11:32 pm, Tuesday, 2 June 2026

ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দেশের ফুটবলের উন্নয়নে আবারও বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর নির্বাহী কমিটির সঙ্গে। মন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় বৈঠক। আগের বৈঠকটি সৌজন্যমূলক হলেও এবার আলোচনার মূল বিষয় ছিল আগামী এক বছরের ফুটবল কার্যক্রম ও পরিকল্পনা।

বৈঠকে বাফুফে চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সূচি ও ভেন্যুর পরিকল্পনা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে। সেখানে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও টুর্নামেন্টের সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে পিছিয়েছে, বাফুফের বর্ষপঞ্জিতে এখনো সেপ্টেম্বরই রাখা হয়েছে।

আগামী বছর দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি আসরের স্বাগতিক হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ফেডারেশনের। এছাড়া ২০৩০ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, যা শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের মার্চে।

আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মাঝেও আগামী বছর শহীদ জিয়ার নামে একটি আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। যদিও এর সময়সূচি ও ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ঘরোয়া ফুটবলেও বড় পরিসরের পরিকল্পনা নিয়েছে ফেডারেশন। আগামী বছরের সূচিতে রাখা হয়েছে ২৩টি ইভেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ফুটবল, বিচ সকার, বিভাগীয় মহিলা ক্লাব লিগ, চ্যালেঞ্জ কাপ, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপ। সুপার কাপ আগামী বছরের ৮ থেকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জেলা ফুটবল, পাইওনিয়ার লিগসহ তৃণমূল পর্যায়ের বেশ কিছু প্রতিযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে দেশের ফুটবলের অন্যতম বড় সংকট মাঠ সমস্যাও উঠে আসে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কমলাপুর স্টেডিয়াম বাফুফের অধীনে হস্তান্তরের আলোচনা কয়েক মাস ধরে চললেও এখনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাফুফেকে ভবিষ্যতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত অবহিত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এতে সমন্বয় ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি তৃণমূলের ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোকে আরও বেশি গণমাধ্যমে তুলে ধরার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ফুটবলের মতো অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সঙ্গেও ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন তিনি।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × 1 =

About Author Information

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত খলিলুর রহমান

ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৬:৫৬:৪৫ pm, Tuesday, ২ জুন ২০২৬

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দেশের ফুটবলের উন্নয়নে আবারও বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর নির্বাহী কমিটির সঙ্গে। মন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় বৈঠক। আগের বৈঠকটি সৌজন্যমূলক হলেও এবার আলোচনার মূল বিষয় ছিল আগামী এক বছরের ফুটবল কার্যক্রম ও পরিকল্পনা।

বৈঠকে বাফুফে চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সূচি ও ভেন্যুর পরিকল্পনা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে। সেখানে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও টুর্নামেন্টের সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে পিছিয়েছে, বাফুফের বর্ষপঞ্জিতে এখনো সেপ্টেম্বরই রাখা হয়েছে।

আগামী বছর দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি আসরের স্বাগতিক হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ফেডারেশনের। এছাড়া ২০৩০ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, যা শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের মার্চে।

আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার মাঝেও আগামী বছর শহীদ জিয়ার নামে একটি আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বাফুফে। যদিও এর সময়সূচি ও ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ঘরোয়া ফুটবলেও বড় পরিসরের পরিকল্পনা নিয়েছে ফেডারেশন। আগামী বছরের সূচিতে রাখা হয়েছে ২৩টি ইভেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ফুটবল, বিচ সকার, বিভাগীয় মহিলা ক্লাব লিগ, চ্যালেঞ্জ কাপ, ফেডারেশন কাপ, স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপ। সুপার কাপ আগামী বছরের ৮ থেকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জেলা ফুটবল, পাইওনিয়ার লিগসহ তৃণমূল পর্যায়ের বেশ কিছু প্রতিযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈঠকে দেশের ফুটবলের অন্যতম বড় সংকট মাঠ সমস্যাও উঠে আসে। সিলেট, চট্টগ্রাম ও কমলাপুর স্টেডিয়াম বাফুফের অধীনে হস্তান্তরের আলোচনা কয়েক মাস ধরে চললেও এখনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাফুফেকে ভবিষ্যতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত অবহিত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এতে সমন্বয় ও পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে। পাশাপাশি তৃণমূলের ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোকে আরও বেশি গণমাধ্যমে তুলে ধরার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ফুটবলের মতো অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সঙ্গেও ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন তিনি।

শু/সবা