4:13 am, Sunday, 21 June 2026

নওগাঁয় শিক্ষিকাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের আরেক নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ যৌন হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া ওই শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। এরপর গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে তার পথরোধ করে তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার জেরে গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জুতাপেটা করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তিনি মান্দা থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগ করার পর থেকে তাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটির কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটা বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

14 + 13 =

About Author Information

ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

নওগাঁয় শিক্ষিকাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Update Time : ১০:২০:৫৯ pm, Thursday, ১৮ জুন ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের আরেক নারী শিক্ষককে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ যৌন হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া ওই শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে পরবর্তীতে আবারও একই ধরনের আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। এরপর গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে তার পথরোধ করে তাকে হেনস্তা করা হয়। পরে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার জেরে গতকাল বুধবার বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে জুতাপেটা করার চেষ্টা করেন। অন্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তিনি মান্দা থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযোগ করার পর থেকে তাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটির কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও সেটা বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি তাতে সাড়া না দেওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শু/সবা