১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক নারী দিবস নিয়ে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নারী দিবস প্রতি বছর ৮ মার্চ পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি নারীদের অধিকার, সম্মান ও অবদানের স্বীকৃতির জন্য উদ্‌যাপন করা হয়। নারীর সম্মান মানে মানবতার সম্মান। নারীর অধিকার মানে ন্যায়ের অধিকার। নারী মানেই শক্তি, সাহস আর মমতার এক অপূর্ব মিশ্রণ।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস  সব নারীর সাহস, সংগ্রাম আর সাফল্যকে শ্রদ্ধা জানানোর দিন।শ্রদ্ধা সেই সব নারীদের,
যাদের ত্যাগে পৃথিবী আরও মানবিক এবং সহজ। আজকের এই বিশেষ দিনে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিতুমীর কলেজের নারী শিক্ষার্থীরা।নিন্মে তা তুলে ধরা হলো :

প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, আমার মতে, নারী দিবস শুধু শুভেচ্ছা বা উদযাপনের দিন না—এটা একটু আত্মসমালোচনার দিনও।আমরা এই দিনে নারীদের নিয়ে অনেক সুন্দর কথা বলি, তাদের শক্তি ও অবদানকে স্বীকার করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমাজের অনেক জায়গায় এখনও নারীদের সমানভাবে দেখা হয় না, তাদের স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তকে সহজে গ্রহণ করা হয় না।
তাই নারী দিবসের আসল গুরুত্ব তখনই হবে, যখন সম্মানটা শুধু একটা দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং প্রতিদিনের আচরণে, চিন্তায় এবং সুযোগের জায়গায় সেটা দেখা যাবে। আমার কাছে নারী দিবস মানে—নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা আর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা মনে করিয়ে দেওয়া।

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আফিয়া আবিদা অর্নি বলেন, নারী”, যা একজন যোদ্ধার প্রতিনাম। একজন নারী কখনো মেয়ে কখনো বোন কখনো বা “মা”। এই নারীই আবার সংসার সামলে কখনো হয়ে উঠেন চাকরিজীবী কখনো বা রাজনীতিবিদ।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।কিন্তু এরপরেও বর্তমান সময়ে নারীরা কতটুকু অধিকার পায়,আমি এ নিয়ে বড় সংকিত! আজও সমাজে আমার বোন ধর্ষিত হয়, শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষনের পর তাকে মেরেও ফেলা হচ্ছে।
নামে মাত্র নারীদিবস পালন না করে আমি বিচার চাই সেই সকল নারীদের হয়ে যারা শিশু থেকে কিশোরী কিংবা বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষনের শিকার। বিচার চাই সেসব নারীদের হয়ে যাঁরা প্রতিনিয়ত সহ্য করে যাচ্ছে নারী হয়ে জন্মানোর বঞ্চনা।আমি বলতে চাই,বর্তমান সময়ে নারীরা আর পুরুষের তরবারির শক্তি নয়,বরং নারীরা এখন নিজেরাই শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।

 

রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, নারী দিবস শুধু একটি দিন উদযাপনের বিষয় নয়; এটি নারী অধিকার, সম্মান এবং সমতার গুরুত্ব স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে—পরিবার, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়—নারীর অবদান অপরিসীম। তবুও অনেক ক্ষেত্রে নারী এখনো বৈষম্য, সহিংসতা এবং সুযোগের অভাবের মুখোমুখি হয়। তাই নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীদের প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়তে নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু নারীর উন্নয়ন নয়, বরং পুরো সমাজের অগ্রগতি। তাই নারী দিবস আমাদের প্রতিজ্ঞা করার দিন—নারীর অধিকার রক্ষা করা, তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সম্মান করা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। প্রকৃত অর্থে, নারী দিবস তখনই সফল হবে যখন বছরের প্রতিটি দিনই নারীর সম্মান, মর্যাদা ও সমতার দিন হয়ে উঠবে।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, নারী মানেই সাহস, শক্তি আর অনুপ্রেরণার প্রতীক
সাহসিকতার ফলে নারীরা পৃথিবী আলোকিত করছে। একজন শিক্ষিত নারীর জ্ঞান তার জীবন কে বোধগম্য করে,কুসংস্কারাছন্ন সমাজে পরিবর্তন আনে ,নারীর পবিত্রতা তার আত্মা কে আনন্দিত করে , কিন্তু বর্তমান যুগে এসেও কি আমরা নারীর শিক্ষা, পবিত্রতা, সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করে চলছি? আমারা কি নারীর নিরাপত্তা, অধিকার , নেতৃত্ব এই সমাজে বিনিয়োগ করতে পেরেছি? সামাজিক কাঠামোতে পুরুষকেন্দ্রিক সাফল্য কি সামগ্রিকভাবে সমাজে পরিবর্তন আনবে? যেখানে সমাজ কাঠামোতে এখনও আমরা নারীর প্রতি পারিবারিক, সামাজিক সহিংসতা দেখতে পাই, শিক্ষায় বৈষম্য করি , নারীর প্রজনন অধিকারে হস্তক্ষেপ করি ,নারীর নেতৃত্ব কে লিঙ্গ সমতায় বিবেচনা করি, বৈষম্য করি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির উপর, বৈষম্য করি সমান মজুরি দানে, নারীর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বর্তমান সমাজের ব্যাধি । সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় নারীর সামাজিক নিরাপত্তা, উন্নত অনুন্নত অনেক দেশে যেখানে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেখানে এ দেশে সুশীল সমাজ কাঠামোতে নারীর চলাচল যেনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার মতো। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে আমরাই নারী কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।কারন এই সমাজ কাঠামোতে বেশি সংখ্যক মানুষ নারী কে প্রতিপক্ষ মনে করে যার ফলশ্রুতি আমরা সামাজিক সহিংসতার মূখোমূখী।যদি রাষ্ট্রের সামগ্রিকভাবে সাফল্য কামনা করি তাহলে নারীর প্রতি সামাজিক সিস্টেম এর পরিবর্তন হোক।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিন ইসলাম জিনিয়া বলেন, নারী দিবস আমাদের শেখায় সম্মান, সমতা ও নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়, এটি নারীর প্রাপ্য অধিকার।নারী মানে শুধু সম্পর্কের পরিচয় নয়,নারী মানে নিজের পরিচয়ে দৃঢ় এক সত্তা।একজন নারী একই সঙ্গে স্বপ্নবুননকারী, সংগ্রামী আর স্নেহময়ী।তার হাতেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রথম শিক্ষা।যে ঘরে নারীর সম্মান আছে,সে ঘরেই শান্তি থাকে, আশীর্বাদ থাকে।নারীর চোখে স্বপ্ন থাকলে সমাজে আলো জ্বলে।স্বপ্ন দেখতে জানে যে নারী, সে একদিন ইতিহাসও গড়তে পারে। সুযোগ পেলে নারী অসম্ভবকে সম্ভব করে।একজন নারী শুধু একজন মানুষ নন,তিনি একটি পরিবার, একটি শক্তি, একটি প্রেরণা।তার ত্যাগের গল্পগুলো নীরব, কিন্তু তার অবদান সবচেয়ে উচ্চস্বরে কথা বলে।নারীকে থামিয়ে রাখা যায় নাকারণ তিনি ঝড়েও দাঁড়াতে জানেন।সম্মান দিলে তিনি আশীর্বাদ,অবহেলা করলে তিনি প্রতিবাদ।

বোটানি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী, জেভিয়া চাকমা বলেন, নারী সমাজের অর্ধেক অংশ। তাদের পিছিয়ে রাখলে সমাজ কখনোই এগোতে পারে না। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, পরিবার সব জায়গায় নারীর সমান অংশগ্রহণ উন্নতির চাবিকাঠি।নারী দুর্বল নয়, সুযোগের অভাবে পিছিয়ে।  অধিকার মানে দয়া নয় এটা সকলের প্রাপ্য।
নারীর অধিকার মানে হলো—শিক্ষার সমান সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে সমান মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ জীবন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা। একজন নারী শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়, আর পরিবার শিক্ষিত হলে দেশ এগিয়ে যায়।
আমাদের সমাজে এখনও অনেক নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। বিশেষ করে বাংলাদেশে আদিবাসী নারীরা নির্যাতন, পরিচয়, ভাষা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।  এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সম্মান, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ পেলেই নারীরা সমাজকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।

 

শু/সবা

কক্সবাজারে রাখাইন নারী ফোরামের আয়োজনে নারী দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক নারী দিবস নিয়ে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নারী দিবস প্রতি বছর ৮ মার্চ পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি নারীদের অধিকার, সম্মান ও অবদানের স্বীকৃতির জন্য উদ্‌যাপন করা হয়। নারীর সম্মান মানে মানবতার সম্মান। নারীর অধিকার মানে ন্যায়ের অধিকার। নারী মানেই শক্তি, সাহস আর মমতার এক অপূর্ব মিশ্রণ।
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস  সব নারীর সাহস, সংগ্রাম আর সাফল্যকে শ্রদ্ধা জানানোর দিন।শ্রদ্ধা সেই সব নারীদের,
যাদের ত্যাগে পৃথিবী আরও মানবিক এবং সহজ। আজকের এই বিশেষ দিনে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিতুমীর কলেজের নারী শিক্ষার্থীরা।নিন্মে তা তুলে ধরা হলো :

প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, আমার মতে, নারী দিবস শুধু শুভেচ্ছা বা উদযাপনের দিন না—এটা একটু আত্মসমালোচনার দিনও।আমরা এই দিনে নারীদের নিয়ে অনেক সুন্দর কথা বলি, তাদের শক্তি ও অবদানকে স্বীকার করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমাজের অনেক জায়গায় এখনও নারীদের সমানভাবে দেখা হয় না, তাদের স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তকে সহজে গ্রহণ করা হয় না।
তাই নারী দিবসের আসল গুরুত্ব তখনই হবে, যখন সম্মানটা শুধু একটা দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং প্রতিদিনের আচরণে, চিন্তায় এবং সুযোগের জায়গায় সেটা দেখা যাবে। আমার কাছে নারী দিবস মানে—নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা আর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা মনে করিয়ে দেওয়া।

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আফিয়া আবিদা অর্নি বলেন, নারী”, যা একজন যোদ্ধার প্রতিনাম। একজন নারী কখনো মেয়ে কখনো বোন কখনো বা “মা”। এই নারীই আবার সংসার সামলে কখনো হয়ে উঠেন চাকরিজীবী কখনো বা রাজনীতিবিদ।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।কিন্তু এরপরেও বর্তমান সময়ে নারীরা কতটুকু অধিকার পায়,আমি এ নিয়ে বড় সংকিত! আজও সমাজে আমার বোন ধর্ষিত হয়, শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষনের পর তাকে মেরেও ফেলা হচ্ছে।
নামে মাত্র নারীদিবস পালন না করে আমি বিচার চাই সেই সকল নারীদের হয়ে যারা শিশু থেকে কিশোরী কিংবা বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষনের শিকার। বিচার চাই সেসব নারীদের হয়ে যাঁরা প্রতিনিয়ত সহ্য করে যাচ্ছে নারী হয়ে জন্মানোর বঞ্চনা।আমি বলতে চাই,বর্তমান সময়ে নারীরা আর পুরুষের তরবারির শক্তি নয়,বরং নারীরা এখন নিজেরাই শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।

 

রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, নারী দিবস শুধু একটি দিন উদযাপনের বিষয় নয়; এটি নারী অধিকার, সম্মান এবং সমতার গুরুত্ব স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে—পরিবার, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়—নারীর অবদান অপরিসীম। তবুও অনেক ক্ষেত্রে নারী এখনো বৈষম্য, সহিংসতা এবং সুযোগের অভাবের মুখোমুখি হয়। তাই নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীদের প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গড়তে নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু নারীর উন্নয়ন নয়, বরং পুরো সমাজের অগ্রগতি। তাই নারী দিবস আমাদের প্রতিজ্ঞা করার দিন—নারীর অধিকার রক্ষা করা, তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সম্মান করা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। প্রকৃত অর্থে, নারী দিবস তখনই সফল হবে যখন বছরের প্রতিটি দিনই নারীর সম্মান, মর্যাদা ও সমতার দিন হয়ে উঠবে।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, নারী মানেই সাহস, শক্তি আর অনুপ্রেরণার প্রতীক
সাহসিকতার ফলে নারীরা পৃথিবী আলোকিত করছে। একজন শিক্ষিত নারীর জ্ঞান তার জীবন কে বোধগম্য করে,কুসংস্কারাছন্ন সমাজে পরিবর্তন আনে ,নারীর পবিত্রতা তার আত্মা কে আনন্দিত করে , কিন্তু বর্তমান যুগে এসেও কি আমরা নারীর শিক্ষা, পবিত্রতা, সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করে চলছি? আমারা কি নারীর নিরাপত্তা, অধিকার , নেতৃত্ব এই সমাজে বিনিয়োগ করতে পেরেছি? সামাজিক কাঠামোতে পুরুষকেন্দ্রিক সাফল্য কি সামগ্রিকভাবে সমাজে পরিবর্তন আনবে? যেখানে সমাজ কাঠামোতে এখনও আমরা নারীর প্রতি পারিবারিক, সামাজিক সহিংসতা দেখতে পাই, শিক্ষায় বৈষম্য করি , নারীর প্রজনন অধিকারে হস্তক্ষেপ করি ,নারীর নেতৃত্ব কে লিঙ্গ সমতায় বিবেচনা করি, বৈষম্য করি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির উপর, বৈষম্য করি সমান মজুরি দানে, নারীর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বর্তমান সমাজের ব্যাধি । সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় নারীর সামাজিক নিরাপত্তা, উন্নত অনুন্নত অনেক দেশে যেখানে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেখানে এ দেশে সুশীল সমাজ কাঠামোতে নারীর চলাচল যেনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার মতো। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে আমরাই নারী কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।কারন এই সমাজ কাঠামোতে বেশি সংখ্যক মানুষ নারী কে প্রতিপক্ষ মনে করে যার ফলশ্রুতি আমরা সামাজিক সহিংসতার মূখোমূখী।যদি রাষ্ট্রের সামগ্রিকভাবে সাফল্য কামনা করি তাহলে নারীর প্রতি সামাজিক সিস্টেম এর পরিবর্তন হোক।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিন ইসলাম জিনিয়া বলেন, নারী দিবস আমাদের শেখায় সম্মান, সমতা ও নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়, এটি নারীর প্রাপ্য অধিকার।নারী মানে শুধু সম্পর্কের পরিচয় নয়,নারী মানে নিজের পরিচয়ে দৃঢ় এক সত্তা।একজন নারী একই সঙ্গে স্বপ্নবুননকারী, সংগ্রামী আর স্নেহময়ী।তার হাতেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রথম শিক্ষা।যে ঘরে নারীর সম্মান আছে,সে ঘরেই শান্তি থাকে, আশীর্বাদ থাকে।নারীর চোখে স্বপ্ন থাকলে সমাজে আলো জ্বলে।স্বপ্ন দেখতে জানে যে নারী, সে একদিন ইতিহাসও গড়তে পারে। সুযোগ পেলে নারী অসম্ভবকে সম্ভব করে।একজন নারী শুধু একজন মানুষ নন,তিনি একটি পরিবার, একটি শক্তি, একটি প্রেরণা।তার ত্যাগের গল্পগুলো নীরব, কিন্তু তার অবদান সবচেয়ে উচ্চস্বরে কথা বলে।নারীকে থামিয়ে রাখা যায় নাকারণ তিনি ঝড়েও দাঁড়াতে জানেন।সম্মান দিলে তিনি আশীর্বাদ,অবহেলা করলে তিনি প্রতিবাদ।

বোটানি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী, জেভিয়া চাকমা বলেন, নারী সমাজের অর্ধেক অংশ। তাদের পিছিয়ে রাখলে সমাজ কখনোই এগোতে পারে না। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, পরিবার সব জায়গায় নারীর সমান অংশগ্রহণ উন্নতির চাবিকাঠি।নারী দুর্বল নয়, সুযোগের অভাবে পিছিয়ে।  অধিকার মানে দয়া নয় এটা সকলের প্রাপ্য।
নারীর অধিকার মানে হলো—শিক্ষার সমান সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে সমান মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ জীবন এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা। একজন নারী শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়, আর পরিবার শিক্ষিত হলে দেশ এগিয়ে যায়।
আমাদের সমাজে এখনও অনেক নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। বিশেষ করে বাংলাদেশে আদিবাসী নারীরা নির্যাতন, পরিচয়, ভাষা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।  এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সম্মান, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ পেলেই নারীরা সমাজকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।

 

শু/সবা