০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক ভোটই জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচিত করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের প্রতিও জবাব দেবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে।”

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আপামর জনগণের, বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের প্রতি চিরঋণী।”

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণা পূর্বের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী দায়িত্বশীল আচরণ করেছে এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছে। তবে নির্বাচনের সময় কিছু সহিংসতায় মূল্যবান প্রাণও হারিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে, স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, “এ নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি মাইলফলক। আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের কাঠামো নির্ধারণ করবে গণভোট।”

অধ্যাপক ইউনূস বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আপনারা ভোট দিতে পারেননি। আজ আপনারা প্রথমবারের মতো নিজস্ব কণ্ঠে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবেন। নারীরাও সকল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত। এই ভোট নতুন সূচনার বার্তা দেবে।”

তিনি সর্বশেষ জনগণকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় ও পরাজয় দুটোই গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে পৌর ভবনের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ

এক ভোটই জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচিত করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের প্রতিও জবাব দেবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে।”

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আপামর জনগণের, বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের প্রতি চিরঋণী।”

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণা পূর্বের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ হয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী দায়িত্বশীল আচরণ করেছে এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছে। তবে নির্বাচনের সময় কিছু সহিংসতায় মূল্যবান প্রাণও হারিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে, স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, “এ নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি মাইলফলক। আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের কাঠামো নির্ধারণ করবে গণভোট।”

অধ্যাপক ইউনূস বিশেষভাবে তরুণ ও নারী ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আপনারা ভোট দিতে পারেননি। আজ আপনারা প্রথমবারের মতো নিজস্ব কণ্ঠে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবেন। নারীরাও সকল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত। এই ভোট নতুন সূচনার বার্তা দেবে।”

তিনি সর্বশেষ জনগণকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় ও পরাজয় দুটোই গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

শু/সবা