2:55 pm, Sunday, 28 June 2026

লেবানন-ইসরায়েল রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন হিজবুল্লাহ প্রধান

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাশেম। ছবি: সংগৃহীত

 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাশেম। তিনি চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের আলোকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে কাশেম এ মন্তব্য করেন। গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনার পর ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণার পর এটিই এ বিষয়ে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

বিবৃতিতে নাইম কাশেম বলেন, “এই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর ভাষায়, এমন পদক্ষেপ লেবাননকে ইসরায়েলের প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করবে।

চুক্তিকে ঘিরে লেবাননে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতা এটিকে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকেরা এটিকে ইসরায়েলের প্রতি একতরফা ছাড় বলে অভিহিত করেছেন। চুক্তির প্রতিবাদে রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভও হয়েছে।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘর্ষ বন্ধের লক্ষ্যে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই রূপরেখা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ এতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি প্রসঙ্গে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, বৈরিতার স্থায়ী অবসান, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজভূমিতে প্রত্যাবর্তন এবং দুই দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, যাতে উভয় দেশের জনগণ নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দেশটির কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়। এর আগেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনোটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 − 10 =

About Author Information

কক্সবাজারে শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা, নারী মৎস্যশ্রমিকদের সরকারি সহায়তা ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের দাবি

লেবানন-ইসরায়েল রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন হিজবুল্লাহ প্রধান

Update Time : ০১:৩২:৩৭ pm, Sunday, ২৮ জুন ২০২৬

 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাশেম। তিনি চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের আলোকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, শনিবার (২৭ জুন) এক বিবৃতিতে কাশেম এ মন্তব্য করেন। গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনার পর ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণার পর এটিই এ বিষয়ে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।

বিবৃতিতে নাইম কাশেম বলেন, “এই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের শর্তের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর ভাষায়, এমন পদক্ষেপ লেবাননকে ইসরায়েলের প্রভাবাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করবে।

চুক্তিকে ঘিরে লেবাননে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতা এটিকে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকেরা এটিকে ইসরায়েলের প্রতি একতরফা ছাড় বলে অভিহিত করেছেন। চুক্তির প্রতিবাদে রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভও হয়েছে।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘর্ষ বন্ধের লক্ষ্যে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই রূপরেখা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ এতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি প্রসঙ্গে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, বৈরিতার স্থায়ী অবসান, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজভূমিতে প্রত্যাবর্তন এবং দুই দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, যাতে উভয় দেশের জনগণ নিরাপদে বসবাস করতে পারে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দেশটির কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়। এর আগেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনোটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শু/সবা