5:57 pm, Friday, 19 June 2026

ঢাকায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ

দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দর্শক সারিতে বসে কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে জাতীয় ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। প্যারেড উপ-অধিনায়ক ছিলেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম।

এবারের কুচকাওয়াজে মোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের নেতৃত্বে ছিলেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান। সুসজ্জিত বাহনে চড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানটির প্রধান আকর্ষণ ছিল।

আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং এবং র‍্যাব ফোর্সেসের ফ্লাইপাস্ট, দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ‘ফ্রিফল জাম্প’ কুচকাওয়াজকে আরও মনোজ্ঞ ও আকর্ষণীয় করে তোলে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের চেতনাও জনগণ বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ার ও রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে স্বাধীনতা দিবসের চেতনা সংবলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের ছবি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সফল করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, টিএন্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের বিশেষ সহযোগিতা ছিল।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

12 − eleven =

About Author Information

ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন পর্ষদ গঠনের দাবিতে ৭ দফা

ঢাকায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ

Update Time : ০৬:০৫:৫৯ pm, Thursday, ২৬ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দর্শক সারিতে বসে কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে জাতীয় ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও সাভার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক। প্যারেড উপ-অধিনায়ক ছিলেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম।

এবারের কুচকাওয়াজে মোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের নেতৃত্বে ছিলেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান। সুসজ্জিত বাহনে চড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানটির প্রধান আকর্ষণ ছিল।

আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং এবং র‍্যাব ফোর্সেসের ফ্লাইপাস্ট, দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ‘ফ্রিফল জাম্প’ কুচকাওয়াজকে আরও মনোজ্ঞ ও আকর্ষণীয় করে তোলে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের চেতনাও জনগণ বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পারে।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ার ও রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে স্বাধীনতা দিবসের চেতনা সংবলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের ছবি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সফল করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, টিএন্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের বিশেষ সহযোগিতা ছিল।

শু/সবা