3:49 pm, Sunday, 28 June 2026

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দেশটির সামরিক স্থাপনায় নতুন হামলার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হলে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

শনিবার (২৭ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্প লেখেন, “আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজগুলো এইমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে অভিযান শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে শনিবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, শুক্রবার পানামার পতাকাবাহী প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার একটি ৩৫ সেকেন্ডের আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেলেও সেটি কিছুটা ঝাপসা ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান সংঘাত শুরু হয়। এর মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটন ও তেহরান একাধিকবার একে অপরকে দায়ী করেছে। সর্বশেষ হামলা ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 + 17 =

About Author Information

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার ৪৮৬ শিক্ষক পদ শূন্য: শিক্ষামন্ত্রী

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Update Time : ০২:১১:১৫ pm, Sunday, ২৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দেশটির সামরিক স্থাপনায় নতুন হামলার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য হলে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’

শনিবার (২৭ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্প লেখেন, “আবারও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করায় যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজগুলো এইমাত্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়েছে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা অত্যন্ত সফলভাবে যে অভিযান শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তবে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে শনিবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, শুক্রবার পানামার পতাকাবাহী প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্যাংকারে ইরান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার একটি ৩৫ সেকেন্ডের আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেলেও সেটি কিছুটা ঝাপসা ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান সংঘাত শুরু হয়। এর মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটন ও তেহরান একাধিকবার একে অপরকে দায়ী করেছে। সর্বশেষ হামলা ও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

শু/সবা