নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা পুটিমারী ইউনিয়নের উত্তর কালিকাপুর লালজুম্মা মাঝাপাড়া এলাকায় শিশু শিক্ষার্থীর পরিবারকে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান।
বুধবার বিকালে পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর লালজুম্মা মাঝাপাড়া গ্রামের মজিদুল হকের ছোট ছেলে রিফাত ইসলামের বাড়ীতে দেখা করতে যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান। রিফাত ইসলাম জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার দৌড়ে সারাদেশে ২য় স্থান অধিকার করে চ্যাম্পিয়ন হয়। পরে তিনি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আতাউল গনি ওসমানী ও সাংবাদিক শাকীরের মাধ্যমে জানতে পারেন জাতীয় পর্যায়ে দৌড়ে ২য় স্থান অধিকার করা শিক্ষার্থীর মা নেই।
বাবা ২য় বিয়ে করে ঢাকায় বউ নিয়ে নতুন করে সংসার করছেন। শিশু শিক্ষার্থী রিফাতের দাদী একজন ভিক্ষুক। সে অন্যের বাড়ীতে ভিক্ষা করে শিশু রিফাতের পড়ালেখা করান। রিফাতের স্কুল উত্তর কালিকাপুর পশ্চিম পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান শিশু শিক্ষার্থী রিফাতকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে উপজেলা,জেলা,বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহন করে জাতীয় পর্যায়ে ২য় স্থান অধিকার করে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।
শিশু শিক্ষার্থী রিফাত জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে গোটা উপজেলা জুড়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার উঠেছে। শিক্ষা পরিবার বইছে আনন্দের বাতাস। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান ছুঁটে যায় রিফাতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রিফাতকে জড়িয়ে ধরে আদর করে বুকে টেনে নেয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার, বাড়ীর করার জন্য ২ বান্ডেল ঢেউটিন নগদ ৬ হাজার টাকা তার দাদীর হাতে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউল গনি ওসমানী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান। পরে রিফাতের ভালো পড়ালেখার জন্য জেলা শিশু সনদে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।
শু/সবা
নীলফামারী প্রতিনিধি 























