আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে গাঠনিক সংকট রয়েছে এবং এটি জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতি ছাড়া প্রণয়ন করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের দলকে স্বাধীনতাবিরোধী বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ফুয়াদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধানে নতুন করে চারটি মূলনীতি যুক্ত করা হয়, যার উৎস ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গণপরিষদের সদস্যরা মূলত পাকিস্তান আমলের আইনি কাঠামোর অধীনে নির্বাচিত ছিলেন, ফলে নতুন রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নে তাদের বৈধতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তার মতে, জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সংবিধান টেকসই হতে পারে না।
গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করায় বাস্তব প্রয়োগে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধানের আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক থেকেই বর্তমান সংকটের উৎপত্তি।
বিএনপি ও সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে ফুয়াদ বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের মতামতই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। সেই অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি বলে মত দেন তিনি।
শু/সবা
Reporter Name 






















