাখা। তাদের অভিযোগ, পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।
বুধবার (২০ জানুয়ারী) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে শাকসুর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘মব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’, ‘দালালি না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘তোমার আমার অধিকার, শাকসু শাকসু’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘লন্ডন না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান—শাকসু ব্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটের আগের দিন হাইকোর্টের আদেশে সেই নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, “৫ অগাস্টের পরে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসের দাবি ছিল—ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু, জকসু নির্বাচন হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবয়িত হয়েছে।”
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক বলেন, “নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে পেছানো হচ্ছে শাকসু নির্বাচন। একটি দল তাদের সর্বোচ্চ নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।”
ছাত্রশিবিরের সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সভাপতি আবরার ফারাবী বলেন, “১৯৯১ সালে রাজনীতির পটপরিবর্তন হবার পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সকাল ছাত্র সংসদ স্থগিত করে দিয়েছিল। বিগত ৩৫ বছর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ বন্ধের জন্য দায়ী ছিলো বিএনপি সরকার। ৫ অগাস্টের পর তারা ক্ষমতায় আসার পূর্বেই আবার শাকসু নির্বাচন বন্ধের পাঁয়তারা করছে। বাংলাদেশের সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা কলকাঠি নেড়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা নতুন করে শাকসু নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমরা বলতে চাই, আমরা নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেব না।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম ৫ অগাস্টের পর সবাই সুন্দর রাজনীতিতে ফিরবে। কিন্তু ছাত্রদল সেই পুরনো টেন্ডারবাজি ও হামলা-মামলার পথেই হাঁটছে।
“ডাকসুসহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা হেরেছে, এখন শাকসুতেও পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে।”
চাকসুর জিএস ও শাখা ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “পাঁচটি ছাত্র সংসদে যেমন শিক্ষার্থীরা আপনাদের চায়নি, শাকসু নির্বাচনেও শিক্ষার্থীরা আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করবে। তারা স্লোগান দেয়, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’; তবে তারা প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে নয়। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চাইলে সুপথে ফিরে এসে রাজনীতি করুন। রাজনীতি যদি করতে হয়, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করুন। অবিলম্বে শাকসু নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান করছি।”
চাকসুর ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনি বলেন, “১৯৯০-৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পাঁচ তারিখের পর তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল টেন্ডারবাজি, যার কারণে তারা ধারাবাহিকভাবে সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।
“আপনারা মবতন্ত্র কায়েম করতে চাইলে আপনাদের অবস্থাও শেখের বেটির মতোই হবে।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার দাবি জানান।
শু/সবা

























