5:22 pm, Friday, 19 June 2026

বাংলাদেশ-আলজেরিয়া সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া-এর মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দেলৌহাব সাইদানী

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত আলজেরিয়া দূতাবাসে আয়োজিত দেশটির ‘বিজয় দিবস’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ১৯৬২ সালের ১৯ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এদিন বেনইউসেফ বেনখেদ্দা ‘এভিয়ান চুক্তি’র পর সমগ্র আলজেরিয়ায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটে।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলেই ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পথ সুগম হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের বিপুল সমর্থনে দেশটির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, এটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার জনগণ ও ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের ত্যাগের চূড়ান্ত ফল।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম আন্তর্জাতিক মহলে উপনিবেশমুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। সশস্ত্র প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ‘এভিয়ান চুক্তি’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং অবকাঠামো, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে ‘নতুন আলজেরিয়া’ গঠনের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বিশ্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলনে আলজেরিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, দেশটি শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাস বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া— উভয় দেশের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়ার বিজয় দিবস ১৯ মার্চ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ— উভয়ই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক।

রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, যা দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করে।

পরিশেষে, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × 1 =

About Author Information

ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন পর্ষদ গঠনের দাবিতে ৭ দফা

বাংলাদেশ-আলজেরিয়া সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয় রাষ্ট্রদূতের

Update Time : ০৩:১৬:৫১ pm, Thursday, ১৯ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া-এর মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দেলৌহাব সাইদানী

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকায় অবস্থিত আলজেরিয়া দূতাবাসে আয়োজিত দেশটির ‘বিজয় দিবস’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ১৯৬২ সালের ১৯ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এদিন বেনইউসেফ বেনখেদ্দা ‘এভিয়ান চুক্তি’র পর সমগ্র আলজেরিয়ায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটে।

তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলেই ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পথ সুগম হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের বিপুল সমর্থনে দেশটির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, এটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার জনগণ ও ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের ত্যাগের চূড়ান্ত ফল।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম আন্তর্জাতিক মহলে উপনিবেশমুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। সশস্ত্র প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ‘এভিয়ান চুক্তি’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং অবকাঠামো, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে ‘নতুন আলজেরিয়া’ গঠনের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বিশ্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলনে আলজেরিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, দেশটি শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাস বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া— উভয় দেশের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়ার বিজয় দিবস ১৯ মার্চ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ— উভয়ই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক।

রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, যা দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করে।

পরিশেষে, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

শু/সবা